এবার নতুন করে বিপর্যয়ের মুখে পুণ্যার্থীরা। আরও চাপে পড়ল যোগী সরকার। ১৫ ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ শনিবার নয়াদিল্লি রেলওয়ে স্টেশনে ঘটে পদপিষ্টের ঘটনা। দুটি বিলম্বিত ট্রেন এবং মহাকুম্ভগামী একটি বিশেষ এক্সপ্রেস ট্রেনের কারণে যাত্রীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। পদপিষ্টের ঘটনা ঘটে। প্রাণ যায়, ১১ জন মহিলা এবং ৫ শিশু সহ কমপক্ষে ১৮ জনের। যাদের মধ্যে কেউ কেউ কুম্ভ থেকে স্নান সেরে ফিরছিলেন, কেউ আবার কুম্ভের দিকে যাচ্ছিলেন পুণ্যস্নানের জন্য
মৃত্যুপুরী নয়াদিল্লি স্টেশন! কুম্ভগামীদের পদপিষ্টে মৃত ১৮ জন যাত্রী
February 16, 2025
শনিবার রাতে নয়া দিল্লি রেল স্টেশনে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। মহাকুম্ভে রওনা হওয়ার জন্য হুড়োহুড়িতে পদপিষ্ট হয়ে দুর্ঘটনা। দিল্লি পুলিশ সূত্রে রবিবার সকালের শেষ পাওয়া আপডেট অনুযায়ী, মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা।
জানা গিয়েছে, মৃতদের মধ্যে রয়েছেন নয় জন মহিলা, পাঁচ জন শিশু ও চার জন পুরুষ। এর মধ্যে রাতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছে ১৫ জনের। পরে বাকি তিনজনের মৃত্যু হয় হাসপাতালে।
১৩ জানুয়ারি থেকে উত্তর প্রদেশের প্রয়াগরাজে শুরু হয়েছে কুম্ভ মেলা। দেশ-বিদেশের নানা প্রান্তের মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন পুন্য স্নানের উদ্দেশ্যে। শুরু থেকেই বেশ কয়েকবার দুর্ঘটনা ঘটেছে কুম্ভ মেলায়। ১৯ জানুয়ারি প্রথমে সিলিন্ডার ব্লাস্ট করে আগুন লাগে মহাকুম্ভে। ২৯ জানুয়ারি পদপিষ্টের ঘটনায় প্রাণ যায় ৩০ জনের। ৩০ তারিখ ফের অগ্নিকান্ড, পুড়ে যায় ১৫ টি তাঁবু। ৪ ফেব্রুয়ারি হট এয়ার বেলুন ফেটে দুর্ঘটনা ঘটে। ৭ ফেব্রুয়ারি ফের অগ্নিকান্ড। এমনকি মহাকুম্ভে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে বহু পুণ্যার্থীর। ট্রেনে ভিড় এবং রাস্তায় যানজট। ভিড়ের মধ্যেও মহাকুম্ভে যেতে না পেরে যাত্রীদের ট্রেনের জানালা ভেঙে ফেলার ঘটনা সামনে আসে।
এবার নতুন করে বিপর্যয়ের মুখে পুণ্যার্থীরা। আরও চাপে পড়ল যোগী সরকার। ১৫ ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ শনিবার নয়াদিল্লি রেলওয়ে স্টেশনে ঘটে পদপিষ্টের ঘটনা। দুটি বিলম্বিত ট্রেন এবং মহাকুম্ভগামী একটি বিশেষ এক্সপ্রেস ট্রেনের কারণে যাত্রীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। পদপিষ্টের ঘটনা ঘটে। প্রাণ যায়, ১১ জন মহিলা এবং ৫ শিশু সহ কমপক্ষে ১৮ জনের। যাদের মধ্যে কেউ কেউ কুম্ভ থেকে স্নান সেরে ফিরছিলেন, কেউ আবার কুম্ভের দিকে যাচ্ছিলেন পুণ্যস্নানের জন্য। দিল্লি পুলিশের মৃতদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে –
১.আহা দেবী (৭৯, বক্সার, বিহার)।
২.পিঙ্কি দেবী (৪১, সঙ্গম বিহার, দিল্লি)।
৩.শীলা দেবী (৫০, সরিতা বিহার, দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লি)।
৪.ব্যোম (২৫, বাওয়ানা, উত্তর-পশ্চিম দিল্লি)।
৫.পুনম দেবী (৪০, সারণ, বিহার)।
৬.ললিতা দেবী (৩৫, পটনা, বিহার)।
৭.সুরুচি (১১, মুজফ্ফরপুর, বিহার) ।
৮.কৃষ্ণা দেবী (৪০, সমস্তিপুর, বিহার)।
৯.বিজয় শাহ (১৫, সমস্তিপুর, বিহার)।
১০.নীরজ (১২, বৈশালী, বিহার)।
১১.শান্তি দেবী (৪০, নওয়াদা, বিহার)।
১২.পূজা কুমার (৮, নওয়াদা, বিহার)।
