১৯৯৮ সালে জিদানের জোড়া হেডে ফ্রান্সের বিশ্বকাপ জয় অনেকেরই মনে আছে। কিন্তু জাপানিদের সাফাই অভিযান সম্পর্কে অনেকেই বিস্মৃত। সংশ্লিষ্ট বিশ্বকাপেই এই সাধুবাদ পাওয়ার উপযোগী কার্যক্রম শুরু করেন তাঁরা। চার বছর আগের কথাই ধরা যাক। জার্মানিকে ২-১ হারিয়ে আনন্দে উদ্বেলিত খলিফা আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে উপস্থিত জাপানি সমর্থকেরা। জয় উদযাপন শেষ হতেই সেই চিরাচরিত ভূমিকায় তাঁরা অবতীর্ণ হয়ে পড়েন। সম্মিলিত ভাবে স্টেডিয়ামকে ঝকঝকে তকতকে করে তোলেন।
সাফাই অভিযানে অনন্য নজির সূর্যোদয়ের দেশের
উত্থান দাশ ২৩জুন ২০২৬
গত শতকের চল্লিশের দশকের গোড়ার দিক। ইম্পেরিয়াল জাপ বাহিনীর তান্ডবে বিপর্যস্ত মাৰ্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে শুরু করে চিয়াং কাইসেকের চীন। চীনের একেকটা গ্রাম গণিকা পল্লীতে পরিণত করে ফেলছে হানাদার বাহিনী। একের পর এক শহর ছারখার হয়ে যাচ্ছে। রেহাই পাচ্ছে না আবালবৃদ্ধবনিতা।প্রধানমন্ত্রী হিদেকো তোজো ভাষণের শেষে স্লোগান দিচ্ছেন ‘তেন্ন হিকা বানজাই।’ যার ভাষান্তর করলে মানে দাঁড়ায় ‘সম্রাট দীর্ঘজীবি হোন।’
অতঃপর, টেমস দিয়ে অনেক জল গড়িয়ে গিয়েছে। ক্রমে ক্রমে বিশ্বের সবচেয়ে শৃঙ্খলা পরায়ণ ও পরিশ্রমী জাতির তকমা অর্জন করেছে জাপানিরা। ভূমিকম্প হোক বা সুনামি। দুর্যোগের কয়েক দিনের মধ্যেই অবিশ্বাস্য ভাবে সমগ্র জাপান স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে আসে। সৌজন্যে অতিমানবীয় পরিশ্রম ও শৃঙ্খলা। উপরোক্ত তকমার জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত বিশ্বকাপ। বিগত ২৮ বছর ধরে যে স্টেডিয়ামেই জাপানিরা গিয়েছেন, খেলার পর সাফাই অভিযানে নেমেছেন। জীবিত থাকলে যে নতুন স্লোগান তোজোর গলায় শোনা যেত, তা হল, ‘তাৎসু তরি আতো ও নিগোসাজু।’ অর্থাৎ একটি পাখি কিছুই পিছনে ফেলে রেখে যায় না
১৯৯৮ সালে জিদানের জোড়া হেডে ফ্রান্সের বিশ্বকাপ জয় অনেকেরই মনে আছে। কিন্তু জাপানিদের সাফাই অভিযান সম্পর্কে অনেকেই বিস্মৃত। সংশ্লিষ্ট বিশ্বকাপেই এই সাধুবাদ পাওয়ার উপযোগী কার্যক্রম শুরু করেন তাঁরা। চার বছর আগের কথাই ধরা যাক। জার্মানিকে ২-১ হারিয়ে আনন্দে উদ্বেলিত খলিফা আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে উপস্থিত জাপানি সমর্থকেরা। জয় উদযাপন শেষ হতেই সেই চিরাচরিত ভূমিকায় তাঁরা অবতীর্ণ হয়ে পড়েন। সম্মিলিত ভাবে স্টেডিয়ামকে ঝকঝকে তকতকে করে তোলেন।
এমনকি দলের খেলা না থাকলেও তাঁরা দায়িত্ব ভোলেননি। কাতার বনাম ইকুয়েডরের উদ্বোধনী ম্যাচ শেষেও তাঁরা ফের এই মহানুভবতার পরিচয় দেন। জাপানিদের এই দায়িত্ববোধের শিকড় অনেক গভীরে। ওসাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সোসিওলজির অধ্যাপক স্কট নর্থ ব্যাখ্যা করেছেন, ‘ফুটবল ম্যাচের পর সাফাই অভিযানের নেপথ্যে রয়েছে বিদ্যালয় থেকে প্রাপ্ত মৌলিক আচরণের শিক্ষা। জাপানে প্রতিটি বিদ্যালয়ে, ছাত্র - ছাত্রীদের শ্রেণীকক্ষ ও অন্যান্য কক্ষ পরিষ্কার করতে হয়। শৈশব থেকেই এই ধরণের পরিমণ্ডলে বেড়ে ওঠার ফলে এই আচরণ বিধি সমগ্র জাতির রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করে ফেলে। এই ধরণের সাফাই অভিযানের মাধ্যমে তাঁদের গর্ব করার মতো জীবনযাত্রা সমগ্র বিশ্বের সামনে মেলে ধরে জাপানিরা।’ সত্যি তো। গর্ব করার মতো বিষয়ই বটে। ১৯৯৮ সাল থেকে যে আরও একটি বিশ্বকাপ নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে জিতে চলেছেন তাঁরা।
We hate spam as much as you do