Tranding

02:32 AM - 13 Jun 2026

Home / Sports / বর্ণবিদ্বেষ থেকে  অগ্নিমূল‍্য টিকিট, বহু দেশ ভিসা বঞ্চিত বিতর্কের বিশ্বকাপ শুরু

বর্ণবিদ্বেষ থেকে  অগ্নিমূল‍্য টিকিট, বহু দেশ ভিসা বঞ্চিত বিতর্কের বিশ্বকাপ শুরু

বিতর্কের শুরুটা অবশ্যই ইরান- আমেরিকার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে। একটা সময় ইরানকে বিশ্বকাপ খেলতে দেওয়া হবে কিনা সেটা নিয়েই সংশয় ছিল। পরে ইরানকে খেলার অনুমতি দিলেও ভিসা পাননি বহু সাপোর্ট স্টাফ। এমনকী ভিসা দেওয়া হয়নি ইরান ফুটবল কর্তাদেরও। ফুটবলারদেরও মাত্র ২৪ ঘণ্টার ভিসা দেওয়া হয়েছে। ম্যাচের দিন সকালে আমেরিকায় গিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাঁদের ফিরতে হবে মেক্সিকোতে। এমনকী রাতারাতি টিকিট বাতিল হয়েছে ইরান সমর্থকদেরও।

বর্ণবিদ্বেষ থেকে  অগ্নিমূল‍্য টিকিট, বহু দেশ ভিসা বঞ্চিত বিতর্কের বিশ্বকাপ শুরু

বর্ণবিদ্বেষ থেকে  অগ্নিমূল‍্য টিকিট, বহু দেশ ভিসা বঞ্চিত বিতর্কের বিশ্বকাপ শুরু

June 12, 2026

মার্কিন মুলুকে বিশ্বকাপ। দায়িত্বে ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ানি ইনফান্তিনো এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনিতেই ট্রাম্পের খামখেয়ালিপনা গোটা বিশ্বে সুপ্রসিদ্ধ। ইনফান্তিনোও কম বিতর্কিত নন। স্বাভাবিকভাবেই বিশ্বকাপ শুরুর আগেই নানাবিধ বিতর্কে জর্জরিত মেগা টুর্নামেন্ট।

 

বিশ্ব-ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা ফিফা ১৯৩০ সালে মাত্র ১৩টি দেশকে নিয়ে দক্ষিণ আমেরিকার উরুগুয়ে-তে ফুটবলের যে মহাযজ্ঞ শুরু করেছিল, প্রায় শতক পূর্তির দোরগোড়ায় তার আর একটি নতুন অধ্যায় রচিত হতে চলেছে।

 

বিতর্কের শুরুটা অবশ্যই ইরান- আমেরিকার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে। একটা সময় ইরানকে বিশ্বকাপ খেলতে দেওয়া হবে কিনা সেটা নিয়েই সংশয় ছিল। পরে ইরানকে খেলার অনুমতি দিলেও ভিসা পাননি বহু সাপোর্ট স্টাফ। এমনকী ভিসা দেওয়া হয়নি ইরান ফুটবল কর্তাদেরও। ফুটবলারদেরও মাত্র ২৪ ঘণ্টার ভিসা দেওয়া হয়েছে। ম্যাচের দিন সকালে আমেরিকায় গিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাঁদের ফিরতে হবে মেক্সিকোতে। এমনকী রাতারাতি টিকিট বাতিল হয়েছে ইরান সমর্থকদেরও।

বিশ্বকাপে বিতর্কের আর এক কারণ টিকিটের অগ্নিমূল্য। বিশ্বকাপের টিকিটের দাম আকাশছোঁয়া। প্রথম সারির টিকিটের দাম প্রায় ১০ লক্ষ। তৃতীয় সারির ম্যাচ দেখতেও খরচ ৫ লক্ষ।
ট্রাম্পের ভিসা বিতর্ক অবশ্য শুধু ইরানে সীমাবদ্ধ নয়। ভিসা নীতির জন্য সোমালিয়ার রেফারি ওমর আবদুলকাদির আরতানকে বিশ্বকাপে খেলানোর সুযোগ দেয়নি মার্কিন প্রশাসন। শুধু তাই নয়, সেনেগাল-উজবেকিস্তান ফুটবলাদের সঙ্গেও 'জঙ্গি'র মতো আচরণ করা হয়েছে। তাঁদের রীতিমতো জঙ্গিদের কায়দায় তল্লাশি করা হয়। আনা হয় পুলিশ কুকুরও। ইরাকের ফুটবলার আয়মেন হুসেঙ্কে টানা ৭ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা নিয়েও বিতর্ক হয়েছে। ফুটবলার ও সমর্থকদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মেসি-সহ আর্জেন্টিনা ফুটবলারদের পাসপোর্টের তথ্য 'লিক' হয়েছে। সমস্যা হল বহু ক্ষেত্রেই নিষ্ক্রিয় ফিফা।

