Tranding

01:12 AM - 15 Jun 2026

Home / Article / আলিপুরে EVM.পুড়ে গেল! তারপর?

আলিপুরে EVM.পুড়ে গেল! তারপর?

ভারতের নির্বাচনী প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরেই নানা বিতর্কের মধ্যেও একটি মৌলিক বিশ্বাসযোগ্যতা ধরে রেখেছে। সেই বিশ্বাসযোগ্যতার ভিত্তি ছিল প্রতিষ্ঠানগুলির নিরপেক্ষতা এবং স্বচ্ছতা। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বিভিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেই আস্থার জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে।

আলিপুরে EVM.পুড়ে গেল! তারপর?

আলিপুরে EVM.পুড়ে গেল! তারপর?

14 জুন 2026

রাজ্যজুড়ে নানা ঘটনার মধ্যে কয়েকদিন আগে আলিপুরের সরকারি ভবনে সংরক্ষিত প্রায় ৪০০০ ইভিএম আগুনে নষ্ট হওয়ার ঘটনাটি স্বাভাবিক ভাবেই নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

সরকারি সূত্রের দাবি, প্রায় চার হাজার ইভিএম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দমকলমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল ভবনের তৃতীয় ও চতুর্থ তলায়, পরে তা ছড়িয়ে পড়ে সপ্তম ও অষ্টম তলায়, যেখানে ইভিএমগুলি রাখা ছিল। ফরেন্সিক তদন্ত এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। ফলে আগুনের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়।

কিন্তু প্রশ্ন উঠছে অন্য জায়গায়। যখন তদন্ত শুরুই হয়নি, তখন ক্ষতিগ্রস্ত ইভিএমের সংখ্যা সম্পর্কে এত নির্দিষ্ট তথ্য কী ভাবে জানা গেল? আগুনের বিস্তার সম্পর্কে যে বিবরণ দেওয়া হয়েছে, তা নিয়েও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। তার থেকেও বড় কথা, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে যখন ভোট গণনা নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছিল, তখন এই ঘটনাটি অবধারিত ভাবেই জনমনে সংশয় তৈরি করবে।

গণতন্ত্রে সংশয় নিজে সমস্যা নয়। সমস্যার সূত্রপাত হয় যখন সেই সংশয়ের নিরসনে পর্যাপ্ত তথ্য সামনে আসে না।

ভারতের নির্বাচনী প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরেই নানা বিতর্কের মধ্যেও একটি মৌলিক বিশ্বাসযোগ্যতা ধরে রেখেছে। সেই বিশ্বাসযোগ্যতার ভিত্তি ছিল প্রতিষ্ঠানগুলির নিরপেক্ষতা এবং স্বচ্ছতা। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বিভিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেই আস্থার জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা, তদন্তকারী সংস্থার সক্রিয়তা, বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ কিংবা দলবদলের রাজনীতি— প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রশ্ন উঠেছে। অনেক ক্ষেত্রে সেই প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর মেলেনি।

মধ্যপ্রদেশের সাম্প্রতিক রাজ্যসভা নির্বাচন তার একটি উদাহরণ। কংগ্রেস প্রার্থী মীনাক্ষী নটরাজনের মনোনয়ন বাতিল হওয়া থেকে শুরু করে পরবর্তী রাজনৈতিক ফলাফল— সব কিছুই আইনি কাঠামোর মধ্যে ঘটেছে। কিন্তু আইনগত বৈধতা এবং জনমতের আস্থা সব সময় এক জিনিস নয়। গণতন্ত্র কেবল নিয়মের উপর দাঁড়িয়ে থাকে না; দাঁড়িয়ে থাকে সেই নিয়মের প্রতি মানুষের বিশ্বাসের উপরও।

একই কথা দলবদলের রাজনীতির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। সাংবিধানিক বিধান মেনে সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়ক বা সাংসদ দল পরিবর্তন করতে পারেন। কিন্তু যখন একের পর এক ঘটনায় বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে এবং শাসক দলের শক্তি বৃদ্ধি পায়, তখন জনমনে প্রশ্ন জাগা অস্বাভাবিক নয়। সেই প্রশ্নের উত্তর রাজনৈতিক বক্তব্যে নয়, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই দিতে হয়।

আলিপুরের আগুনের ঘটনাটিও সেই বৃহত্তর প্রেক্ষাপটের বাইরে নয়। এখানে মূল প্রশ্ন ইভিএম প্রযুক্তির নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে নয়। প্রশ্ন হল তথ্যের স্বচ্ছতা এবং তদন্তের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে। কী ভাবে আগুন লাগল? নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেন ব্যর্থ হল? কতগুলি যন্ত্র নষ্ট হয়েছে? সেগুলি কোন কোন নির্বাচনী এলাকার? ফরেন্সিক তদন্ত কী বলছে? এই প্রশ্নগুলির স্পষ্ট উত্তর জনসমক্ষে আসা প্রয়োজন।

বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটতেই পারে। কিন্তু যখন একের পর এক ঘটনাকে ঘিরে একই ধরনের প্রশ্ন জমতে থাকে, তখন কেবল ‘কাকতালীয়’ শব্দটি যথেষ্ট হয় না। তখন প্রয়োজন তথ্য, ব্যাখ্যা এবং জবাবদিহি।

গণতন্ত্রের প্রকৃত শক্তি বিরোধী মতকে নিশ্চুপ করে দেওয়ায় নয়; বরং প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সক্ষমতায়। আলিপুরের আগুন সেই পরীক্ষার সামনে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলিকে আবার দাঁড় করিয়েছে।

Your Opinion

We hate spam as much as you do