মামদানি জানান, তিন মাসের এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতে ইতিমধ্যেই হাজার হাজার নিরীহ বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। পাশাপাশি নিহত হয়েছেন ১৩ জন মার্কিন সেনাসদস্যও। যুদ্ধের আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে নিউইয়র্কের এই মেয়র অভিযোগ করেন, মার্কিন কংগ্রেসের কোনো আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়াই এই সংঘাতের সূচনা করা হয়েছে।
অকারন ইরান যুদ্ধে বিপুল মার্কিন ক্ষতি বন্ধ করো ট্রাম্প, কড়া বার্তা মামদানির
৩০ মে ২০২৬
চলমান আমেরিকা-ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে এবার সরাসরি কড়া ও স্পষ্ট অবস্থান নিলেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, এই সংঘাতের পুরো বোঝা বহন করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে, অথচ যুদ্ধের এই হঠকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ক্ষমতাবানরাই। তাঁর মতে, এই যুদ্ধ শুধু যে মধ্যপ্রাচ্যে প্রাণহানি বাড়াচ্ছে তা-ই নয়, একই সঙ্গে আমেরিকার সাধারণ ও শ্রমজীবী মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়কেও চরম সংকটে ফেলছে।
শুক্রবার (২৯ মে, ২০২৬) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'এক্স'-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে মেয়র মামদানি মার্কিন প্রশাসনের এই যুদ্ধংদেহী নীতির তীব্র সমালোচনা করেন।
তিনি লেখেন, "আজ থেকে ঠিক তিন মাস আগে এমন একটি যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, যার পক্ষে কোনো সাধারণ নাগরিক ভোট দেয়নি। অথচ এর চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে এমন সব মানুষকে, যাদের এই বিষয়ে কোনো মতামত দেওয়ার ন্যূনতম সুযোগটুকুও ছিল না।"
মামদানি জানান, তিন মাসের এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতে ইতিমধ্যেই হাজার হাজার নিরীহ বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। পাশাপাশি নিহত হয়েছেন ১৩ জন মার্কিন সেনাসদস্যও। যুদ্ধের আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে নিউইয়র্কের এই মেয়র অভিযোগ করেন, মার্কিন কংগ্রেসের কোনো আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়াই এই সংঘাতের সূচনা করা হয়েছে।
যুদ্ধের কারণে খোদ আমেরিকার অভ্যন্তরে তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক সংকটের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, "দেশজুড়ে মানুষ এখন পেট্রোল, নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য ও অন্যান্য সেবার পেছনে বাড়তি খরচের তীব্র চাপ অনুভব করছেন। যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারের অস্থিতিশীলতায় সাধারণ পরিবারগুলোর মাসিক বাজেট সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে।"
ক্ষোভ প্রকাশ করে জোহরান মামদানি আরও বলেন, "বিদেশে ঝরে পড়া প্রতিটি নিরীহ প্রাণ এবং আমেরিকার শ্রমজীবী মানুষের পকেট থেকে বেরিয়ে যাওয়া প্রতিটি অতিরিক্ত ডলারের পেছনে দায়ী মূলত এই ‘বেপরোয়া সিদ্ধান্ত’। যারা যুদ্ধের সিদ্ধান্ত নেয়, তারা নিজেরা কখনও এর প্রকৃত মাশুল দেয় না; বরং সেই অদৃশ্য বোঝা আজীবন টানতে হয় সাধারণ মানুষকেই।"
পোস্টের শেষাংশে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিন থেকেই তিনি এর তীব্র বিরোধিতা করে আসছেন এবং এখনো নিজের অবস্থানে অনড় আছেন। বিশ্বশান্তি ও বৈশ্বিক অর্থনীতির স্বার্থে এই যুদ্ধ অবিলম্বে বন্ধ করার জোর দাবি জানিয়েছেন নিউইয়র্কের এই শীর্ষ জনপ্রতিনিধি।
We hate spam as much as you do