মোট ৭০০ নম্বরের পরীক্ষা হয়েছে। ৬৯৮ নম্বর পেয়ে মাধ্যমিকে প্রথম হয়েছেন উত্তর দিনাজপুরের সারদা বিদ্যামন্দিরের অভিরূপ ভদ্র। ৬৯৬ পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন বীরভূমের সরোজিনী দেবী স্মৃতিমন্দিরের প্রিয়তোষ মুখোপাধ্যায়। ৬৯৫ পেয়ে মাধ্যমিকে তৃতীয় হয়েছেন তিনজন।
মাধ্যমিকে জেলায় মেধাবীরা, শীর্ষে রায়গঞ্জের অভিরূপ, প্রথম তিনে পাঁচজন
৯ মে, ২০২৬
রাজ্যের মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয় শুক্রবার। এবারও মেধা তালিকায় আধিপত্য বজায় রেখেছে জেলার স্কুলগুলি। গত বছরের তুলনায় পাশের হার সামান্য বাড়লেও প্রথম ১০-এ থাকা ১৩১ জন প্রার্থীর একজনও কলকাতার কোনো স্কুল থেকে আসেনি।
মোট ৭০০ নম্বরের পরীক্ষা হয়েছে। ৬৯৮ নম্বর পেয়ে মাধ্যমিকে প্রথম হয়েছেন উত্তর দিনাজপুরের সারদা বিদ্যামন্দিরের অভিরূপ ভদ্র। ৬৯৬ পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন বীরভূমের সরোজিনী দেবী স্মৃতিমন্দিরের প্রিয়তোষ মুখোপাধ্যায়। ৬৯৫ পেয়ে মাধ্যমিকে তৃতীয় হয়েছেন তিনজন।
উত্তর দিনাজপুরের সারদা বিদ্যামন্দির হাইস্কুলের (রায়গঞ্জ) ছাত্র অভিরূপ ভদ্র ৭০০-র মধ্যে ৬৯৮ নম্বর পেয়ে প্রথম হয়েছে। পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় করোনায় বাবা নীলাঞ্জন ভদ্রকে হারায় সে। মা ইন্দ্রাণী চৌধুরী রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের নার্স। তিনিই অভিরূপকে বড়ো করেন। ইংরাজি বাদে বাকি সব বিষয়ে ১০০-য় ১০০ পেয়েছ ওই কৃতী পড়ুয়া। ভবিষ্যতে সে সফ্টওয়ার ইঞ্জিনিয়ার হতে চায়।
গত বছর পাশের হার ছিল ৮৬.৫৬ শতাংশ। এবার ৮৬.৮৩ শতাংশ। এবার মোট নিয়মিত পরীক্ষার্থী ছিল ৯ লক্ষ ১ হাজার ৭২৪ জন। এর মধ্যে ৭ লক্ষ ৮২ হাজার ৯৭০ জন সফল হয়েছে। উত্তীর্ণদের মধ্যে ছাত্রীদের সংখ্যা বেশি হলেও তাদের পাশের হার (৮৪.৫৪ শতাংশ) ছাত্রদের (৮৯.৫৭ শতাংশ) তুলনায় কিছুটা কম।
১৯টি জেলা থেকে মোট ১৩১ জন প্রথম ১০-এ আছেন। উত্তর দিনাজপুর থেকে ১৪ জন, বীভূম থেকে ৬ জন, দক্ষিণ ২৪ পরগণা ১১ জন, পূর্ব মেদিনীপুর থেকে ২৩ জন, বাঁকুড়া থেকে ১৪ জন, নদীয়া থেকে ৩, হুগলী থেকে ৯, কোচবিহার থেকে ৭, পুরুলিয়া থেকে ৯, মালদা থেকে ৫, মুর্শিদাবাদ থেকে ৩, পশ্চিম বর্ধমান থেকে ১ জন, জলপাইগুড়ি থেকে ১ জন, আলিপুরদুয়ার থেকে ২ জন, দক্ষিণ দিনাজপুর থেকে ৩ জন, পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে ৩ জন, পূর্ব বর্ধমান থেকে ৫ জন, হাওড়া থেকে ৪ জন। ৮৪ দিনের মাথায় প্রকাশিত হল মাধ্যমিকের ফল। মোট পরীক্ষার্থী সংখ্যা ৯ লক্ষ ৭১ হাজার ৩৪০ জন। গতবারের তুলনায় এবার বেড়েছে মাধ্যমিকে পাসের হার। এবার মাধ্যমিকে পাসের হার ৮৬.৮৩ শতাংশ। মাধ্যমিকে প্রথম দশে ১৩১ জন ১৯টি জেলার ৮৩টি স্কুল থেকে এসেছেন এই ১৩১ জন। প্রথম দশে উত্তর দিনাজপুর।