বিশ্বকাপে বিতর্কের আর এক কারণ টিকিটের অগ্নিমূল্য। বিশ্বকাপের টিকিটের দাম আকাশছোঁয়া। প্রথম সারির টিকিটের দাম প্রায় ১০ লক্ষ। তৃতীয় সারির ম্যাচ দেখতেও খরচ ৫ লক্ষ। সঙ্গে বিপুল যাতায়াত খরচ ও হোটেলের ভাড়া। যা পরিস্থিতি তাতে একবার বিশ্বকাপ দেখতে গেলে সর্বস্বান্ত হতে হবে ফুটবলপ্রেমীদের। টিকিট মূল্য নিয়ে তদন্তও শুরু করেছে মার্কিন আইন বিভাগ। এর বাইরে মানবাধিকার প্রশ্নও উঠছে। বহু মানবাধিকার সংস্থার হুঁশিয়ারি, বিশ্বকাপের মধ্যে বাড়তে পারে শ্বেতাঙ্গ-কৃষ্ণাঙ্গ বিবাদ। পরিবেশ নিয়েও উদ্বেগের খবর শোনা গিয়েছে। তবে ট্রাম্প বা ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ানি ইনফান্তিনো কেউই এসব বিতর্কে পাত্তা দিতে রাজি নন। তাঁদের সাফ কথা, এটাই সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বিশ্বকাপ হতে চলেছে।

প্রথমত, পৃথিবীর সব ক’টি মহাদেশ থেকে মোট আটচল্লিশটি দেশের জাতীয় ফুটবল দল ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত অংশ নিচ্ছে আমেরিকা, মেক্সিকো ও ক্যানাডার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২৩তম ফিফা বিশ্বকাপে। আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে এবারই প্রথম ৩২টি দলের পরিবর্তে ৪৮টি দল অংশ নিচ্ছে এবং তার ফলে ম্যাচের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৪টিতে।

দ্বিতীয়ত, উত্তর আমেরিকার তিনটি প্রতিবেশী দেশের তিনটি শহরের স্টেডিয়ামে পৃথক ভাবে তিনটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হলো খেলা শুরু হওয়ার দেড় ঘণ্টা আগে। ছিল সঙ্গীতের মূর্ছনা, নানা চোখ-ধাঁধানো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এ ছাড়াও মেক্সিকো সিটির অ্যাজ়টেকা (নতুন নাম বানোর্তে) স্টেডিয়াম এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে যাচ্ছে তিন-তিনটি বিশ্বকাপের (১৯৭০, ১৯৮৬ এবং ২০২৬) ম্যাচ আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত থাকার সুবাদে।

আবার একই সঙ্গে ইউক্রেন-রাশিয়া ও ইজ়রায়েল-ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের আবহে নিত্যনৈমিত্তিক অনিশ্চয়তা অতিক্রম করে বিশ্বকাপ সফল ভাবে অনুষ্ঠিত করা বিরাট চ্যালেঞ্জ। কাজেই এই বিশাল আয়োজনের পাশাপাশি টুর্নামেন্টটি ঘিরে শুরু হয়েছে নানা রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক।

কঠোর সীমান্ত-নীতি

টুর্নামেন্টের অন্যতম আয়োজক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অভিবাসন এবং ভিসা নীতি নিয়ে বেশ কিছু দিন ধরে বিশ্ব জুড়ে তীব্র সমালোচনা হচ্ছে। মার্কিন প্রশাসনের তরফে ৩৯টি দেশের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এর মধ্যে বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করা ইরান ও হাইতি-র উপর সম্পূর্ণ এবং সেনেগাল ও আইভরি কোস্ট-এর উপর আংশিক নিষেধাজ্ঞা আছে। এ ছাড়াও আছে ভিসা নীতির আর্থিক জটিলতা। প্রায় ৫০টি দেশের পর্যটকদের জন্য ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলারের বাধ্যতামূলক ভিসা বন্ড ডিপোজ়িট নীতি চালু করা হয়, যা বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর সমর্থকদের ক্ষোভের কারণ। পরে অবশ্য বিশ্বকাপের টিকিটধারীদের এই বন্ড থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

