বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট (SIT)-এর প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট সামনে আসার পর থেকেই ট্রাস্টের অন্দরে চাপ বাড়ছিল। রিপোর্টে স্পষ্ট বলা হয়, ভক্তদের দেওয়া কোটি কোটি টাকার অনুদান এবং প্রণামী সামলানোর ক্ষেত্রে মারাত্মক গাফিলতি এবং নজরদারির অভাব ছিল। আর সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ স্পষ্ট বার্তা দেন যে, রাম মন্দিরের দানের টাকা তছরুপ নিয়ে কোনওরকম রেয়াত করা হবে না। প্রশাসনের এই কঠোর রূপ দেখেই কি পদত্যাগ করতে বাধ্য হলেন ট্রাস্টের এই দুই প্রভাবশালী মুখ?
রামমন্দিরে বিপুল অর্থ চুরি, ৮ গ্রেপ্তার PA যুক্ত থাকায় ট্রাস্ট চিফ চম্পত রাই ও আর একজন পদত্যাগ
26 June 2026
অযোধ্যার রাম মন্দিরের দুর্নীতিতে কড়া মনোভাব নিয়েই চলতে চান, এমনটাই স্পষ্ট কর দিয়েছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ (Ayodhya donation scam Yogi Adityanath)। তাঁর এই পদক্ষেপের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কার্যত হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল রাম মন্দির পরিচালনার মূল পরিকাঠামো। ‘ইন্ডিয়া টুডে’ সূত্রের খবর, রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের চিফ চম্পত রাই পদত্যাগ করলেন (Champat Rai resigns Ram Mandir trust)। ট্রাস্টের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন অন্যতম প্রধান সদস্য অনিল মিশ্র (Anil Mishra resignation Ram Temple)।
চম্পত রাইয়ের আপ্তসহায়ক-সহ আটজন অভিযুক্তকে পুলিশ গ্রেফতার করার ঠিক পরদিনই এই দুই শীর্ষ কর্তার পদত্যাগ (Shri Ram Janmabhoomi Trust members quit) অযোধ্যার রাজনীতি এবং মন্দির মহলে তীব্র আলোড়ন তৈরি করেছে।
বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট (SIT)-এর প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট সামনে আসার পর থেকেই ট্রাস্টের অন্দরে চাপ বাড়ছিল। রিপোর্টে স্পষ্ট বলা হয়, ভক্তদের দেওয়া কোটি কোটি টাকার অনুদান এবং প্রণামী সামলানোর ক্ষেত্রে মারাত্মক গাফিলতি এবং নজরদারির অভাব ছিল। আর সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ স্পষ্ট বার্তা দেন যে, রাম মন্দিরের দানের টাকা তছরুপ নিয়ে কোনওরকম রেয়াত করা হবে না। প্রশাসনের এই কঠোর রূপ দেখেই কি পদত্যাগ করতে বাধ্য হলেন ট্রাস্টের এই দুই প্রভাবশালী মুখ?