রাজ্যের ভাবী মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সমস্ত ছাত্রছাত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। কৃতীদের তালিকায় পূর্ব মেদিনীপুরের পরই যৌথভাবে রয়েছে বাঁকুড়া ও উত্তর দিনাজপুর। এই দুই জেলার ১৪ জন করে পড়ুয়া মেধা তালিকায় স্থান পেয়েছে। তৃতীয় স্থানে রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা (১১ জন)। অন্যান্য জেলায় কৃতীর সংখ্যা ১০-এর নীচে। জলপাইগুড়ি ও পশ্চিম বর্ধমান থেকে একজন করে পড়ুয়া স্থান পেয়েছে। পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায় সহায়তার জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং বিভিন্ন দপ্তরকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায়।
এ বছর ‘এএ’ গ্রেড বা ৯০ থেকে ১০০ শতাংশ নম্বর পাওয়া ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ১৩ হাজার ৮৯৫। মোট ছাত্রছাত্রীর নিরিখে এই হার ১.৪৬ শতাংশ। ‘এ+’ গ্রেড (৮০ থেকে ৮৯ শতাংশ) পাওয়া ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ২৬ হাজার ৮২৩ (২.৮১ শতাংশ)। ‘এ’ গ্রেড (৬০ থেকে ৭৯ শতাংশ) পাওয়া পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৯১ হাজার ৯৭৯ (৯.৬৪ শতাংশ)। ১ লক্ষ ৪৭ হাজার ৭৯ জন (১৫.৪২ শতাংশ) পেয়েছে ‘বি+’ গ্রেড (৪৫ থেকে ৫৯ শতাংশ)। ‘বি’ গ্রেড পাওয়া ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ১ লক্ষ ৯৭ হাজার ২৭৬ (২০.৬৮ শতাংশ)। ‘সি’ গ্রেড অর্থাৎ স্রেফ পাশমার্ক পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ৩ লক্ষ ২৮ হাজার ৯৬৩ জন পরীক্ষার্থী। এটাই বেশি উদ্বেগের বলে মনে করছে শিক্ষামহল।
সবচেয়ে বেশি ‘এএ’ গ্রেড এসেছে ভূগোল বিষয়ে। ৪০ হাজার ৭০৪ জন এই বিষয়ে ‘এএ’ পেয়েছে। এর পরেই রয়েছে জীবন বিজ্ঞান (৩৯ হাজার ৪১৮ জন)। ইতিহাসের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা ৩৩ হাজার ৩৬৫। প্রথম ভাষা (প্রধানত বাংলা) এবং দ্বিতীয় ভাষায় (মূলত ইংরাজি) যথাক্রমে ২৭,৩০২ এবং ১৯,৫৪২ জন ‘এএ’ পেয়েছে। ভৌত বিজ্ঞান (১৮,৯১৬) এবং গণিতে (১৬,০২৬) ‘এএ’ পাওয়া পরীক্ষার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে কম।
We hate spam as much as you do