সেলিম বলেন, ভোটের হার বেশি সন্দেহ নেই। তবে শেষ লগ্নে জল মিশছে কিনা কমিশনকে দেখতে হবে। আরেক প্রশ্নে তিনি বলেন, এবার দেখা গিয়েছে তৃণমূলের ভোট কারসাজি মানুষ ধরে ফেলেছেন। তার বিরুদ্ধে মত দিয়েছেন। আমরা বামপন্থীরা সকাল থেকে বুথ আগলে আছেন। শেষ পর্যন্ত তাই থাকবেন। এক প্রশ্নে সেলিম বলেন, ‘ভোটের পর আমরাই থাকব‘- এমন কথা বলা তো আসলে হুমকি দেয়া। আমরা দেখেছি ভোটের পর হিংসায় আমাদের কর্মীরা মারা গিয়েছেন। কিশোরী তমন্না খাতুন মারা গিয়েছে উপনির্বানে গণনার দিন। আমাদের দাবি প্রশাসনকে নিয়ম মেনে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
গণনা কেন্দ্র সুরক্ষিত রাখতে মহঃ সেলিমের আহ্বান, সব যোগ্যদের ভোটাধিকারের লড়াই চলবে
30 Apr 2026
বুধবার ভোটের পর সাংবাদিক সম্মেলনে একথা বলেছেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। তিনি বলেন, আমাদের কর্মীরা বুথ আগলে রেখেছেন। তাঁরা গণনা কেন্দ্রও আগলে রাখবেন।
তিনি বলেন, এরাজ্যে একাধিক ভোটে ভুয়ো আধিকারিক নিয়োগ দেখা গিয়েছে। ভুয়ো পরিচয়পত্র দেওয়া হয়েছে। সেলিম ভোটদানের হার প্রসঙ্গে বলেন, মৃত বা ভুয়ো নাম বাদ গিয়েছে বলে সাধারণভাবে হার বেশি। আমরা চাই বেশি মানুষ ভোট দিন। আগেও নব্বই শতাংশের বেশি ভোট পড়ত। মিডিয়া তখন অন্যভাবে দেখত। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ থাকলে ভোটের হার বাড়ে। এবারও বড় কোনও ঘটনা নেই। নিয়ম মেনে পরিচালিত হলে সুষ্ঠুভাবে ভোট করা যায়। রাজ্য পুলিশের সেই যোগ্যতা ছিল। কিন্তু এবার তাঁদের দূরে রাখতে হলো। কিছু দলদাসের জন্য রাজ্য এবং কলকাতা পুলিশ বিভিন্ন নির্বাচনে হাঙ্গামা হয়েছে।
সেলিম বলেন, ডায়মন্ড হারবারে ভাইপোর মডেল মিডিয়ায় আনা হতো না। বুথে মস্তান বাহিনী বসে থাকত। এবারও সেই চেষ্টা হয়েছে। তার মধ্যে দাঁড়িয়েও অনেক মানুষ নিজের ভোট দিয়েছেন।
সেলিম বলেন, ভোটার তালিকার সময় মানুষকে হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে। এবার দেখতে হবে গণনার সময়েও যাতে মানুষের মতামত প্রতিফলিত হয়। হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, অন্ধ্র প্রদেশে আমরা দেখেছি গণনাকেন্দ্রে ভুয়ো আধিকারিক ঢুকিয়ে ভোট ম্যানেজার সংস্থা দখল করে নেয়। আমরা এরাজ্যে পঞ্চায়েত ভোটেও দেখেছি। গতবার রিটার্নিং অফিসার, ডিএম-দের দিয়ে ভুয়ে পরিচয় পত্র দেওয়া হয়। এবার যাতে ভুয়ো গণনাকারী না থাকে দেখতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। গণতান্ত্রিক অধিকার যাতে মানুষ ফিরে পান দেখতে হবে।
যাঁদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে তাঁদের জন্য লড়াই আমরা চালাবো। আমাদের বামপন্থীরা যে প্রতিশ্রুতি রেখেছেন ভোটের পরও সেই লক্ষ্যে লড়াই চলবে।
এক প্রশ্নে সেলিম বলেন, অভ্যাস অনুযায়ী কৌশল নেওয়া হয়েছে। বালিগঞ্জে যেমন অভিযোগ নিতে চায়নি। ডায়মণ্ড, কসবাতেও নকল ভোট, ভুয়ো ভোট রাখার চেষ্টা হয়েছে। দেখা গিয়েছে যেখানে বিজেপি ভোট পাবে না সেখানে কমিশন ততটা তৎপর হয়নি।
তিনি বলেন, উলুবেড়িয়ায় একশো মিটারের থেকে বেশি দূরে সিপিআই(এম)’র ক্যাম্পে লাঠি চালানো হয়েছে। আরেকদিকে তৃণমূলের নেতারা বহাল তবিয়তে নিষিদ্ধ সীমানার ভেতর বসে থেকেছেন। আমরা অভিযোগ জানিয়েছি। বিধানসভা ভিত্তিক হিসেব রয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও অনেক ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
সেলিম বলেন যে বিজেপি এবং তৃণমূল কালো টাকা ব্যবহার করেছে। তবে সব কিছু কালো টাকা দিয়ে কেনা যায় না।
আরেক প্রশ্নে বলেন, ভোটারের সংখ্যা কমেছে। ফলে আগের সংখ্যায় ভোটদান হলেও শতাংশের বিচারে বেশি হবে হার। ভোটদানের সংখ্যার বিচারে, প্রথম পর্বে দেখেছি, কিছুটা বৃদ্ধি হয়েছে।
সেলিম বলেন, ভোটের হার বেশি সন্দেহ নেই। তবে শেষ লগ্নে জল মিশছে কিনা কমিশনকে দেখতে হবে।
আরেক প্রশ্নে তিনি বলেন, এবার দেখা গিয়েছে তৃণমূলের ভোট কারসাজি মানুষ ধরে ফেলেছেন। তার বিরুদ্ধে মত দিয়েছেন। আমরা বামপন্থীরা সকাল থেকে বুথ আগলে আছেন। শেষ পর্যন্ত তাই থাকবেন।
এক প্রশ্নে সেলিম বলেন, ‘ভোটের পর আমরাই থাকব‘- এমন কথা বলা তো আসলে হুমকি দেয়া। আমরা দেখেছি ভোটের পর হিংসায় আমাদের কর্মীরা মারা গিয়েছেন। কিশোরী তমন্না খাতুন মারা গিয়েছে উপনির্বানে গণনার দিন। আমাদের দাবি প্রশাসনকে নিয়ম মেনে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
সেলিম বলেন, ইভিএম-এ টেপ বা স্টিকার লাগানোর মতো ঘটনায় পুনর্নির্বাচন করতে হবে। আমরা অভিযোগ তুলে কমিশনের কাছে সেই দাবি জানিয়েছি।
উত্তর প্রদেশ কি অপরাধ মুক্ত? প্রয়াগরাজের এসপি উনি। সেটি কী অপরাধ মুক্ত? এরাজ্যেও এমন ধমকি দেয়া আধিকারিক দেখেছিলাম। প্রশ্ন হচ্ছে জনতার অধিকার ছিনিয়ে নিচ্ছ না রক্ষা করছ? নিজে নিয়ম বানায় এমন ম্যাচো অফিসাররা মানুষের অধিকার ছিনিয়ে নেয়।
মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।
তিনি বলেন, পুলিশকে দলদাস না করলে মমতাকে হাত কামড়াতে হত না।
এক প্রশ্নে সেলিম বলেন, জনতা দায়িত্ব দিলে আমরা দায়িত্ব পালন করব। জনতার আকাঙ্ক্ষাকে প্রতিফলিত করব। আমরা ঘোড়া কেনাবেচার মধ্যে নেই।
We hate spam as much as you do