একদিন রাতের ট্রেনে অজ্ঞান অবস্থায় এই রেসিডেনশিয়াল কমপ্লেক্স ওনার্স অ্যাসোশিয়েশনের চেয়ারম্যান ডাক্তারবাবুর চোখে পড়েছিল। তিনিই দয়াপরবশ হয়ে কমপ্লেক্স এর কমিউনিটি সেন্টারে রিক্রিয়েশন ক্লাবরুমে ওকে আশ্রয় দিয়েছিলেন। দিনরাত সবার ফাইফরমাস খাটে।বদলে কমপ্লেক্সের বাইরের পাইস হোটেলে চারবেলা খেতে পায়।
দ্রোণাচার্য
-শর্মিষ্ঠা নাহা
( ১)
রোববারগুলো খুব খারাপ কাটে বাবর আলির। কমিউনিটি সেন্টারের একতলাটা রোববার রোববার বিয়েবাড়ি ভাড়া দেওয়া হয়। জনসেবামূলক কোনও কর্মসূচী থাকে না। দোতলার ক্লাবঘরে টিভিতে মুখ গুঁজে পড়ে থাকা ছাড়া কোনও কাজ থাকে না বাবরের। রোববার টিভিতে তেমন কিছু প্রোগ্রাম ও থাকে না।
আজ যেমন ক জন ছেলে মিলে কি একটা খেলার চ্যানেল চালিয়েছে। ন্যাশনাল জুনিয়র অ্যাথলেটিক মিট। বাধ্য হয়ে সেটাই বসে গিলতে থাকে সে।
ইংরাজি ধারাভাষ্য তেমন বোঝে না বাবর। ঠিক বুঝতে পারছে না স্টেডিয়ামটা কোথায়। কিন্তু ঢালাও অত্যাধুনিক ব্যবস্থা। ঝকঝকে নৈশালোক, অত্যাধুনিক অ্যাস্ট্রোটার্ফ, স্টার্টিং এর গুলির আওয়াজ সব প্রতিযোগীর কানে একসঙ্গে যাওয়ার অটোমেটিক ব্যবস্থা। কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত ডিজিটাল ফিনিশিং পয়েন্ট, যেখানে প্রতিযোগীর শরীরের যে কোনও অংশ খুব আলতো করে স্পর্শ করামাত্র সে নিজে থেকে প্রতিযোগীর দৌড় শেষ হয়েছে বলে ধরে নেয়। আরও বাবরকে গোমুখ্যু জ্ঞান করে ছেলেগুলো এ সব বুঝিয়ে বুঝিয়ে বলে।
" থাউজেন্ড মিটারস রান ফর গার্লস ফাইনাল। পার্টিসিপেটস আর...." ধারাভাষ্যকার প্রতিযোগীদের নাম, সংক্ষিপ্ত বর্ণনা,
ও লেন নাম্বার বলতে থাকেন।লেন নাম্বার ওয়ান......."
"লেন নাম্বার সেভেন, রাবেয়া খাতুন ফ্রম ওয়েস্ট বেঙ্গল। স্টুডেন্ট অফ এশিয়ান গেমস গোল্ড মেডালিস্ট শ্রীময়ী সেনস' অ্যাকাডেমি, কোলকাতা।আ ভেরি প্রমিসিং ইয়ং অ্যাথলিট হু হ্যাভ কম্পোসড হার ওন লাইফ স্টোরি সোললি উইথ হার ওন ফিট। লেন নাম্বার এইট..."
