থিওডোরাকিসের রাজনৈতিক জীবনের সূচনা মাতৃভূমিকে নাৎসী দখলদারি থেকে মুক্ত করার উদ্দেশ্যে গড়ে ওঠা ফ্যাসিবিরোধী কমিউনিস্ট যুব প্রতিরোধ বাহিনীতে যোগ দিয়ে। তারপর গ্রীসের কমিউনিস্ট বনাম রাজতন্ত্রীদের গৃহযুদ্ধ
প্রখ্যাত গীতিকার কমিউনিস্ট বিপ্লবী মিকিস থিওডোরাকিস চলে গেলেন
পাবলো নেরুদা বা শহীদ হয়ে যাওয়া কবি লোরকার কথা মনে আছে? যুগে যুগে রাষ্ট্রশক্তির বিরোধীতা করে একদল কবি, গীতিকার সৃষ্টির সাথে সাথে লড়াইয়ে অংশ নিয়েছেন।
গ্রীসের রাজনৈতিক এবং সঙ্গীত জগতের বর্ণময় চরিত্র মিকিস থিওডোরাকিস হলেন সেই সমস্ত মুষ্টিমেয়দের একজন যাদের হাত রাইফেল এবং গীটার দুইয়েই সাবলীল।
১৯২৫ সালের ২৯শে জুলাই চিওসের এজিয়ান দ্বীপে তার জন্ম। বাল্যকাল থেকেই একজন গীটার গায়ক সঙ্গীত নির্দেশক স্বাধীনতার সৈনিক হিসেবেই তার প্রকাশ ঘটেছিল।
থিওডোরাকিসের রাজনৈতিক জীবনের সূচনা মাতৃভূমিকে নাৎসী দখলদারি থেকে মুক্ত করার উদ্দেশ্যে গড়ে ওঠা ফ্যাসিবিরোধী কমিউনিস্ট যুব প্রতিরোধ বাহিনীতে যোগ দিয়ে। তারপর গ্রীসের কমিউনিস্ট বনাম রাজতন্ত্রীদের গৃহযুদ্ধ। গৃহযুদ্ধে পরাজিত হয়েছিলেন কমিউনিস্টরা। থিওডোরাকিসের দ্বীপান্তরের শাস্তি হয়েছিল । ১৯৬০ এর দশকে প্রতিক্রিয়াশীল সামরিক জুন্টা শাসনের বিরুদ্ধে কিন্তু গণ প্রতিরোধের মুখ হয়ে উঠেছিলেন থিওডোরাকিস। তার গান নিষিদ্ধ হল। তিনি নিগৃহীত হলেন। আবারও জুটল নির্বাসন। শেষ অব্দি অবশ্য সামরিক শাসনের অবসান হয়। মুক্ত গ্রীসে জনপ্রিয় আদর্শের প্রতীক হয়ে ওঠেন মিকিস।
গ্রীক কমিউনিস্ট পার্টির আজীবন সদস্য মিকিস ১৯৮০ থেকে ১৯৯১ অব্দি নির্বাচিত হয়েছেন কমিউনিস্ট পার্টির সাংসদ হিসেবে। সামলেছেন গুরুত্বপূর্ণ দফতর। সোচ্চার ছিলেন মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে। সোচ্চার থেকেছেন তার দেশের অতি দক্ষিণপন্থীদের বিরুদ্ধেও। গত বৃহস্পতিবার ৯৬ বছর বয়সে তার জীবনাবসান হল।
তিন দিনের জাতীয় শোক ঘোষিত হয়েছে। গ্রিক পতাকাটি অ্যাক্রোপলিসে অর্ধ-নমিত করা হয়েছিল।
গ্রীক রাষ্ট্রপতি ক্যাটরিনা সাকেলারোপোলু এক বিবৃতিতে বললেন
“তিনি আবেগ নিয়ে বেঁচে ছিলেন, সংগীত, শিল্পকলা, আমাদের দেশ এবং এর জনগণের জন্য নিবেদিত জীবন, স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার, সমতা, সামাজিক সংহতির ধারণার প্রতি নিবেদিত,”
“তিনি এমন সংগীত লিখেছিলেন যা যুদ্ধ-পরবর্তী বছরগুলিতে গ্রীসের ঐতিহাসিক এবং সামাজিক বিকাশের সাথে জড়িত ছিল, এমন সংগীত যা আমাদের সাম্প্রতিক অন্ধকার সময়ে উৎসাহ, সান্ত্বনা, প্রতিবাদ এবং সমর্থন প্রদান করেছিল।”
গ্রীক সাংস্কৃতিক মন্ত্রী বলেছেন “Today we lost a part of Greece’s soul. Mikis Theodorakis, our Mikis, the teacher, the intellectual, the radical passed away.”
সঙ্গীত শিল্পী হিসেবে খ্যাতির শীর্ষে থাকা মিকিসের অসংখ্য অসামান্য সব সৃষ্টির মধ্যে বিশেষ উল্লেখ্য " ব্যালার্ড অফ মাউথহাউসেন "। নাৎসী ডেথক্যাম্প মাউথহাউসনের জনৈকা নারী বন্দীকে প্রেমিকা হিসেবে কল্পনা করে লেখা ডেথ ক্যাম্প সার্ভাইভার লাকোভসের কবিতা গুলোতে সুরারোপ করে যে সঙ্গীত থিওডোরাকিস সৃষ্টি করেছেন সেটি হলোকাস্টের শ্রেষ্ঠতম সঙ্গীত স্মৃতি হিসেবে গণ্য হয় আজও।
We hate spam as much as you do