Tranding

04:32 PM - 22 Mar 2026

Home / Politics / নবান্নের দুর্নীতি দুষ্কৃতীরাজ থেকে ছাপান্ন ইঞ্চি মানুষকে বাঁচাবে না- সেলিম বললেন

নবান্নের দুর্নীতি দুষ্কৃতীরাজ থেকে ছাপান্ন ইঞ্চি মানুষকে বাঁচাবে না- সেলিম বললেন

বামফ্রন্ট অথবা তাদের সহযোগীরা অথবা তাদের সমর্থিতরা লড়ছেন, কাজেই সব বুথে ভোট হবে। এতেই তৃণমূল বিজেপি’র বুক ধড়ফড় করছে। তাই রাজনীতিতে বামপন্থীদের স্বাধীন পরিসর চাপা দিতে মিথ্যা প্রচার করছে। পাটনার বৈঠক দেখিয়ে একদল প্রচার করছে যে তৃণমূলের সঙ্গে বামেদের জোট হয়ে গেছে, আরেকদল রাম-বাম জোট বলে বিজেপি’র মিছিলে লাল ঝান্ডা খুঁজছে। গণশক্তি পত্রিকার সংবাদকেও বিকৃত করে ফেক নিউজ প্রচার করা হয়েছে সোশাল মিডিয়াতে।

নবান্নের দুর্নীতি দুষ্কৃতীরাজ থেকে ছাপান্ন ইঞ্চি মানুষকে বাঁচাবে না- সেলিম বললেন

নবান্নের দুর্নীতি দুষ্কৃতীরাজ থেকে ছাপান্ন ইঞ্চি মানুষকে বাঁচাবে না- সেলিম বললেন


29 Jun 2023, 


পঞ্চায়েতে প্রতিটি বুথে তৃণমূল-বিজেপির বিরুদ্ধে বাম জোটের প্রার্থীরা লড়াই করবে বলে জানালেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। রাজ্যে ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েতে মোট ৭৩৮৮৭টি আসনের মধ্যে বামফ্রন্ট ৫৩ হাজারের বেশি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। ফ্রন্ট সমস্ত আসনে প্রার্থী না দিলেও বামেদের জোট শরিক কংগ্রেস ১৭ হাজারের বেশি আসনে প্রার্থী দিয়েছে।


বামেদের আর এক জোট শরিক আইএসএফ তিন হাজারের বেশি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। বাম-কংগ্রেস এবং আইএসএফ জোট সব মিলিয়ে ৭৩ হাজারের বেশি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। এই পরিসংখ্যান মাথায় রেখেই ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েতের প্রতিটি আসনেই তৃণমূল অথবা বিজেপি বিরুদ্ধে জোটের প্রার্থী থাকছে বলে বুধবার কলকাতা প্রেস ক্লাবে মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে জানান সেলিম।


পশ্চিমবঙ্গের বুকে বামপন্থীদের পুনরুত্থান দেখে আতঙ্কিত তৃণমূল এবং বিজেপি পঞ্চায়েত নির্বাচনে মিথ্যা প্রচার করছে মিডিয়ার একাংশের সাহায্যে। বুধবার কলকাতা প্রেস ক্লাবে মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে সিপিআই(এম)’র রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম এই অভিযোগ করে বলেছেন, রাজনীতিতে বামপন্থীদের কোনও স্বাধীন পরিসর দিতে চাইছে না তৃণমূল এবং বিজেপি। সেই জন্যই বিজেপি’র আইটি সেল ফেক প্রচার করছে তৃণমূল এবং বামেদের জোট হয়েছে বলে। আর মমতা ব্যানার্জির তৃণমূল প্রচার করছে রাম-বাম জোট বলে। বাস্তবে বাংলার মানুষ তৃণমূল এবং বিজেপি’র বিরুদ্ধে লাল ঝান্ডা হাতে তুলে নিয়ে এককাট্টা হচ্ছেন। বাংলার পুনরুজ্জীবনের ভবিষ্যৎ নিহিত আছে বামপন্থার এই পুনরুত্থানের মধ্যেই। 
রাজ্যের পঞ্চায়েত নির্বাচনে শাসকদল ও পুলিশের হামলা, হুমকি, মিথ্যা মামলার মোকাবিলা করে দুর্নীতিমুক্ত পঞ্চায়েত ফিরে পেতে বাংলার মানুষের লড়াইয়ের উল্লেখ করে এদিন সেলিম বলেছেন, তৃণমূল এবং বিজেপি বিরোধীদের এককাট্টা করে বামপন্থীরা লড়াই করছে। দুর্নীতি কায়েম রাখতে দুষ্কৃতী যোগের কারণে পঞ্চায়েত নির্বাচনে মনোনয়ন জমা দেওয়া এবং প্রার্থী পদে থেকে যাওয়াটাই একটা কঠিন যুদ্ধের চেহারা নিয়েছে। এরমধ্যেও আমরা বলছি, পঞ্চায়েতের তিন স্তরের প্রতিদ্বন্দ্বিতা মিলিয়ে প্রতি বুথেই ভোট হবে। বামফ্রন্ট অথবা তাদের সহযোগীরা অথবা তাদের সমর্থিতরা লড়ছেন, কাজেই সব বুথে ভোট হবে। এতেই তৃণমূল বিজেপি’র বুক ধড়ফড় করছে। তাই রাজনীতিতে বামপন্থীদের স্বাধীন পরিসর চাপা দিতে মিথ্যা প্রচার করছে। পাটনার বৈঠক দেখিয়ে একদল প্রচার করছে যে তৃণমূলের সঙ্গে বামেদের জোট হয়ে গেছে, আরেকদল রাম-বাম জোট বলে বিজেপি’র মিছিলে লাল ঝান্ডা খুঁজছে। গণশক্তি পত্রিকার সংবাদকেও বিকৃত করে ফেক নিউজ প্রচার করা হয়েছে সোশাল মিডিয়াতে। 


সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক এই পরিসংখ্যান মাথায় রেখে সমস্ত বুথে তৃণমূল অথবা বিজেপির সঙ্গে জোটের লড়াই হবে বলে দাবি করলেও তৃণমূল ইতিমধ্যে কিছু আসন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছে। কিন্তু বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হওয়া আসনের সংখ্যা ২০১৮ সালের তুলনায় নগণ্য হওয়ার কারণে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল ও কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপির বিরুদ্ধে এবার বাম-কংগ্রেস জোট জোরদার লড়াই করবে বলেও মনে করছেন সেলিম।

 

এ দিন তিনি বলেন, 'প্রতিটি বুথেই তৃণমূল ও বিজেপি কঠিন লড়াইয়ের মুখে পড়বে। সেই কারণেই এবার রাজ্যের ও কেন্দ্রের শাসক দলের উদ্বেগ বেড়েছে।' যদিও সেলিমের এই বক্তব্য খারিজ করে দিয়েছেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ শান্তনু সেন। তিনি বলেন, 'মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়ন দেখেছে, মানুষ তৃণমূলের পাশে রয়েছে। তৃণমূলের জয় নিশ্চিত।


বাম-কংগ্রেস এবারেও বিজেপির সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়েই চলছে।' পাটনা বৈঠকের পর শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদারের নেতৃত্বে বিজেপি আবার সিপিআইএম-তৃণমূল সেটিং করে চলছে বলে প্রচার শুরু করেছে। উভয় শিবিরের এই প্রচার নিয়ে সেলিম এ দিন বলেন, 'তৃণমূল-বিজেপি যে মেরুকরণ তৈরি করতে চেয়েছিল, তা ক্রমেই ভেঙে যাচ্ছে। তাই একপক্ষ রাম-বাম জোট হয়েছে বলে মিথ্যা প্রচার করছে, অন্যপক্ষ তৃণমূল-সিপিআইএম হাত মিলিয়েছে বলে মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছে। বিজেপি যে ফেক অপোজিশন, মানুষ তা বুঝে গিয়েছে।'


সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে সেলিম সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, পাটনা বৈঠকে কোনও জোটের কথা হয়নি। রাজ্যে রাজ্যে বাস্তব পরিস্থিতি অনুযায়ী বিজেপি’র ফ্যাসিবাদী আক্রমণের বিরুদ্ধে, জনজীবনের দুর্দশা নিয়ে লড়াই হবে। লোকসভা নির্বাচনের পূর্ববর্তী কোনও সর্বভারতীয় জোটের সম্ভাবনা নেই। পশ্চিমবঙ্গে বামপন্থীরা তৃণমূল এবং বিজেপি’র বিরুদ্ধে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে লড়াই করছে, ভবিষ্যতেও তাই হবে। এরাজ্যে নবান্নের দুর্নীতি দুষ্কৃতীরাজ থেকে ছাপান্ন ইঞ্চি মানুষকে বাঁচাবে না। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে যারা বিজেপি’র হয়ে জিতেছিল তারা তো তৃণমূলে চলে গেছে। তৃণমূলের জন্মের পর মমতা ব্যানার্জি নিজেই বলেছিলেন বিজেপি-কে নিয়ে মহাজোট করে বামপন্থীদের হটাবেন। আর বিজেপি যখনই বিপাকে পড়ে তখনই ঝাঁপি থেকে মমতা ব্যানার্জিকে বের করে আনেন। এখনও তারা তৃণমূলকে দিয়ে জাতীয় স্তরের বিজেপি বিরোধী শিবিরকে ভাগ করতে চাইছে। তৃণমূল এমনই একটি দল যারা সবসময়েই বিজেপি’র সম্ভাব্য সঙ্গী।


এদিকে, রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচনে শাসকদল নকল ব্যালট পেপার ব্যবহার করার চেষ্টা করতে পারে বলে আশঙ্কা ছড়িয়েছে। এই সম্পর্কে প্রশ্নের উত্তরে সেলিম বলেছেন, যে রাজ্যে জাল ওএমআর শিটে চাকরি হয়, সেই রাজ্যে জাল ব্যালটের আশঙ্কা তো আছেই। পঞ্চায়েত নির্বাচনে স্থানীয় স্তরে ব্যালট ছাপা হয়, এই কারণে আমরা সারা রাজ্যে বামপন্থী কর্মীদের সতর্ক থাকতে বলেছি। শুধু জাল ব্যালট নয়, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচনী প্রক্রিয়া যাতে বানচাল না হয় তার জন্য সব দিক থেকেই খেয়াল রাখতে হবে। গতবার ব্যালট বাক্স পুকুরে ফেলা হয়েছিল। এবার যাতে বুথ থেকে ব্যালট বাক্স ঠিক মতো স্ট্রংরুমে নিয়ে যাওয়া হয়, স্ট্রংরুমে যাতে সিসিটিভি সঠিকভাবে ব্যবহার করা হয় এগুলি নিশ্চিত করা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব, মানুষের কিন্তু নজরদারি থাকবে। পঞ্চায়েতকে লুটেরামুক্ত করতে মানুষের মেজাজ বুঝে নিয়ে রাজ্য নির্বাচন কমিশন, পুলিশ প্রশাসন কাজ করুক।

Your Opinion

We hate spam as much as you do