আরে, আঁটোসাঁটো দামী জামা পরা, দামী জুতো পায়ে এ তো ওরই সাকরেদ রাবেয়া! নিজের অজান্তেই চোখের জলের ধারা তার লম্বা কাঁচাপাকা দাড়ি ভিজিয়ে দিতে থাকে। ঝাপসা হয়ে আসে দৃষ্টিপথ। স্টার্টিং পয়েন্টে গুলির আওয়াজ শোনা যায়। 'রাবেয়া, রাবেয়া' চিৎকারে হলঘর ফাটিয়ে ফেলতে থাকে ছেলেপিলেগুলো।
(২)
কাঁচাপাকা লম্বা চুল দাড়িওয়ালা মাজাভাঙা মাঝবয়সী লোকটাকে এখানকার সবাই আত্মবিস্মৃত, মানসিক ভারসাম্যহীন এক হতভাগ্য মানুষ বলেই জানে। তিন মাস আগে একদিন রাতের ট্রেনে অজ্ঞান অবস্থায় এই রেসিডেনশিয়াল কমপ্লেক্স ওনার্স অ্যাসোশিয়েশনের চেয়ারম্যান ডাক্তারবাবুর চোখে পড়েছিল। তিনিই দয়াপরবশ হয়ে কমপ্লেক্স এর কমিউনিটি সেন্টারে রিক্রিয়েশন ক্লাবরুমে ওকে আশ্রয় দিয়েছিলেন। দিনরাত সবার ফাইফরমাস খাটে।বদলে কমপ্লেক্সের বাইরের পাইস হোটেলে চারবেলা খেতে পায়। মাইনে করা দিনরাতের সিকিউরিটি গার্ড থাকলেও সবার ভালোমন্দের হাসিমুখে খোঁজ রাখা এই মানুষটাকে সবাই দারোয়ানজি বলে ডাকে।লোকটা, বাবর আলি কিন্তু বিন্দুমাত্র ও ভুলে যায় নি তার দগদগে অতীত।
(৩)
ছিঁচকে চুরি, ডাকাতি কিংবা কেপমারি, যে কোনও মোড়কে পরস্বাপহরণই বাবরের আবাল্যের পেশা। শুরু সেই তিন বছর আট মাস বয়সে। রাতের অন্ধকারে মস্ত বড় এক অলঙ্কার বিপণির সারাতে দেওয়া এয়ার কন্ডিশনিং মেশিনের গর্ত দিয়ে গলে গিয়ে খুব গোপন জায়গায় লুকনো ডুপ্লিকেট চাবির গোছা বের করে ফের এসির গর্ত দিয়ে ছুঁড়ে দিয়েছিল সাকরেদদের হাতে।(আগের ক দিন ভিখিরির বেশে দোকানের আশপাশে ঘুরে সব নজর করেছিল।) তারপর সদলবলে বিপণি লুঠ করে, দরজা বন্ধ করে চাবির গোছা ওই গর্ত দিয়ে ভেতরে ছুঁড়ে দেওয়া। চল্লিশ বছর আগের সেই কেসের রহস্য আজ পর্যন্ত উদ্ধার করতে পারে নি পুলিশ। ওই ছোট্ট গর্ত দিয়ে বড়জোর একটা নাদান বাচ্চা গলতে পারে। তার খুপড়িতে এত বড় শয়তানের মগজ যে থাকতে পারে, ভাবনাতেই আসে নি কারুর।
কাজ শুরু ইব্রাহিম খানের দলে। কিন্তু একটু জোয়ান হতেই নিজের দল গড়া। তেরো বছর আগে ডাস্টবিনে কুকুরের মুখ থেকে উদ্ধার করা সদ্যোজাত শিশুকন্যাকে। দলের চার নম্বর সাকরেদ বলে ( আরবীতে রাবা মানে চার।) নামকরণ রাবেয়া।
কাজই প্রাণ। মদ, মেয়েছেলে, সিনেমা, টিভি, ইন্টারনেট- কোনও নেশা নেই।বিশ্বাস ও সব নেশা প্রাণঘাতী। শুধু অল্পবয়সে একবার একটা বাঙলা সিনেমার টানে আটকা পড়ে সর্বনাশ হতে বসেছিল। স্বামী-স্ত্রী রাতে জানলা ভেজিয়ে শুয়ে সদ্য আমদানি লোকাল কেবল ট্রানসমিশনে দেখছিল সিনেমাটা। বালিশের নীচে লম্বা ঝোলা দুল আর গলার চেন খুলে রেখেছিল বৌটা। আঁকশি দিয়ে টানতে গিয়ে চোখ-কান আটকে গিয়েছিল টিভির পর্দায়। সুইমিং পুলের নীল জলে সাঁতার প্রতিযোগিতায় মরণপণ ক্ষিপ্রতায় সাঁতার