ইরান যুদ্ধ

প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাস বলছে, অলিম্পিক গেমস, ফুটবল বিশ্বকাপ ইত্যাদি এমনই আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা যার আয়োজনে সহজেই কোপ পড়ে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে। অনেক সময় সেগুলো আর বাস্তবে রূপায়িত করা যায় না। ১৯৪০ ও ১৯৪৪ সালে যেমন কোনও অলিম্পিক গেমস হয়নি, তেমনই আবার ১৯৪২ ও ১৯৪৬-এ ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজন করা যায়নি। ইরান ও ইউক্রেন-এর যুদ্ধ-পরিস্থিতি সব সময়ই আয়োজকদের কপালে ভাঁজ ফেলছে। এবারের বিশ্বকাপে আমেরিকা-ইরান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে তাদের অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হচ্ছে। সম্প্রতি ফিফা-র হস্তক্ষেপে ইরান দলের শিবির স্থানান্তরিত হয়েছে। ভিসার জটিলতা এবং নিরাপত্তার কারণে ইরানের জাতীয় ফুটবল দল তাদের পূর্বনির্ধারিত আমেরিকার অ্যারিজ়োনায় ক্যাম্প বাতিল করতে বাধ্য হয়। অতঃপর তারা তাদের প্রশিক্ষণ ক্যাম্প মেক্সিকোর টিহুয়ানাতে স্থানান্তরিত করেছে।

বাণিজ্যের চাপ

আর একটি সমস্যা হলো আকাশছোঁয়া টিকিটের দাম। সমালোচকদের মতে, ফিফা এই বিশ্বকাপকে স্রেফ একটি মুনাফা অর্জনের মেশিনে পরিণত করেছে। টিকিটের মাত্রাতিরিক্ত মূল্যের জন্য সাধারণ ফুটবল ভক্তদের পক্ষে এবার গ্যালারিতে বসে খেলা দেখা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচের টিকিটের সর্বনিম্ন মূল্য আগের তুলনায় প্রায় ৭ গুণ বেশি, যা নিয়ে ফুটবল সমর্থকদের বিভিন্ন গোষ্ঠী ফিফার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপও করেছে।

সাধারণত সারা বিশ্বে ফিফা-র ‘ফ্যান জ়োন’ বা ‘ফ্যান পার্ক’গুলো বিনামূল্যে সবার জন্য উন্মুক্ত থাকে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু আয়োজক শহর এই ‘ফ্যান পার্ক’গুলোতে প্রবেশের জন্য ২০০ থেকে ৩০০ ডলার দামের টিকিটের প্রথা চালু করার পরিকল্পনা করে। ব্যাপক সমালোচনার মুখে নিউইয়র্ক-সহ কয়েকটি শহর এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলেও অনেক শহরে এখনও ‘প্রিমিয়াম’ সেকশনের নামে চড়া ফি বহাল রাখা হয়েছে।

রাজনৈতিক বিতর্ক

বিশ্বকাপের ঠিক আগের মুহূর্তে ফ্রান্স দলের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে ফ্রান্সের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং অতি-দক্ষিণপন্থীদের উত্থান নিয়ে মন্তব্য করে বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। এমবাপে সতর্ক করেছেন যে, অতি-দক্ষিণপন্থী দলের নির্বাচনী জয় ফ্রান্সের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। ফুটবলারের এই রাজনৈতিক মন্তব্য ফরাসি রাজনীতিতে ঝড় তুলেছে এবং আমেরিকার ম্যাসাচুসেটস-এ ফরাসি ফুটবল শিবিরের নিরাপত্তা ও পরিবেশকে কিছুটা উত্তপ্ত করে তুলেছে।

থিম সং

খেলার মাঠের বাইরেও বিনোদন জগতের কিছু বিষয় নিয়ে তুমুল বিতর্ক চলছে। গায়িকা শাকিরাকে কেন্দ্র করে বর্ণবাদের অভিযোগ উঠেছে। পপ তারকা শাকিরা ২০২৬ বিশ্বকাপের অফিসিয়াল গান ‘দাই দাই’-এর একটি ১০ সেকেন্ডের প্রমোশনাল ভিডিও রিলিজ করার পর বর্ণবাদের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন। ভিডিয়োটিতে আফ্রিকান শিশুদের সাথে মরুভূমি ও অনুন্নত গ্রামের ব্যাকগ্রাউন্ড দেখানোর কারণে নেটিজ়েন-দের একাংশ দাবি করেছে যে, শাকিরা আফ্রিকা মহাদেশকে নিয়ে পুরোনো ও অবমাননাকর সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রচার করছেন। বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচের ‘হাফটাইম শো’ পরিচালনা করার জন্য পরিচালক হ্যামিশ হ্যামিল্টন-এর নাম আসায় কে-পপ ব্যান্ড বিটিএস-এর ভক্তরা ক্ষুব্ধ। ভক্তদের অভিযোগ, এই পরিচালক লাইভ শো চলাকালীন শিল্পীদের চেয়ে স্টেডিয়ামের ড্রোন শট বা দর্শকদের বেশি দেখান, যা আর্টিস্টদের পারফরম্যান্সের ক্ষতি করে।

