Tranding

01:05 AM - 15 Jun 2026

Home / National / মোদি সরকার সমর্থনে ত্রিপুরার NCPI -তে যুক্ত হলেন ২০ তৃণমূল সাংসদ

মোদি সরকার সমর্থনে ত্রিপুরার NCPI -তে যুক্ত হলেন ২০ তৃণমূল সাংসদ

এদিন লোকসভার স্পিকার ওম বিরলার সঙ্গে বৈঠকের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তিনি বলেন, “আমরা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস (AITC)-এর টিকিটে নির্বাচিত ২০ জন সাংসদ আজ স্পিকারের সঙ্গে দেখা করেছি। আমরা একটি চিঠি জমা দিয়ে লোকসভায় আলাদা আসন ও স্বতন্ত্র গোষ্ঠী হিসেবে বসার অনুমতি চেয়েছি। এই ২০ জন সাংসদ আমাদের দলের মোট সাংসদ সংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি। আমরা ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি (NCPI)-র সঙ্গে একীভূত হচ্ছি। আগামী দিনে দেশের স্বার্থে কাজ করব এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে এনডিএ-র সঙ্গে মিলিতভাবে কাজ করব।”

মোদি সরকার সমর্থনে ত্রিপুরার NCPI -তে যুক্ত হলেন ২০ তৃণমূল সাংসদ

মোদি সরকার সমর্থনে ত্রিপুরার NCPI -তে যুক্ত হলেন ২০ তৃণমূল সাংসদ

June 14, 2026
 

তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) সংসদীয় দলে ভাঙন এবার নতুন মোড় নিল। রাজনৈতিক সূত্রের খবর, দলের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ সরাসরি বিজেপি-তে যোগ না দিয়ে ত্রিপুরার (Tripura) রাজনৈতিক দল ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া (NCPI)-তে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর ফলে পশ্চিমবঙ্গে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হওয়ার জোর সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

রবিবার দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে বৈঠক করেন বিদ্রোহী সাংসদরা। পরে তাঁরা লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। সূত্রের দাবি, ওই বৈঠকেই NCPI-র ব্যানারে নতুন রাজনৈতিক পরিচয়ে সংসদে স্বীকৃতি চাওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।


বিদ্রোহী শিবিরে রয়েছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, দেব (দীপক অধিকারী), সায়নী ঘোষ, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, মালা রায়, জুন মালিয়া, শতাব্দী রায়, ইউসুফ পাঠান-সহ একাধিক সাংসদ। তাঁদের অনেকেই ইতিমধ্যে তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছেন।

এদিন লোকসভার স্পিকার ওম বিরলার সঙ্গে বৈঠকের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তিনি বলেন, “আমরা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস (AITC)-এর টিকিটে নির্বাচিত ২০ জন সাংসদ আজ স্পিকারের সঙ্গে দেখা করেছি। আমরা একটি চিঠি জমা দিয়ে লোকসভায় আলাদা আসন ও স্বতন্ত্র গোষ্ঠী হিসেবে বসার অনুমতি চেয়েছি। এই ২০ জন সাংসদ আমাদের দলের মোট সাংসদ সংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি। আমরা ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি (NCPI)-র সঙ্গে একীভূত হচ্ছি। আগামী দিনে দেশের স্বার্থে কাজ করব এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে এনডিএ-র সঙ্গে মিলিতভাবে কাজ করব।”

পাশাপাহি আরও এক রেবেল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমরা ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি (NCP)-তে যোগ দিয়েছি। এটি একটি রাজনৈতিক দল এবং স্বীকৃত আঞ্চলিক দল। আমরা এই দলের সঙ্গেই একীভূত হয়েছি।… আসল তৃণমূল কংগ্রেস কোনটি, সেই সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত আদালতেই হবে।”

প্রসঙ্গত, রাজনৈতিক মহলের মতে, দলত্যাগ-বিরোধী আইনের সম্ভাব্য জটিলতা এড়াতেই এই কৌশল। বিদ্রোহী সাংসদরা প্রথমে নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ বা পৃথক গোষ্ঠী হিসেবে প্রতিষ্ঠার রাস্তা ভাবলেও, আইনি বাধা ও সংসদীয় স্বীকৃতির প্রশ্নে নতুন বিকল্প খোঁজা হয়।

দিল্লি সূত্রে খবর, একাধিক নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত বাঙালি জনভিত্তি এবং এনডিএ-ঘনিষ্ঠ অবস্থানের কারণে NCPI-কে বেছে নেওয়া হয়েছে।

কী এই NCPI?

ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া (NCPI) ২০২৩ সালে ত্রিপুরায় নিবন্ধিত হয়। দলটি মূলত ত্রিপুরা, অসম এবং পূর্ব ভারতের কিছু এলাকায় সাংগঠনিক কার্যকলাপ চালায়। জাতীয় স্তরে খুব বেশি পরিচিত না হলেও বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ শিবিরের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ বলেই রাজনৈতিক মহলে পরিচিত।

বিদ্রোহী সাংসদরা যোগ দিলে প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গেও সংগঠন বিস্তার করবে NCPI। সূত্রের দাবি, রাজ্যে দলীয় কার্যালয় খোলার প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে।

দিল্লির বৈঠকের পর স্পিকারের কাছে পাঠানো চিঠিতে বিদ্রোহী সাংসদরা NCPI সদস্য হিসেবে সংসদীয় স্বীকৃতির আবেদন জানিয়েছেন বলে খবর। যদিও এ বিষয়ে এখনও কোনও সরকারি ঘোষণা হয়নি। তবে তৃণমূলের ভাঙন, এনডিএ-র সঙ্গে সম্ভাব্য সমীকরণ এবং NCPI-র উত্থান, সব মিলিয়ে বাংলার রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Your Opinion

We hate spam as much as you do