কাটছে একটা মেয়ে। আর পারে তার মাস্টার চিৎকার করছে ' ফাইট, কোনি, ফাইট।' কোনি বলে মেয়েটার যুদ্ধজয় হয়ত ওদের দু জনের ওপর ঘটে যাওয়া অজস্র অন্যায় অবিচারের জবাব। মুহূর্তের অন্যমনস্কতায় একটা দুল ছিটকে পড়েছিল মাটিতে। মানুষদুটো সচেতন হয়ে চোর চোর বলে চিৎকার শুরু করেছিল। সারা পাড়া ভেঙে পড়েছিল রাস্তায়। একটা দুলের মায়া ত্যাগ করেই পালাতে হয়েছিল বাবরকে। তারপরও ইচ্ছে ছিল পুরো সিনেমাটা দেখার। দেখা আর হয়ে ওঠে নি।
একমাত্র ব্যর্থতা - এখন পর্যন্ত শেষবারের ধান্দায় একটা ছেলের পকেট থেকে ট্র্যাকার অন করা মোবাইল তুলে বেচে দেওয়ার একদিন পরে পুলিশের হাতে ধরা পড়া। ছেলেটা যে ডেপুটি পুলিশ কমিশনারের ভাইপো কি করে জানবে? যেখানে বেচেছিল, সে লোকটা পুলিশের বাটাম থেকে বাঁচতে বাবরের নামঠিকানা বলে দিয়েছিল। রাবেয়াসহ দশটা ছোট বাচ্চাকে ভাগ্যের জিম্মা করে লক আপে ঢুকেছিল বাবর। সেখান থেকে জেল, মানে সংশোধনাগার। ক মাস সেখানে সংশোধিত হতে হতেই মওকা বুঝে পালানো। ঘটনাচক্রে এই কমপ্লেক্সে এসে পড়া। যে কোনও সময় পুলিশের খপ্পরে আবার পড়বে, ভালোই জানা আছে। লক আপে পুলিশের অত্যাচারে কোমর ভেঙে গেছে।
সংশোধনাগারে গিয়ে বাবর শুনেছিল রাবেয়া খাতুন নামের বিস্ময় বালিকার কথা। বিখ্যাত প্রাক্তন অ্যাথলিট ও বর্তমানের কোচ শ্রীময়ী সেনের আবিষ্কার। কলকাতা জেলার দ্রুততমা বালিকা শিরোপা পেয়ে রাজ্য জুনিয়র অ্যাথলেটিক মিটে জেলার প্রতিনিধিত্ব করতে চলেছে। তার স্পিড সমবয়সি প্রতিযোগীদের কাছে শুধু অবিশ্বাস্য নয়, তার দৌড়নোর ভঙ্গীতেও যেন কি একটা অন্যরকম আছে। বাবরের একবার তার সাকরেদ রাবেয়ার মুখটা মনে পড়েছিল। যদি, সত্যিই এই রাবেয়া তারই রাবেয়া হত। না না, সে কি করে সম্ভব? নিজের অলীক ভাবনাকে শাসন করেছিল বাবর।
(৪)
ধান্দায় আসার আগে মনের মধ্যেকার সুখদুঃখ মন থেকে বের করে ডেরায় ফেলে আসাই ভালো। ওদের মত খতরনাক দুশমন আর হয় না। ওস্তাদ পই পই করে শিখিয়েছিল। কিন্তু সেই ওস্তাদকে পুলিশ তুলে নিয়ে গেল। মনটা খুব খারাপ ছিল রাবেয়ার।অন্যমনস্ক ছিল, তাই খেয়াল করে নি 'কুকুর হইতে সাবধান' বোর্ডটা। বারান্দার গ্রিল ঘেঁসে হাঁটুমুড়ে বসে জুতোর ফিতে বাঁধা মেয়েছেলেটার প্যান্টের পকেট থেকে উঁকি মারছিল দামী স্মার্টফোনটা। চুপিসারে তুলেও নিয়েছিল সে। তখনই পিছনের দু পায়ে লম্বা লাফ দিয়ে সামনের থাবায় গ্রিলের দরজার ছিটকিনি খুলে লাফ দিয়ে পড়েছিল দানো কুত্তা। ফোন ফেলে নাক বরাবর প্রাণপণে ছুটেছিল রাবেয়া। পেছনে রক্ত জল করা হাঁক ছেড়ে ঐ হারামি । তার পেছনে চোর চোর চিৎকার করতে করতে মেয়েছেলেটা। সঙ্গে ভোরবেলা ঘুম ভাঙা পাড়ার লোকের দল। রাবেয়ার সঙ্গে দৌড়ে মানুষগুলো তো নয়ই, ওই অত বড় হিংস্র কুকুরের ও জিভ বেরিয়ে পড়ছিল। চার পাঁচটা পাড়া টপকে শেষে বড় রাস্তায় এসে একটা চলন্ত ট্রাকের মুখোমুখি পড়ে যাওয়ায় থামতেই হল রাবেয়াকে। যেই না থামা, রাবেয়ার সালোয়ার কামড়ে ধরল কুত্তার বাচ্চা। পালাতে গেলে রাবেয়াকে সালোয়ার খুলে ফেলতে হত।
