বুধবার দুপুরে ফ্ল্যাটের নীচ থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেহ উদ্ধার হয় অনীক দত্তর (Anik Dutta Death)। তাঁকে ঢাকুরিয়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরিচালকের মৃত্যু ঘিরে রহস্য বাড়ছে। এর মধ্যেই হোমিসাইড শাখার তদন্তকারীরা ঘটনাস্থলে গেলে ছাদ থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেন তাঁরা।
ছাদ থেকে পড়ে পরিচালক অনীক দত্তের আকস্মিক মৃত্যু, মিলল সুইসাইড নোট!
27 May 2026
গড়িয়াহাটের চারতলা ফ্ল্যাটের ছাদ থেকে পড়ে রহস্যমৃত্যু পরিচালক অনীক দত্তর (Anik Dutta Death)। তদন্তকারীরা ছাদে একটি সুইসাইড নোট (Suicide Note) পেয়েছেন, অনুমান করা হচ্ছে, আত্মঘাতী হয়েছেন পরিচালক। তবে নিশ্চিত হতে সেই চিঠির সঙ্গে হাতের লেখা মিলিয়ে দেখা হবে বলে জানা যাচ্ছে।
বুধবার দুপুরে ফ্ল্যাটের নীচ থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেহ উদ্ধার হয় অনীক দত্তর (Anik Dutta Death)। তাঁকে ঢাকুরিয়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরিচালকের মৃত্যু ঘিরে রহস্য বাড়ছে। এর মধ্যেই হোমিসাইড শাখার তদন্তকারীরা ঘটনাস্থলে গেলে ছাদ থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেন তাঁরা।
জানা গিয়েছে, ওই নোটে লেখা ছিল, "এই ঘটনার জন্য কেউ দায়ী না।" এর থেকেই অনুমান করা হচ্ছে পরিচালক আত্মঘাতী হয়েছেন। তবে তদন্ত চলছে। ঠিক কী পরিস্থিতিতে তিনি ছাদ থেকে পড়ে যান, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।
এদিকে, প্রযোজক ফিরদৌসুল হাসান হাসপাতালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানিয়েছেন, বিকেলে অনীক দত্তর মেয়ে ফিরলে দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পিজিতে পাঠানো হবে। রিপোর্ট এলেই পরিচালকের মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
টলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় পরিচালক অনীক দত্ত। বাংলা সিনেমায় ব্যতিক্রমী চিন্তাভাবনা এবং তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গাত্মক উপস্থাপনার জন্য আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছিলেন তিনি। বিজ্ঞাপনের জগৎ থেকে চলচ্চিত্র পরিচালনায় আসা অনীক দত্তর প্রথম ছবি ২০১২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’। মুক্তির পরই ছবিটি দর্শকমহলে বিপুল সাড়া ফেলে। ভৌতিক আবহের আড়ালে সমাজ ও সময়কে ব্যঙ্গ করার অভিনব ভাষা তাঁকে বাংলা ছবির অন্যতম স্বতন্ত্র নির্মাতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা দেয়।
সত্যজিৎ রায়ের জন্মশতবর্ষে তাঁর পরিচালিত ছবি ‘অপরাজিত’ (২০২২) জায়গা পায়নি নন্দনে। এ নিয়ে জলঘোলাও হয়েছে বিস্তর। সমাজ ও সাম্প্রতিক রাজনীতির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সমালোচনা করায় শাসকের রোষানলে পড়েছেন তিনি। সে জন্যই নন্দনে জায়গা পায়নি তাঁর ছবি। এই তত্ত্বও উঠে এসেছে সমাজের একাংশে। আবার একাংশের মতে বামপন্থী মনোভাবাপন্ন হওয়ার জন্যই রাজ্যের শাসকদল তাঁকে পছন্দ করেন না। এ রকম পরিস্থিতিতে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন অনীক। সেখানে তিনি পরিষ্কার জানিয়েছেন নিজের রাজনৈতিক অবস্থান। নিজের মনোভাবের কথা ব্যক্ত করে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন কেন কোনও রাজনৈতিক দলের অনুগামী তিনি হতে পারেন না।
পরিচালকের মৃত্যুসংবাদ সামনে আসতেই শোকপ্রকাশ করেছেন টলিউডের বহু অভিনেতা, পরিচালক ও শিল্পীরা। অনেকেই ইতিমধ্যে হাসপাতালে অনীক দত্তকে শেষবার দেখতে পৌঁছে গেছেন। শেষকৃত্য কবে হবে, তা এখনও পরিবারের তরফে জানানো হয়নি।
We hate spam as much as you do