রাজস্থানের মন্ত্রী শান্তি ধারিওয়াল বলেন, ‘আপনারা বলতে পারেন বাল্য বিবাহকে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু সংশোধনীতে কোথাও কি বলা আছে যে বাল্য বিবাহকে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে? ম্যারেজ সার্টিফিকেট একটি বৈধ কাগজ যেটি ছাড়া একজন বিধবা সরকারি সহায়তাটুকুও পাবেন না।’
রাজস্থানে বাল্য বিবাহও রেজিস্ট্রেশন করতে হবে, বিল পাশ, এটা কি স্বীকৃতিদানের চেষ্টা ?
গত ১৮ই সেপ্টেম্বর রাজস্থানে বাল্য বিবাহ রেজিস্ট্রেশনের জন্য বিল পাশ করল অশোক গেহলট সরকার।
নয়া বিলে বলা হয়েছে বাল্য বিবাহের ক্ষেত্রে বিয়ের ৩০ দিনের মধ্যে তাদের বাবা মা বা অভিভাবককে বিবাহ সম্পর্কে তথ্য় দিতে হবে। তবে কি বাল্য বিবাহকে স্বীকৃতি দিচ্ছে বিধানসভা?
সরকারের বক্তব্য না, বাল্য বিবাহের
কোনো স্বীকৃতির কথা বিলে নেই। কিন্তু বাল্য বিবাহ রেজিস্ট্রার করা না থাকলে সেই মেয়েটা বিধবা হলে সরকারি সাহায্য থেকে বঞ্চিত হবে। যদিও ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে এই কুৎসিত প্রথা এখনো রাজস্থানের বিভিন্ন গ্রামে চলে। এই সামন্ততান্ত্রিক প্রথার কাছে কি সরকার নত হল?
সমস্ত বিবাহকেই নিবন্ধিকরণ করার ব্যাপারে বিল পাশ হয়েছে রাজস্থানে। এদিকে তাৎপর্যপূর্ণভাবে বাল্য বিবাহকেও তার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই ঘটনার তীব্র বিরোধিতা করে বিধানসভা থেকে ওয়াক আউট করেন বিরোধীরা। Rajasthan Compulsory Registration of Marriages (Amendment) Bill 2021 পাশ হয়েছে রাজস্থান বিধানসভায়। ২০০৯ সালের আইনকে সংশোধন করে এই নয়া বিল পাশ হয়েছে। এই পর্যন্ত কারোর কোনও আপত্তি ছিল না। কিন্তু এই নয়া বিলে বলা হয়েছে বাল্য বিবাহের ক্ষেত্রে বিয়ের ৩০ দিনের মধ্যে তাদের বাবা মা বা অভিভাবককে বিবাহ সম্পর্কে তথ্য় দিতে হবে। এনিয়েই আপত্তি তুলেছেন বিরোধী বিধায়করা।
এদিকে বিজেপি বিধায়করা এই বিল প্রত্যাহারের দাবি তুলে ওয়াকআউট করেন। চাইল্ড ম্যারেজের যৌক্তিকতা নিয়েই প্রশ্ন তোলেন তাঁরা। তবে শাসকদল কংগ্রেসের দাবি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশেই তারা এই বিল এনেছেন। বিজেপি বিধায়ক অশোক লাহোটি বলেন, 'এই বিল যদি পাশ হয় তবে এটা কালো দিন হিসাবে বিবেচ্য হবে। তবে কি বাল্য বিবাহকে স্বীকৃতি দিচ্ছে বিধানসভা?
যদিও এর আগে বিজেপি পরিচালিত সরকার এই বিষয়ে তখন যথেষ্ট বিরোধীতা দেখায় নি।
রাজস্থানের মন্ত্রী শান্তি ধারিওয়াল বলেন, ‘আপনারা বলতে পারেন বাল্য বিবাহকে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু সংশোধনীতে কোথাও কি বলা আছে যে বাল্য বিবাহকে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে? ম্যারেজ সার্টিফিকেট একটি বৈধ কাগজ যেটি ছাড়া একজন বিধবা সরকারি সহায়তাটুকুও পাবেন না।’
তবে চারিদিকে বিক্ষোভের খবর পাওয়া যাচ্ছে।
We hate spam as much as you do