Tranding

05:13 PM - 04 Feb 2026

Home / Entertainment / রাজ্য সঙ্গীতে রবি গানের লিরিক্স বদলে রাজ‍্যজুড়ে প্রতিবাদে লেখক শিল্পী

রাজ্য সঙ্গীতে রবি গানের লিরিক্স বদলে রাজ‍্যজুড়ে প্রতিবাদে লেখক শিল্পী

১৯০৫ সালে ব্রিটিশের বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের বিরোধিতা করে প্রতিবাদ হিসেবে রবি ঠাকুর এই গানটি লিখেছিলেন। সেটার ঐতিহাসিক গুরুত্বের কথা মাথায় রেখে এটিকে রাজ্য সঙ্গীতের তকমা দেওয়া হয়। তবে এদিন ‘বাঙালির পণ বাঙালির আশা, বাঙালির প্রাণ বাঙালির ভাষা’ জায়গাটিতে ‘বাঙালি’র জায়গায় ‘বাংলা’ গাওয়া হয়। এভাবে রবি গানকে বিকৃত করায় অনেকেই বিরক্ত হয়েছেন। তাঁরা এভাবে লিরিক্স বদলানোয় আপত্তি জানিয়ে বলেন সেটাকে অবিকৃত রাখার কথা।

রাজ্য সঙ্গীতে রবি গানের লিরিক্স বদলে রাজ‍্যজুড়ে প্রতিবাদে লেখক শিল্পী

রাজ্য সঙ্গীতে রবি গানের লিরিক্স বদলে রাজ‍্যজুড়ে প্রতিবাদে লেখক শিল্পী
 
09 Dec 2023, 


বদলে দেওয়া হল রবি ঠাকুরের লিখে যাওয়া গানের কথা। বাংলার রাজ্য সঙ্গীতের লিরিক্সে বড়সড় বদল আনা হল। পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সঙ্গীত হল রবি ঠাকুরের লেখা স্বদেশ পর্যায়ের গান ‘বাংলার মাটি বাংলার জল’। এবার সেই গানের একটি লাইন ‘বাঙালির পণ বাঙালির আশা’কে বদলে ‘বাংলার পণ, বাংলার আশা’ করে দেওয়া হল। আর সেটা দেখে শুনে অনেকেই বেজায় বিরক্ত হয়েছেন। করেছেন বিরোধিতাও।
গণতান্ত্রিক লেখক শিল্পী সংঘের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি জারি করে অধ্যাপক পবিত্র সরকার এবং সাধারণ সম্পাদক রজত বন্দ্যোপাধ্যায় জানান এর ফলে রবীন্দ্রনাথকে অসম্মান করা হয়েছে । এই গানে দুই বাংলার যে সম্প্রীতি মিলন এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে সেই চিন্তাকে নষ্ট করা হয়েছে। আশ্চর্য প্রকাশ করে এই বিবৃতিতে বলা হয়েছে সরকার অনুগত বিভিন্ন শিল্পী সাহিত্যিকরা চাটুকারিতার উদাহরণ দিচ্ছেন।

রবি ঠাকুরের লেখা গান যে কেবল আমাদের বা বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত সেটা নয়, পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সঙ্গীতও তাঁরই গান। বাংলার মাটি বাংলার জল এই রাজ্যের রাজ্য সঙ্গীত। এবার তার লিরিক্স বদলানো হল।


৫ ডিসেম্বর নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় ২৯ তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। সেখানে এদিন উপস্থিত দর্শকদের উঠে দাঁড়াতে বলা হয় রাজ্য সঙ্গীতের জন্য। গাওয়া হয় রবি গান ‘বাংলার মাটি বাংলার জল’। তখন অনেকেই খেয়াল করেননি যে এই গানের আসল যে লিরিক্স সেটা বদল কর হয়েছে। পরে যখন সেটার ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায় তখন অনেকেই লক্ষ্য করেন সেটা এবং প্রতিবাদ করেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন এই বিষয়ে। এমনকি কেউ কেউ তো সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফেসবুক পেজে গিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন এভাবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা লিরিক্স বদলানোর জন্য।


এদিন কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইমন চক্রবর্তী, অদিতি মুন্সি, ইন্দ্রনীল সেন, শ্রীরাধা বন্দ্যোপাধ্যায়, মনোময় ভট্টাচার্য, রূপঙ্কর বাগচীর সঙ্গে গান গান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।

 

১৯০৫ সালে ব্রিটিশের বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের বিরোধিতা করে প্রতিবাদ হিসেবে রবি ঠাকুর এই গানটি লিখেছিলেন। সেটার ঐতিহাসিক গুরুত্বের কথা মাথায় রেখে এটিকে রাজ্য সঙ্গীতের তকমা দেওয়া হয়। তবে এদিন ‘বাঙালির পণ বাঙালির আশা, বাঙালির প্রাণ বাঙালির ভাষা’ জায়গাটিতে ‘বাঙালি’র জায়গায় ‘বাংলা’ গাওয়া হয়। এভাবে রবি গানকে বিকৃত করায় অনেকেই বিরক্ত হয়েছেন। তাঁরা এভাবে লিরিক্স বদলানোয় আপত্তি জানিয়ে বলেন সেটাকে অবিকৃত রাখার কথা।


এই বিষয়ে আনন্দবাজারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অর্থনীতিবিদ সৌরিন ভট্টাচার্য বলেন, 'গানের কথা এভাবে পাল্টে দিলে সেটা আর রবীন্দ্র সঙ্গীত থাকে না।' একই মত নাট্যব্যক্তিত্ব রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্তর। তাঁর কথায়, 'কিছু বলার নেই। তবে যা হচ্ছে তাতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কিছু হয় আসে না, সরকারেরও কিছু যায় আসে না। আসলে মনে হয় কারও কিছু যায় আসে না।'

Your Opinion

We hate spam as much as you do