নতুন ট্রাস্টির অভিযোগে এফআইআর, জেল হেফাজতে ৮ অভিযুক্ত
সিট-এর সুপারিশ মেনেই এই বিপুল আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনায় প্রথম এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। ট্রাস্টের নতুন সদস্য কৃষ্ণ মোহন এই লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। উল্লেখ্য, প্রাক্তন ট্রাস্টি কামেশ্বর চৌপালের মৃত্যুর পর ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কৃষ্ণ মোহন এই ট্রাস্টে যোগ দিয়েছিলেন।
এফআইআর দায়েরের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অ্যাকশনে নামে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতেই মামলার নাম থাকা আটজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের তালিকায় রয়েছেন অবিনাশ শুক্লা, অনুকূল মিশ্র, লবকুশ মিশ্র, মণীশ কুমার যাদব, করুণেশ পাণ্ডে, রমাশঙ্কর মিশ্র, সুভাষ শ্রীবাস্তব এবং চম্পত রাইয়ের খাস লোক রমাশঙ্কর যাদব ওরফে টিন্নু। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই দুর্নীতির শিকড় কতদূর তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের (Prevention of Corruption Act) একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে চুরি, অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ, চুরির সম্পত্তি লুকিয়ে রাখা এবং দলবদ্ধভাবে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মতো জামিন অযোগ্য ধারা।
কোথায় কোথায় গলদ? সিট-এর বিস্ফোরক রিপোর্ট
রাম মন্দিরে ভক্তদের দেওয়া দানের টাকা যেভাবে তছরুপ করা হচ্ছিল, তা নিয়ে জল অনেক দূর গড়ায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে গত ১৩ জুন উত্তরপ্রদেশ সরকার তিন সদস্যের একটি সিট (SIT) গঠন করে। ১৫ থেকে ২০ জুনের মধ্যে অযোধ্যায় তল্লাশি চালিয়ে যে রিপোর্ট সিট তৈরি করেছে, তা এককথায় বিস্ফোরক।
তদন্তকারী সূত্রের খবর, সিট তাদের রিপোর্টে জানিয়েছে, মন্দিরের ভেতরের নিরাপত্তা ও টাকা গোনার পুরো প্রক্রিয়াই ছিল সম্পূর্ণ আলগা।
নিরাপত্তায় গাফিলতি: মন্দিরের অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং সুরক্ষিত এলাকায় কোন কর্মচারীরা ঢুকছেন বা বেরোচ্ছেন, তার কোনও সঠিক তল্লাশি বা রেকর্ড রাখা হতো না। এমনকি কর্মচারীদের ব্যাকগ্রাউন্ড ভেরিফিকেশন বা পরিচয়পত্র খতিয়ে দেখার ক্ষেত্রেও বড়সড় ফাঁক ছিল।
সিসিটিভি ও নজরদারি: যেখানে টাকা রাখা ও গোনা হতো, সেখানকার সিসিটিভি ক্যামেরা ও সার্বিক নজরদারি ব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্বল ছিল।
টাকা স্থানান্তরে গরমিল: মন্দির চত্বর থেকে প্রণামীর টাকা প্রথমে ট্রাস্টের অফিসে এবং সেখান থেকে ব্যাংকে জমা দেওয়ার যে চেইন বা প্রক্রিয়া, তার মাঝপথেই টাকা গায়েব করে দেওয়া হতো।
বহিরাগতদের দাপট: টাকা গোনার দায়িত্বে থাকা ব্যাঙ্কিং অপারেশনের জন্য আউটসোর্স বা চুক্তির ভিত্তিতে বহিরাগত কর্মী নিয়োগ করা হয়েছিল। এই কর্মীদের নিয়োগ এবং তাদের ওপর নজরদারির দায়িত্বে কারা ছিলেন, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে।
সোনা-রুপোর গয়নাতেও হাত!
তদন্তকারীরা শুধু নগদ টাকার গরমিলই পাননি, রামলালার চরণে ভক্তদের দেওয়া সোনা, রুপো, মূল্যবান অলঙ্কার এবং অন্যান্য সামগ্রীর নথিপত্রও খতিয়ে দেখছেন। কারণ সিট দেখেছে, খাতায়-কলমে যে পরিমাণ সোনা-রুপো জমা পড়ার কথা, স্ট্রং রুমে রাখা সামগ্রীর সঙ্গে তার কোনও মিল নেই। ইনভেন্টরি ও ডকুমেন্টেশনে এই বিশাল অসঙ্গতি দেখার পরেই তদন্তের পরিধি আরও বাড়ানো হয়েছে।
এরপরই ট্রাস্ট চিফ এবং অন্যতম আরও এক সদস্যের পদত্যাগ যে বড়সড় কিছুরই ইঙ্গিত দিচ্ছে, বলাই বাহুল্য।
We hate spam as much as you do