Tranding

01:33 AM - 05 Jun 2026

Home / Politics / দলের বিরুদ্ধে সই জালের অভিযোগ তুলে ঋতব্রত , সন্দীপন তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত, 

দলের বিরুদ্ধে সই জালের অভিযোগ তুলে ঋতব্রত , সন্দীপন তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত, 

বিধানসভার সই জাল-কাণ্ডে সোমবার দুপুরে নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, তৃণমূলের দুই বিধায়ক ঋতব্রত এবং সন্দীপনই লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলেন স্পিকারকে। তার ভিত্তিতেই বিধানসভার সচিবালয় হেয়ার স্ট্রিট থানায় অভিযোগ দায়ের করে। শুভেন্দু জানান, পুলিশমন্ত্রী হিসাবে তাঁর কাছে বিষয়টি আসার পরেই তিনি সিআইডি-কে তদন্তে যুক্ত করার নির্দেশ দেন। শুভেন্দুর সাংবাদিক বৈঠক শেষ হওয়ার ১৫ মিনিটের মধ্যেই তৃণমূল উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপনকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়।

দলের বিরুদ্ধে সই জালের অভিযোগ তুলে ঋতব্রত , সন্দীপন তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত, 

দলের বিরুদ্ধে সই জালের অভিযোগ তুলে ঋতব্রত , সন্দীপন তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত, 

 ০১ জুন ২০২৬ 


দলবিরোধী কাজের অভিযোগে দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহাকে বহিষ্কার করল তৃণমূল। চিঠি দিয়ে ওই দু’জনকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বহিষ্কারের কথা জানিয়েছেন তৃণমূলের সহ-সভাপতি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তৃণমূল সূত্রে খবর, ঋতব্রত এবং সন্দীপনকে ইমেল এবং হোয়াট্‌সঅ্যাপ মারফত জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। দলের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসুকেও।


বিধানসভার সই জাল-কাণ্ডে সোমবার দুপুরে নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, তৃণমূলের দুই বিধায়ক ঋতব্রত এবং সন্দীপনই লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলেন স্পিকারকে। তার ভিত্তিতেই বিধানসভার সচিবালয় হেয়ার স্ট্রিট থানায় অভিযোগ দায়ের করে। শুভেন্দু জানান, পুলিশমন্ত্রী হিসাবে তাঁর কাছে বিষয়টি আসার পরেই তিনি সিআইডি-কে তদন্তে যুক্ত করার নির্দেশ দেন। শুভেন্দুর সাংবাদিক বৈঠক শেষ হওয়ার ১৫ মিনিটের মধ্যেই তৃণমূল উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপনকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়।

বহিষ্কারের পর সন্দীপন বলেন, “যারা অনৈতিক কাজ করে, দল তাদের সমর্থন করে। আর যারা নৈতিক কাজ করে, তাদের বহিষ্কার করে। আমরা তো জানতামই না, একটা হাজিরা খাতার সইকে প্রস্তাবের সই বলে চালানো হবে।” ‘এবিপি আনন্দ’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ঋতব্রত বলেন, “সই-কাণ্ডের বিষয়টি আমি এবং সন্দীপন বিধানসভার অধ্যক্ষকে জানিয়েছিলাম। অধ্যক্ষ কোনও দলের প্রতিনিধি নন, তিনি বিধানসভার অভিভাবক।” তৃণমূলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও তোলেন তিনি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কী ভাবে ফলতা বিধানসভা থেকে বিপুল ভোট পান, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ঋতব্রত। ভবিষ্যতে নিজের ভূমিকার কথা জানিয়ে, ঋতব্রত জানান, তিনি বিভিন্ন দুর্নীতির বিষয়ে বর্তমান সরকারকে অবহিত করে তদন্ত চাইবেন।