(৫)
এ তল্লাটের হেন বাড়ি নেই যেখানে গত ক মাসে কিছু না কিছু চুরি যায় নি।পুলিশকে বারবার জানানো সত্ত্বেও কিছুই হয় নি। আজ চোেরর দলের একজন হাতেনাতে ধরা পড়েছে। ব্যাটাছেলে হলে সবাই মিলে মেরে পুঁতে ফেলত। কিন্তু, একে মেয়ে, তায় কম বয়স। উল্টো কেস খাওয়ার ভয়ে লোকজন শুধু ওর দু হাত ল্যাম্পপোস্টের সঙ্গে পিছমোড়া করে বেঁধে থানায় ফোন করেছিল। চল্লিশ মিনিট দূরত্বের থানা থেকে পুলিশ এল সাড়ে চার ঘন্টা পড়ে। ততক্ষণে শ্রীময়ী সেনের ড্রাইভার এসে পড়েছেন। ওঁর অ্যাকাডেমির মাঠে আজ ইন্টার ক্লাব জুনিয়র অ্যাথলেটিক মিটের কোয়ালিফাইং রাউন্ডের দ্বিতীয় দিন। ভেবেছিলেন মর্নিং ওয়াক থেকে ফিরে ফ্রেশ হয়ে ব্রেকফাস্ট সেরে ধীরে সুস্থে বেরোবেন। সক্কালবেলা কোথা থেকে কি হয়ে গেল। টাইম ম্যানেজ করতে অভুক্ত অবস্থাতে ক্যাজুয়াল ড্রেসে পোষা ডোবারম্যান লিসাকে সঙ্গে নিয়েই রওনা হয়ে পড়লেন শ্রীময়ী।
কিছু দূর এগিয়ে শ্রীময়ী দেখতে পেলেন, বড় রাস্তায় মেয়েটাকে ছেড়ে দিয়ে রানিংয়ে বেড়িয়ে যাচ্ছে পুলিশের গাড়ি। দুম করে মাথায় এল চিন্তাটা। মেয়েটার পাশে গাড়ি থামিয়ে দরজা খুলে মেয়েটার চুল ধরে গাড়িতে তুলে নিলেন তিনি।ওই সময়ে ওই অবস্থায় শ্রীময়ীর উপস্থিতির জন্য প্রস্তুত ছিল না মেয়েটা। আর গাড়িতে ওঠার পর লিসার ভয়ে সে কেমন সিঁটিয়ে গিয়েছিল।
অত তাড়াহুড়ো করেও দেরি করে পৌঁছনো আটকাতে পারলেন না শ্রীময়ী। প্রথম ইভেন্ট শুরু হতে চলেছে। কোনওমতে রাবেয়ার নাম এন্ট্রি করে স্টার্টিং পয়েন্টে ছেড়ে দিলেন তিনি। গুড়ুম। গর্জে উঠল স্টার্টিং এর গুলি।
ইয়া আল্লাহ......অস্ফুট চিৎকার দিয়ে সোজা নাক বরাবর ছুটতে লাগল রাবেয়া। গুলির আওয়াজ কানে যেতে তার মনে পড়ে গেছে অ্যাকশন সেরে ফেরার সময় পুলিশের গুলি পায়ে লেগে একজন সঙ্গীর রেললাইনের ওপর মুখ থুবড়ে পড়া। অন্য মেয়েরা ভালো করে দৌড় শুরু করার আগেই সে ছুট্টে গিয়ে ফিনিশিং পয়েন্টের দড়ি জড়িয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়েছিল।
ইচ্ছেয় হোক বা অনিচ্ছায়, যুদ্ধক্ষেত্রে যদি তোমায় ঢুকে পড়তেই হয়, যুদ্ধ শেষ না করে সেখান থেকে ফেরার তোমার কোনও উপায় নেই। গলায় চ্যাম্পিয়নের সোনালি মেডেল পরে মাঠের এক কোণে বসে মাথা নিচু করে ওস্তাদের কথাগুলো ভাবছিল অবসন্ন রাবেয়া।
(৬)
-রাবেয়া
-ম্যাডাম
-সব সময় এত চুপচাপ, মনমরা হয়ে থাকো কেন? আমার এই ঘর তোমার কি একটুও ভালো লাগে না?