তিনটি বিশাল দেশ জুড়ে খেলা হওয়ার কারণে দলগুলি ও তাদের সমর্থকদের হাজার হাজার কিলোমিটার ভ্রমণ করতে হবে। এর ফলে বিপুল পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ হবে, যা জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে কাজ করা সংস্থাগুলোর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে সৃষ্ট ‘জেট ফুয়েল’ বা বিমান জ্বালানির সঙ্কটের আশঙ্কাও যাতায়াতের খরচকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

ভারত ও বিশ্বকাপ

পৃথিবীর বৃহত্তম গণতন্ত্র এবং বিপুল জনসংখ্যার দেশ হয়েও ভারতবাসীকে সন্তুষ্ট থাকতে হবে টিভিতে বা ইন্টারনেটে খেলা দেখে। সুদূরতম কল্পনাতেও ভারতীয়রা ভাবতে পারে না, মেসি রোনাল্ডো এমবাপে-দের সঙ্গে টক্কর দিচ্ছে ভারতের সুনীলরা।

অতীতে এমন সুযোগ একবারই এসেছিল ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসে। ১৯৫০ সালে এশিয়া মহাদেশ থেকে একমাত্র দেশ হিসেবে দক্ষিণ আমেরিকার ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার। কারণ যোগ্যতা অর্জনকারী তিনটি দেশ ফিলিপিন্স, ইন্দোনেশিয়া ও বর্মা প্রতিযোগিতা থেকে আগেই নাম তুলে নিয়েছিল। ভাগ্যের পরিহাস, ভারতও শেষ পর্যন্ত অংশ নিতে পারেনি।

শোনা যায়, তিনটি মুখ্য কারণে ভারত দল পাঠাতে পারেনি। খালি পায়ে খেলতে অভ্যস্ত ভারতীয় খেলোয়াড়েরা কতটা মানিয়ে নিতে পারবে বুট পরে, সুদূর দেশে যাত্রার ক্লান্তি কাটিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে, তা ছিল অনিশ্চিত। তবে এই কারণটিকে খুব সঙ্গত মনে হয় না। মূল কারণ ছিল বিপুল খরচের বোঝা, যদিও ফিফা-র তরফে অনেক রকমের সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েচিল। ভারত তখন সদ্য স্বাধীন— নতুন সরকার, আর্থিক অবস্থা উন্নত করার কঠিন পরীক্ষার কাজ সবে শুরু হয়েছে। এর বাইরে আরও একটি কারণের কথা বলা হয়। তৎকালীন ফুটবল কর্মকর্তাদের কাছে বিশ্বকাপের তুলনায় অলিম্পিক গেমস-এর আকর্ষণ ছিল বেশি।

এই মুহূর্তে কোথায় দাঁড়িয়ে ভারতীয় ফুটবল? আন্তর্জাতিক তালিকায় ভারতের সব থেকে ভালো র‍্যাঙ্কিং ছিল ৯৪, সেটা ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে। একুশ শতকে ভারত ৯৬তম হয়েছিল ২০১৭ সালের জুলাইতে। ভারতের সর্বনিম্ন র‍্যাঙ্কিং হলো ১৭৩তম। তা ছিল ২০১৫ সালের মার্চে। বর্তমানে ভারতে মোট ১১১৮.৮২ পয়েন্ট নিয়ে ১৩৬-তম স্থানে। যদিও মেয়েদের ফুটবল দলের ক্ষেত্রে তাদের র‍্যাঙ্কিং ছেলেদের তুলনায় আরও আশা জাগায়— সম্প্রতি ১২১৫.১১ পয়েন্ট নিয়ে তারা ৬৯তম। ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে মেয়েদের দল ছিল ৪৯তম স্থানে। আর্থিক ও সামরিক সহ নানা শক্তির নিরিখে যখন ভারত উন্নতির দাবি করছে প্রতিনিয়ত, খেলাধূলার মানচিত্রে সে দেশের করুণ উপস্থিতি ভীষণ অবমাননাকর। মনে রাখতে হবে, যেখানে রাষ্ট্রপুঞ্জে ১৯৩টি সদস্য আছে, সেখানে ফিফা-তে সব মহাদেশ মিলিয়ে ৬টি আঞ্চলিক কনফেডারেশন থেকে ২১১টি দেশ প্রতিনিধিত্ব করে থাকে। তাই ফুটবল-প্রেমীদের আবেদন রয়েছে কেন্দ্র থেকে রাজ্য, সব সরকারের কাছে— যেন ‘পড়ালেখা’র সঙ্গে সাথে ‘খেলাপড়া’ শব্দবন্ধ হয়ে ওঠে নতুন দিশার প্রতীক। নতুন ভাবে স্বপ্ন দেখি, ঘরে ঘরে, পাড়ায় পাড়ায়— হোক ফুটবল জেলায় জেলায়। নদীর চরে, আলের ধারে, ফুটবল চাই অলিগলিতে।

Your Opinion

We hate spam as much as you do