পরিষদীয় ক্ষেত্রে এই দু’জনের ভূমিকা কী হবে? নিয়ম অনুযায়ী, এই দুই বিধায়ক ‘দলহীন’ হিসাবে থাকবেন। রাজ্যসভা নির্বাচন বা অন্য কোনও ক্ষেত্রে দলের হুইপ বা নির্দেশ মানতে তাঁরা বাধ্য থাকবেন না। পৃথক কোনও ঘটনায় তৃণমূল তাঁদের সদস্যপদ বাতিলেরও আবেদন জানাতে পারবে না।

ঋতব্রতের ক্ষেত্রে এই অভিজ্ঞতা নতুন নয়। ২০১৪ সালে তাঁকে রাজ্যসভার সাংসদ করেছিল সিপিআইএম। তাঁর মেয়াদ ছিল ২০২০ সাল পর্যন্ত। কিন্তু ২০১৭ সালে বিভিন্ন অভিযোগে তাঁকে বহিষ্কার করে সিপিএম। তার পর থেকে তিন বছর তিনি রাজ্যসভায় দলহীন সাংসদ হিসাবে ছিলেন। আরজি কর-কাণ্ডের পর জহর সরকার মধ্য মেয়াদে রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিলে তৃণমূলের টিকিটে দেড় বছরের জন্য সংসদের উচ্চকক্ষে গিয়েছিলেন ঋতব্রত। তার পর তাঁকে বিধানসভায় এনে প্রার্থী করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

ঋতব্রত এবং সন্দীপনকে বহিষ্কারের পরেই দুই বিধায়কের নাম না-করে ফেসবুকে একটি দীর্ঘ পোস্ট করেছেন বেলেঘাটার বিধায়ক তথা দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। তিনি লেখেন, “ফল প্রকাশের এক মাসও হয়নি। তার আগেই দলে বিদ্রোহ, বিশ্বাসঘাতকতা? দলের বিরুদ্ধে এত অভিযোগ? তাহলে আমরা দাঁড়িয়েছিলাম কেন? আজ দিদি মুখ্যমন্ত্রী হলে তো অনেকে মন্ত্রী হওয়ার জন্য লবি করত। এখন হঠাৎ নানা কারণ দেখিয়ে দূরত্ব? এটা কাপুরুষতা। দলের কর্মপদ্ধতি নিয়ে দলের বৈঠকে খোলাখুলি বলব। প্রয়োজনে প্রকাশ্যে বলব। কিন্তু দলের পাশে থেকে। তাতে কাজ না-হলে তারপর দেখা যাবে।”

পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ঋতব্রত এবং সন্দীপনদের নাম করে আক্রমণ করেন কুণাল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম এবং ছবি ব্যবহার করে জেতার ২০ দিনের মাথায় কেন শাসকপক্ষের কাছে দলের বিরুদ্ধে নালিশ জানানো হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন কুণাল। তাঁর কথায়, “মমতাদি সরকার গড়লে সব ভাল। আর আজ দল ক্ষমতায় নেই বলে সব খারাপ হয়ে গেল? তা হলে দলের টিকিটে ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন কেন?”

সন্দীপনকে দল থেকে বহিষ্কার করার চিঠি। একই চিঠি দেওয়া হয়েছে ঋতব্রতকে
সন্দীপনকে দল থেকে বহিষ্কার করার চিঠি। একই চিঠি দেওয়া হয়েছে ঋতব্রতকে ছবি: সংগৃহীত

কী এই সই-কাণ্ড?

বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা, উপদলনেতা এবং মুখ্যসচেতক কে হবেন, এ নিয়ে পরিষদীয় নিয়মের জটিলতায় পড়তে হয়েছে প্রাক্তন শাসকদলকে। ৪ মে ভোটের ফলঘোষণার পরে ৬ মে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কালীঘাটের বাড়িতে জয়ী বিধায়কদের বৈঠকে ডেকেছিলেন। সে দিনই দলের প্রস্তাবে বিধায়কেরা হাত তুলে সায় দেন, পরিষদীয় দলের নেতা, উপ দলনেতা এবং মুখ্যসচেতক কে হবেন, তা ঠিক করুন দলনেত্রী মমতা। তার পর শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় ও অসীমা পাত্রকে উপদলনেতা এবং ফিরহাদ হাকিমকে মুখ্যসচেতক করার কথা জানানো হয় তৃণমূলের তরফে। সেই মর্মে দলের তরফে সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাক্ষরিত একটি চিঠি পাঠানো হয় বিধানসভায়। কিন্তু তা গৃহীত হয়নি।

তার কারণ, পরিষদীয়দলের নেতা বা অন্য পদাধিকারীর নির্বাচন পরিষদীয়দলের বৈঠকেই করতে হয়। তৃণমূলের ক্ষেত্রে তা হয়নি। ৬ মে বৈঠক থেকে বেরিয়ে একাধিক বিধায়ক সংবাদমাধ্যমে বলেছিলেন, পরিষদীয়দলের নেতা বা অন্যান্য পদাধিকারী কে হবেন, তা ঠিক করার ভার দেওয়া হয়েছে মমতাকে। বিধানসভা অভিষেকের চিঠি প্রত্যাখ্যান করলে ১৯ মে কালীঘাটে ফের যে বৈঠক হয়, সেখানে পরিষদীয় দলের সিদ্ধান্তে স্বাক্ষর করানো হয় বিধায়কদের। একাধিক বিধায়ক জানিয়েছিলেন, সেই সই তাঁদের করানো হয়েছিল ৬ মে তারিখের কার্যবিবরণীতে। এখানেই মূল জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে খবর।

সই-কাণ্ড নিয়ে তদন্তে নেমে সিআইডি চার জনের বাড়িতে গিয়েছিল। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন চৌরঙ্গীর নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, বেলেঘাটার কুণাল ঘোষ, ডোমজুড়ের তাপস মাইতি এবং ক্যানিং পূর্বের বাহারুল ইসলাম।

কিন্তু বাহারুলের সই নিয়ে ‘বিতর্ক’ তৈরি হয়েছে। ১৯ তারিখের বৈঠকে সই করানো হলেও বিধানসভায় জমা পড়া চিঠিটিতে তারিখ রয়েছে ৬ মে। ওই দিন মমতার বাড়ির বৈঠকে বাহারুল হাজির ছিলেন না। বাহারুল বলেছিলেন, ‘‘তদন্ত যখন চলছে, তখন এ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে বেশি কিছু বলব না। শুধু এটুকু বলি, তদন্তকারীরা আমার কাছে জানতে চান ৬ মে আমি কোথায় ছিলাম। আমি তাঁদের জানাই, ওই দিন আমি বাড়িতেই (ভাঙড়ে) ছিলাম। ওই দিনের একটি মিটিংয়ের সই আমায় দেখানো হয়। আমি তাঁদের বলি, ওই দিন আমি কোনও মিটিংয়ে যোগ দিইনি। ভোট-পরবর্তী হিংসার কারণে বাড়িতেই ছিলাম।’’

বিষয়টি দলের গোচরেও এনেছেন বলে দাবি করেন বাহারুল। অন্য দিকে, গোটা পরিস্থিতি নিয়ে প্রবীণ নেতা তথা বালিগঞ্জের বিধায়ক শোভনদেব বলেন, ‘‘আমি ব্যাপারটা বুঝতে পারছি না এই কারণে, আমরা কাউকে দিয়ে জোর করে সই করাইনি। কে লিখেছে জানি না। তবে বাহারুল ওই সইটি দেখে বলেছেন ওটা ওঁর সই নয়।’’ ওই সই-কাণ্ডের সূত্রেই সোমবার অভিষেককে তলব করেছিল সিআইডি। কিন্তু অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সোমবার অভিষেক হাজিরা দেননি।

Your Opinion

We hate spam as much as you do