অবসান হলো দীর্ঘ দুই দশকের ট্রফি খরা আর যন্ত্রণার। যুবভারতী থেকে কিশোর ভারতী, কলকাতার গগনবিদারী ‘ইস্টবেঙ্গল... ইস্টবেঙ্গল’ চিৎকারে ইতিহাস ছুঁল লাল-হলুদ ব্রিগেড। সমস্ত জল্পনা, সমস্ত গাণিতিক হিসাব-নিকাশ একপাশে সরিয়ে রেখে ভারতের নতুন ফুটবল চ্যাম্পিয়ন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করল ইস্টবেঙ্গল এফসি। শুধু জেতা নয়, প্রথমবার ইন্ডিয়ান সুপার লিগ (ISL) চ্যাম্পিয়ন হয়ে মশাল-বাহিনী প্রমাণ করে দিল, ট্রফিটি তাদের ঘরে আসাই এবার সবচেয়ে বেশি পাওনা ও যোগ্য বিচার ছিল। ২২ বছর পর জাতীয় স্তরের লিগে শ্রেষ্ঠত্বের শিরোপা পুনরুদ্ধার করার পর এই জয় এখন ভারতীয় ফুটবলের লোকগাথার অংশ।
২২ বছর পর স্বপ্নপূরণ প্রথমবার ISL চ্যাম্পিয়ন হলো ইস্টবেঙ্গল।
21 May 2026
Winner,ইস্টবেঙ্গল আইএসএল চ্যাম্পিয়ন ,অস্কার ব্রুজোঁ ইস্টবেঙ্গল ,মোহনবাগান দিল্লি ড্র , আইএসএল পয়েন্ট টেবিল, কলকাতা ফুটবল আপডেট, ভারতসেরা ইস্টবেঙ্গল
East Bengal ISL Champions: অবসান হলো দীর্ঘ দুই দশকের ট্রফি খরা আর যন্ত্রণার।
অবসান হলো দীর্ঘ দুই দশকের ট্রফি খরা আর যন্ত্রণার। যুবভারতী থেকে কিশোর ভারতী, কলকাতার গগনবিদারী ‘ইস্টবেঙ্গল... ইস্টবেঙ্গল’ চিৎকারে ইতিহাস ছুঁল লাল-হলুদ ব্রিগেড। সমস্ত জল্পনা, সমস্ত গাণিতিক হিসাব-নিকাশ একপাশে সরিয়ে রেখে ভারতের নতুন ফুটবল চ্যাম্পিয়ন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করল ইস্টবেঙ্গল এফসি। শুধু জেতা নয়, প্রথমবার ইন্ডিয়ান সুপার লিগ (ISL) চ্যাম্পিয়ন হয়ে মশাল-বাহিনী প্রমাণ করে দিল, ট্রফিটি তাদের ঘরে আসাই এবার সবচেয়ে বেশি পাওনা ও যোগ্য বিচার ছিল। ২২ বছর পর জাতীয় স্তরের লিগে শ্রেষ্ঠত্বের শিরোপা পুনরুদ্ধার করার পর এই জয় এখন ভারতীয় ফুটবলের লোকগাথার অংশ।
খেলা শুরুর ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগে দলের স্প্যানিশ হেড কোচ অস্কার ব্রুজোঁ তাঁর ছেলেদের ড্রেসিংরুমে এক চরম বার্তা দিয়েছিলেন, "সব ভুলে জীবনের সেরা শেষ ৯০ মিনিট উজাড় করে দাও।" কোচের সেই রণহুঙ্কারে যে ফুটবলারদের রক্ত গরম হয়েছিল, তা ম্যাচের প্রতি মিনিটে টের পাওয়া গেল।
কিশোর ভারতী স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরুতেই অবশ্য অত্যন্ত শক্তিশালী ও লড়াকু ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে খেলতে নেমে প্রথমার্ধেই পিছিয়ে পড়ে লাল-হলুদ। স্টেডিয়াম জুড়ে তখন এক লহমায় নেমে এসেছিল শ্মশানের স্তব্ধতা। কিন্তু মিগুয়েল ফিগুয়েরার পায়ের জাদুতে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় তারা। সঙ্গে রশিদ এবং ইউসেফ এজ়েজারিদের চোখ ধাঁধানো আক্রমণাত্মক ফুটবল ইন্টার কাশীর রক্ষণভাগকে খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দেয়। পিছিয়ে পড়েও এমন অভাবনীয় প্রত্যাবর্তনের জয়ই ইস্টবেঙ্গলকে চ্যাম্পিয়নের মুকুট পরিয়ে দিল।
এদিকে ইস্টবেঙ্গল যখন উৎসবের আলোয় ভাসছে, ঠিক তখনই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগান শিবিরে নেমে এসেছে অমাবস্যার অন্ধকার। শেষ ম্যাচ পর্যন্ত মেরিনার্সদের সামনে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার একটা মৃদু গাণিতিক সুযোগ টিকে ছিল। তবে সেই অলৌকিক ঘটনার জন্য দুটি শর্ত পূরণ হওয়া দরকার ছিল,
নিজেদের শেষ ম্যাচে দিল্লির বিরুদ্ধে বাগানকে জিততেই হতো। ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে ইস্টবেঙ্গলকে পয়েন্ট নষ্ট করতে হতো।
বাস্তবে এর কোনোটিই ঘটল না। একদিকে ইস্টবেঙ্গল ম্যাচ জিতে মাঠ ছাড়ল, অন্যদিকে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে চরম চাপ সামলাতে ব্যর্থ হলো সের্জিয়ো লোবেরার ছেলেরা। তুলনামূলকভাবে অনেকটাই দুর্বল দল এসসি দিল্লির বিরুদ্ধে রক্ষণাত্মক বাধা ভাঙতে না পেরে ১-১ গোলে ড্র করে মাঠ ছাড়ে সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। টুর্নামেন্টের শেষ লগ্নে এসে দিল্লি এবং ইন্টার কাশীর মতো দলের বিরুদ্ধে পয়েন্ট নষ্ট করার চরম খেসারত দিতে হলো ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের।
চূড়ান্ত ম্যাচ ডে-র অবিশ্বাস্য ফলাফল আইএসএল টেবিলের শীর্ষস্থানে এক ব্যাপক রদবদল ঘটিয়ে দিয়েছে। প্রথম স্থানে (ইস্টবেঙ্গল এফসি): ২২ বছরের দীর্ঘ ট্রফি খরা কাটিয়ে প্রথমবার স্বপ্নের আইএসএল চ্যাম্পিয়ন। দ্বিতীয় স্থানে (মুম্বই সিটি এফসি): শেষ ম্যাচে পাঞ্জাবকে হারিয়ে মোহনবাগানকে টপকে রানার্স-আপ। তৃতীয় স্থানে (মোহনবাগান এসজি): টানা দু’বারের চ্যাম্পিয়নরা লিগ শেষ করল তিন নম্বরে।
একদিকে যেমন মুম্বই সিটি এফসি সুযোগের সদ্ব্যবহার করে পাঞ্জাবকে হারিয়ে রানার্স-আপের ট্রফি ছিনিয়ে নিল, ঠিক তেমনই শেষ মুহূর্তের ব্যর্থতায় মোহনবাগান নেমে গেল তিন নম্বরে। তবে এই রাত কোনো পরিসংখ্যানের নয়, এই রাত কোনো ব্যর্থতার কাটাছেঁড়ার নয়। এই রাত শুধুই লাল-হলুদের, যারা ছাই উড়িয়ে পুনর্জন্ম নিল ভারতীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে।
We hate spam as much as you do