বুধবার সকালে ভাঙড়ের বিভিন্ন স্পর্শকাতর বুথ পরিদর্শনে বেরিয়েছিলেন নওশাদ সিদ্দিকী। অভিযোগ, একটি বুথে পৌঁছনো মাত্রই সেখানে আগে থেকে জমায়েত হওয়া তৃণমূল কর্মীরা তাঁকে লক্ষ্য করে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয় যখন নওশাদকে শারীরিকভাবে বুথে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। নওশাদের নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁকে আগলে রাখার চেষ্টা করলেও মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। আইএসএফ ও তৃণমূল— দু’পক্ষের কর্মী-সমর্থকরাই একে অপরের ওপর চড়াও হয়। শুরু হয় ব্যাপক হাতাহাতি ও ইটবৃষ্টি।
ভাঙড়ে নৌসাদকে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান, ISF এর চ্যালেঞ্জ TMCকে, খণ্ডযুদ্ধে রক্তারক্তি
29 Apr 2026
দ্বিতীয় দফার ভোটে সকাল থেকেই লাইমলাইটে ছিল দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়। কিন্তু বেলা গড়াতেই সেই নজরদারি পর্যবসিত হলো রণক্ষেত্রে। আইএসএফ (ISF) বিধায়ক তথা হেভিওয়েট প্রার্থী নওশাদ সিদ্দিকীকে ঘিরে তৃণমূল কর্মীদের বিক্ষোভ এবং পরবর্তীতে দু’পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠল এলাকা। দফায় দফায় লাঠিচার্জ ও ধস্তাধস্তিতে কার্যত থমকে গেল ভোট প্রক্রিয়া।
বুথ পরিদর্শনে বাধা, চলল হাতাহাতি
বুধবার সকালে ভাঙড়ের বিভিন্ন স্পর্শকাতর বুথ পরিদর্শনে বেরিয়েছিলেন নওশাদ সিদ্দিকী। অভিযোগ, একটি বুথে পৌঁছনো মাত্রই সেখানে আগে থেকে জমায়েত হওয়া তৃণমূল কর্মীরা তাঁকে লক্ষ্য করে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয় যখন নওশাদকে শারীরিকভাবে বুথে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। নওশাদের নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁকে আগলে রাখার চেষ্টা করলেও মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। আইএসএফ ও তৃণমূল— দু’পক্ষের কর্মী-সমর্থকরাই একে অপরের ওপর চড়াও হয়। শুরু হয় ব্যাপক হাতাহাতি ও ইটবৃষ্টি।
সাধারণ ভোটারদের প্রাণভয়ে দৌড়ঝাঁপ
ভোট চলাকালীন বুথের সামনে এমন রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ দেখে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণভয়ে ভোটাররা বুথ ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে শুরু করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। মারমুখী জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশকে কয়েক দফায় লাঠিচার্জ করতে হয়। প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় ওই বুথে ভোটগ্রহণ বন্ধ থাকে।
তৃণমূলের বিক্ষোভের মুখে পিছু না হটে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন আইএসএফ সমর্থকরা। মুহূর্তের মধ্যে দুই দলের কর্মীরা একে অপরের ওপর চড়াও হয়। শুরু হয় ব্যাপক ধস্তাধস্তি। বুথের সামনেই এমন মারমুখী পরিস্থিতি দেখে সাধারণ ভোটাররা প্রাণভয়ে এদিক-ওদিক ছুটতে শুরু করেন। অনেকক্ষণ ভোটগ্রহণ বন্ধ রাখতে হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশকে লাঠি উঁচিয়ে তাড়া করতে হয়।
ঘটনার পর ক্ষোভ উগরে দিয়ে নওশাদ সিদ্দিকী বলেন, "আমি প্রার্থী হিসেবে আমার গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে এবং বুথ পরিদর্শন করতে এসেছিলাম। কিন্তু তৃণমূল পরিকল্পিতভাবে আমায় আটকানোর চেষ্টা করছে। ওরা পরাজয় নিশ্চিত জেনেই অশান্তি পাকিয়ে ভোট লুঠ করতে চাইছে।"
অন্যদিকে, তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, নওশাদ সিদ্দিকী একদল ‘বহিরাগত’ সশস্ত্র দুষ্কৃতী নিয়ে এলাকায় ঢুকে অশান্তি ছড়াচ্ছেন এবং ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন।
ভাঙড়ের এই ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট বুথ ও সংলগ্ন এলাকায় বাড়তি এক কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। আকাশপথে ড্রোন উড়িয়েও নজরদারি চালানো হচ্ছে। এলাকায় বর্তমানে এক থমথমে নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে। পুলিশ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা এলাকায় রুট মার্চ করছেন। তবে দ্বিতীয় দফার এই হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে ভাঙড়ের এই চিত্র বুঝিয়ে দিল, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত এক ইঞ্চি জমিও কেউ কাউকে ছাড়তে নারাজ।
We hate spam as much as you do