আহমেদাবাদে ফের ব্যাটিং ভরাডুবি। ইংল্যান্ডের এক পেসারের দুরন্ত বোলিং। আর জনি বেয়ারস্টোর মারকুটে ইনিংস। নির্যাসে যা দাঁড়ায়, ভারত আরও একবার হেরে বসল ম্যাচ। টি-টোয়েন্টি সিরিজ ২-১ এগিয়ে গেল ইংল্যান্ড। বিরাট কোহলির চমৎকার নট আউট ৭৭ রানের অসাধারণ ইনিংস টিমকে দাঁড় করাতে পারল না।
ভারত ১৫৬-৬ (২০ ওভারে)
ইংল্যান্ড ১৫৮-২ (১৮.২ ওভারে) বিরাটের দুর্ধর্ষ ব্যাটিং এর পরও ভারতের হার T20I তৃতীয় ম্যাচে
আহমেদাবাদে ফের ব্যাটিং ভরাডুবি। ইংল্যান্ডের এক পেসারের দুরন্ত বোলিং। আর জনি বেয়ারস্টোর মারকুটে ইনিংস। নির্যাসে যা দাঁড়ায়, ভারত আরও একবার হেরে বসল ম্যাচ। টি-টোয়েন্টি সিরিজ ২-১ এগিয়ে গেল ইংল্যান্ড। বিরাট কোহলির চমৎকার নট আউট ৭৭ রানের অসাধারণ ইনিংস টিমকে দাঁড় করাতে পারল না।
প্রথম ম্যাচে ভারত শুরুতে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং ভরাডুবির মুখে পড়েছিল। এই ম্যাচেও তাই হয়েছিল। বিরাটকে বাদ দিলে আর কেউই দাঁড়াতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ১৫৬-৬ তোলে ভারত। ১০ বল বাকি থাকতে ৮ উইকেটে ম্যাচ জিতে যায় ইংল্যান্ড (১৫৮-২)। ম্যাচের পর বিরাট বলেছেন, “আমার ইনিংস দলকে সাহায্য করলে খুশি হই। জিততে পারলে আরও ভালো লাগত। আমরা ওদের মত বড় পার্টনারশিপ করতে পারিনি। সেটাই আমাদের রানটা ১৫৬-এ আটকে দিল। হার্দিকের সঙ্গে শেষ জুটিতে বড় রান তুললেও, প্রথম দিকে আমরা পরপর উইকেট হারানোর জন্য ভুগতে হয়েছে।”
ভারতকে ভাঙার কাজটা শুরুতেই করেছিলেন ইংলিশ পেসার মার্ক উড। লোকেশ রাহুলকে এই ম্যাচে রোহিত শর্মার সঙ্গে ওপেন করতে পাঠালেও তিনি ব্যর্থ হন। উডের বলে ০ রানে বোল্ড হয়ে যান। পর পরই ১৭ বলে ১৫ করে জোফ্রা আর্চারের বলে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান রোহিত শর্মা। আগের ম্যাচে চমৎকার হাফ সেঞ্চুরি করা ঈশান কিষাণও (৪) ব্যর্থ। বিরাট এক দিকে মারমুখী ব্যাটিং করলেও উল্টো দিকে কার্যত কেউই সাহায্য করতে পারেননি। ঋষভ পন্থ শুরুটা ভালোই করেছিলেন। কিন্তু অকারণে রান আউট হন ২৫ রান করে। শ্রেয়স আয়ার (৯), হার্দিক পান্ডিয়ারাও (১৭) বড় রান করতে পারেননি। উড সব মিলিয়ে ৩ উইকেট নেন। কঅরিস জর্ডন নিয়েছেন ২ উইকেট। পিচ নিয়ে বিরাটের মন্তব্য, “আজকের পিচ বেশ শক্ত ছিল। ইংল্যান্ডের বোলাররা ওদের গতিকে কাজে লাগিয়েছে।”
আজকের ম্যাচটা মর্গ্যানের কাছে স্মরণীয়। টি-২০ কেরিয়ারের ১০০তম ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন তিনি। ম্যাচের আগে বাটলারের হাত থেকে ১০০তম ম্যাচের জন্য ক্যাপ নেওয়ার সময় চোখে জল চলে এসেছিল তাঁর। এমনটাই জানালেন অধিনায়ক। শেষ পর্যন্ত নিজের রেকর্ড ১০০তম ম্যাচে ব্যাট হাতে নামতে হয়নি তাঁকে। ৮ উইকেটে জয় তুলে নিয়েছে তাঁর দল।
রান তাড়া করতে নেমে শুরুতে জেসনকে (৯) হারালেও বাটলার থামানো যায়নি। ৫২ বলে নট আউট ৮৩ করেন তিনি। মেরেছেন ৫টা চার ও ৪টে ছয়। উল্টো দিকে তাঁকে সঙ্গ দেন জনি বেয়ারস্টো। ২৮ বলে ৪০ রান করেন তিনি। প্রথম ম্যাচে যেমন হয়েছিল, এই ম্যাচেও সেই একই ঘটনা। ভারতীয় স্পিনাররা সেই অর্থে ছাপই রাখতে পারেননি। যুজবেন্দ্র চাহাল ৪ ওভারে ৪১ রান দিয়েছেন। নিয়েছেন শুধু রয়ের উইকেট। ওয়াশিংটন সুন্দর অবশ্য ভালো বোলিং করেছেন। ৪ ওভারে ২৬ রান দিয়ে ঝুলিতে ডেভিড মালান (১৮)।
ম্যাচের শেষে মর্গ্যান বলেছেন, “আদিল আজ ভালো শুরু করেছিল। তারপর যখন পেসাররা আসতে শুরু করল, তখন দেখলাম আমরা আরও সাহায্য পাচ্ছি। ম্যাচের প্রথমার্ধ আমাদের নিয়ন্ত্রনেই ছিল বলতে হবে।” উইকেট নিয়ে মর্গ্যানের মন্তব্য, “পুরো ম্যাচ জুড়ে একইরকম উইকেট ছিল। প্রথম দিকে উইকেট হারালে চাপে পড়তেই হয়।” জস বাটলারের ৮৩ রানের অপরাজিত ইনিংসের ব্যাপারে বলেছেন, “জস বিশ্বমানের প্লেয়ার। ও আমাদের দলের দুর্দান্ত প্লেয়ার। ও নিজের সেরাটা দিয়ে দলকে এগিয়ে নিয়ে যায়।”
বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে পুরো টিমকেই দেখে নিতে চাইছেন বিরাটরা। ঈশানের মতো প্লেয়াররা যে কারণে সুযোগ পাচ্ছেন, এবং নিজেদের মেলেও ধরছেন। কিন্তু কুড়ি-বিশের ক্রিকেটে ভারত আগে ব্যাট করতে নেমে অনেকবার ভরাডুবির মুখে পড়েছে। অতীতেও যেমন হয়েছে, এই সিরিজেও পর পর দু’বার একই ঘটনা ঘটল। যা কিছুটা হলেও চাপে রাখছে টিম ম্যানেজমেন্টকে।
এখন এই সিরিজে পরের ম্যাচে সমতা ফিরিয়ে আনাই বিরাটের লক্ষ । সুতরাং এর পর থেকে আগে ব্যাট করলে আরও দ্রুত রান বাড়ানোর লক্ষ্যে এগোতে হবে , এইরকমই পরিকল্পনা আপাতত।
We hate spam as much as you do