- ওস্তাদ সব সময় বলত, ঘন অন্ধকার পথে চলতে চলতে যদি কখনও এক চিলতে আলোর রেখা দেখতে পাও, সমস্ত শক্তি প্রয়োগ করে সেই আলোর দিকে এগিয়ে যাও। পেছন দিকে আর তাকিও না।
- ঠিকই তো বলত।
- তবে কেন বারবার সেই অন্ধকার জগতের দিকে মনটা বারবার ফিরে ফিরে চায়? কেন ওস্তাদের মুখটা বারবার চোখের সামনে ভেসে ওঠে?
ম্যাডাম, সে দিন আমি যে এ পাড়ায় চুরি করতে আসা বাচ্চাগুলোকে তাড়া করার অজুহাতে ওদের গার্ড দিয়ে বড় রাস্তা অবধি নিয়ে গিয়ে চলন্ত বাসে তুলে দিয়েছিলাম, সবাই কি বুঝে গিয়েছিল?
-হ্যাঁ, বেবি। কিন্তু তুমি যে ভাবে চোরাই মালগুলো ওদের কাছ থেকে উদ্ধার করেছিলে, ওদের পুলিশে দেওয়ার চেষ্টা করলে না ও হতে পারত। আইন নিজের হাতে, অনেক সময়ে বাধ্য হয়ে তুলে নিতে হয়।
- ওস্তাদ বলে যার যার নিজের যুদ্ধ নিজেকেই লড়তে হয়। কিন্তু, ওই বাচ্চাগুলো যে আমার সাকরেদ। ওদের বিপদে ঝাঁপিয়ে না পড়ে কেমন করে থাকতাম? সে দিন ওস্তাদ যদি আমায় না বাঁচাত, আমার যুদ্ধ তো জন্মের ক ঘন্টার মধ্যে শেষ হয়ে যেত। এ কথাটা ওস্তাদ ঠিক বলে না, না?
- কে জানে।
- আচ্ছা ম্যাডাম, স্পোর্টস চ্যানেলে সব খেলার শেষে চ্যাম্পিয়নদের আপনজনের ইন্টারভিউ দেখায়। আমি যদি ও রকম করতে পারি, ওস্তাদেরও ইন্টারভিউ টিভিতে দেখাবে?
-যদি ও দিতে রাজি থাকে।
- তখন ওস্তাদকে কেউ আর নালি কা কিড়া বলবে না? মিস রাবেয়া খাতুনের আপনজন বলবে?
-হ্যাঁ, বেবি। -হ্যালো, শ্রীময়ী বলছি।
হ্যাঁ স্যার, ডাটা ইনকমপ্লিট ছিল। লিখে নিন। রাবেয়া খাতুনের বাবার নাম বাবর আলি।
(৭)
দৌড় প্রায় শেষ। ৬ আর ৭, সুনীতা কুমারী আর রাবেয়া কাঁধে কাঁধে ছুটছে। হঠাৎ এ কী! রাবেয়ার পায়ে কষিয়ে এক লাথি হাঁকড়ালো সুনীতা। রাবেয়া সামলাতে না মুখ থুবড়ে পড়তে লাগল।
এ ঘোরতর অন্যায়ভাবে যুদ্ধে জেতার হীন চক্রান্ত। কিন্তু পরাজিত মানুষের কথা শোনার জন্য কোনদিন কেউ থাকে না। রাবেয়া ছিটকে পড়ে হারিয়ে যাবে
কিন্তু রাবেয়া ওই বিপদের মধ্যে মাথা ঠান্ডা রেখে প্রয়োগ করল শেষ অস্ত্র। সামনের দিকে এগিয়ে দিল তার হাতের লম্বা নখ। ধান্দার সময় যা কাজে লাগত সামনে থেকে কেউ ধরতে এলে তার মুখ আঁচড়ে দিয়ে পালাতে। বাবর টের পেল ঐ নখাগ্রের স্পর্শমাত্র পেয়ে রাবেয়াকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করার অপেক্ষা করছে ডিজিটাল ফিনিশিং পয়েন্ট।
"ফাইট রাবেয়া, ফাইট......" ভাঙা কোমরের কথা ভুলে গিয়ে রয়াল বেঙ্গল টাইগারের মত লাফ দিয়ে উঠে টাইগির হিল থেকে মন্দারমণি কাঁপানো গর্জন করে উঠল ওস্তাদ বাবর আলি।
We hate spam as much as you do