শিল্পীকে সোমবার কেন্দ্রের তরফে ফোন করা হয়। বর্তমানে তিনি শারীরিকভাবে অত্যন্ত অসুস্থ। কোনওরকমে টেলিফোনে কথা বলেন। এই প্রসঙ্গে সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় সংবাদমাধ্যমের কাছে জানিয়েছেন, ফোনের ওপ্রান্ত থেকে গায়িকাকে হিন্দিতে বলা হয়, আগামিকাল আপনাকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করতে চাই। আপনি যদি নেন, তাহলে তালিকায় অন্যান্য পদ্ম-পুরস্কার প্রাপকদের সঙ্গে আপনার নামও ঢুকিয়ে দেওয়া হবে। এহেন কথা শুনে গায়িকা প্রথমটায় হতবাক হয়ে যান
প্রবাদপ্রতিম সঙ্গীত শিল্পী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় পদ্মশ্রী পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করলেন, বললেন আমার শ্রোতারাই আমার পুরষ্কার
সঙ্গীতের পিছনে গোটা জীবন ব্যয় করে গান গেয়েছেন একাধিক ভাষায়। অথচ সুর সাগরে এতকাল অবগাহন করার পরও যথাযথ সম্মান পাওয়ার যোগ্য মনে করা হয়নি তাকে। তাই ভারতের চতুর্থ সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান ‘পদ্মশ্রী’ পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করলেন প্রবাদপ্রতিম সঙ্গীত শিল্পী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় (৯০)।
গত মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) ‘পদ্মশ্রী’ প্রাপকদের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। তাতে গীতশ্রী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের নাম রয়েছে। তালিকা প্রকাশের পর এ দিন শিল্পীর লেক গার্ডেন্সের বাড়িতে ফোন আসে দিল্লির তরফে। ‘পদ্মশ্রী’ সম্মানে তাকে সম্মানিত করা হচ্ছে বলে জানানো হয়। কিন্তু অপর প্রান্তে থাকা ব্যক্তিকে শিল্পী সরাসরি জানিয়ে দেন যে, তিনি ‘পদ্মশ্রী’ প্রত্যাখ্যান করছেন। এই সম্মান নিতে অপারগ তিনি।
শিল্পীকে সোমবার কেন্দ্রের তরফে ফোন করা হয়। বর্তমানে তিনি শারীরিকভাবে অত্যন্ত অসুস্থ। কোনওরকমে টেলিফোনে কথা বলেন। এই প্রসঙ্গে সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় সংবাদমাধ্যমের কাছে জানিয়েছেন, ফোনের ওপ্রান্ত থেকে গায়িকাকে হিন্দিতে বলা হয়, আগামিকাল আপনাকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করতে চাই। আপনি যদি নেন, তাহলে তালিকায় অন্যান্য পদ্ম-পুরস্কার প্রাপকদের সঙ্গে আপনার নামও ঢুকিয়ে দেওয়া হবে। এহেন কথা শুনে গায়িকা প্রথমটায় হতবাক হয়ে যান। তাঁর ভাষায়, পদ্ম-সম্মানে ভূষিত করার এটাও কোনও কায়দা হয়ে পারে বলে জানা ছিল না। শুধু তাই নয়, তাঁর সমসাময়িকরা যেখানে যোগ্য কারণেই কেউ ভারতরত্ন, কেউ পদ্মবিভূষণ, নিদেনপক্ষে পদ্মভূষণ, সেখানে তিনি কিনা পদ্মশ্রী! সন্ধ্যার আরও খারাপ লেগেছিল শেষমুহূর্তে এমন প্রস্তাবের ধরনে। তৎক্ষণাৎ জানিয়ে দেন, এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করছেন। দিল্লির আমলাকে বলেন, ‘একটা কথা জেনে রাখুন। আমার শ্রোতারাই আমার পুরস্কার।’ অভিমানী সন্ধ্যা বলছেন, ‘নব্বই বছর বয়সে এভাবে অপমান করল? এ
শিল্পীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বয়স ৯০ পেরিয়েছে সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের। ১২ বছর বয়স থেকে গান গাইছেন তিনি। সঙ্গীতের পিছনে জীবনের ৭৫টি বছর উৎসর্গ করে দিয়েছেন। অথচ এতদিনেও তার মতো সঙ্গীতজ্ঞকে সম্মানের যোগ্য বলে মনে হয়নি। বরং তার চেয়ে কম বয়সের শিল্পীদের সম্মান জানানো হয়েছে। তাতেই মর্যাদাপূর্ণ ‘পদ্মশ্রী’ প্রত্যাখ্যান করেছেন শিল্পী।
বাংলা সঙ্গীতজগতের উল্লেখযোগ্য নাম সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়। হেমন্ত মুখোপাধ্যায় এবং তার জুটি বহু বছর বাঙালির মন জুড়ে ছিল। এক সময় মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের কণ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন তিনি। ২০১১ সালে সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়কে ‘বঙ্গ বিভূষণ’ সম্মানে সম্মানিত করে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। ১৯৭০ সালে ‘নিশিপদ্ম’ এবং ‘জয় জয়ন্তী’ ছবিতে গানের জন্য জাতীয় পুরস্কারও পান তিনি।
We hate spam as much as you do