১৩.সঙ্গীতা মালিক (৩৪, ভিওয়ানি, হরিয়ানা)।
১৪.পুনম (৩৪, মহাবীর এনক্লেভ, দিল্লি)।
১৫.মমতা ঝা (৪০, নাঙ্গলোই, পশ্চিম দিল্লি)।
১৬.রিয়া সিংহ (৭, সাগরপুর, দিল্লি)।
১৭.বেবি কুমারী (২৪, বিজওয়াসন, দিল্লি)।
১৮.মনোজ (৪৭, নাঙ্গলোই, পশ্চিম দিল্লি)।
দিল্লি পুলিশের তরফে জানান হয়েছে, ”নতুন দিল্লি রেলওয়ে স্টেশনে পদপিষ্টের ঘটনা। দুটি ট্রেনের নাম ‘প্রয়াগরাজ’ দিয়ে শুরু হওয়ায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়। প্রয়াগরাজ স্পেশাল ট্রেন ১৬ নম্বর প্ল্যাটফর্মে পৌঁছানোর ঘোষণা বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে, কারণ প্রয়াগরাজ এক্সপ্রেস সেই সময় ১৪ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ছিল। যারা ১৪ নম্বর প্ল্যাটফর্মে তাদের ট্রেনে পৌঁছাতে পারেননি তারা ভেবেছিলেন তাদের ট্রেন ১৬ নম্বর প্ল্যাটফর্মে আসছে, যার ফলে পদদলিত হয়ে পড়েন। এছাড়াও, প্রয়াগরাজগামী ৪টি ট্রেনের মধ্যে ৩টি দেরিতে চলছিল, যার ফলে অপ্রত্যাশিত যানজট তৈরি হয়েছে।”
কর্মকর্তার মতে, নয়াদিল্লি রেলওয়ে স্টেশনের ১৩ এবং ১৪ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ইতিমধ্যেই ভিড় ছিল কারণ অনেক লোক দুটি ট্রেনে ওঠার জন্য অপেক্ষা করছিল – মগধ এক্সপ্রেস এবং জম্মু অভিমুখী আরেকটি ট্রেন – যেগুলি বিলম্বিত হয়েছিল। এর মধ্যে, মহাকুম্ভের জন্য একটি বিশেষ ট্রেন, প্রয়াগরাজ এক্সপ্রেস, রাত ১০:১০ টায় ১৪ নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। প্রয়াগরাজের ট্রেনের সময় ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে প্ল্যাটফর্মে আরও বেশি লোক জড়ো হতে শুরু করে, যা বিদ্যমান ভিড়কে আরও বাড়িয়ে তোলে। এই সময়ের মধ্যে, মহাকুম্ভে যাওয়ার জন্য যাত্রীরা এক হাজারেরও বেশি সাধারণ টিকিট কিনেছিলেন। আরও জানান হয়, ”ট্রেন বাতিল করা হয়নি, এবং প্ল্যাটফর্ম পরিবর্তন করা হয়নি। সমস্ত ট্রেন তার সময়সূচী অনুসারে চলছে।”
প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেছেন, প্রয়াগরাজ এক্সপ্রেস অন্য প্ল্যাটফর্মে আসতে চলেছে বলে গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এরপরেই হুড়োহুড়ি লেগে যায়।তবে রেল কর্তৃপক্ষ বারবার তা অস্বীকার করেছে। উত্তর রেলওয়ের সিপিআরও হিমাংশু শেখর উপাধ্যায় জানান, স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে এমনিতেই প্রচুর ভিড় ছিল। অচপমকে একজন যাত্রী সিঁড়িতে পিছলে পড়ে যান, যার ফলে প্রাণঘাতী পদদলিতের ঘটনা ঘটে ।
ইতিমধ্যেই মৃতদের পরিবার পিছু ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছে প্রশাসন। পাশাপাশি গুরুতর আহতদের আড়াই লক্ষ এবং সামান্য আহতের ১ লক্ষ টাকা দেওয়া কথা বলা হয়েছে। ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে রেলমন্ত্রক। ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্তে রেলওয়ে দুই সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটিও গঠন করেছে। কমিটিতে রয়েছেন, উত্তর রেলওয়ের প্রিন্সিপাল চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার নরসিংহ দেও এবং উত্তর রেলওয়ের প্রিন্সিপাল চিফ সিকিউরিটি কমিশনার পঙ্কজ গাংওয়ার, এমটাই সূত্রের খবর। তদন্ত কমিটি নয়াদিল্লি রেলওয়ে স্টেশনের সমস্ত ভিডিও ফুটেজ সুরক্ষিত করার নির্দেশ দিয়েছে।
We hate spam as much as you do