বাজেটে (West Bengal Budget 2026) সরকারি কর্মীদের জন্যও এসেছে বড় সুখবর দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ১৮ শতাংশ মহার্ঘ ভাতার সঙ্গে অতিরিক্ত ২০ শতাংশ ডিএ যোগ করে মোট ডিএ ৩৮ শতাংশ করা হবে। নতুন হার আগামী ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে। পেনশনভোগীরাও এই অতিরিক্ত সুবিধা পাবেন।
অর্থমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গ বাজেট ২০২৬ পেশ করলেন, কি প্রতিশ্রুতি কি বললেন না?
June 22, 2026
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় সোমবার রাজ্য সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট (West Bengal Budget 2026) পেশ করলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। বাজেটে সরকারি কর্মীদের ডিএ বৃদ্ধি, ১ লক্ষ শূন্যপদে নিয়োগ, বেকার যুবকদের আর্থিক সহায়তা, নতুন বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিক্যাল কলেজ গঠন-সহ একাধিক বড় ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প চালিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দিয়েছে সরকার। ফলে চাকরিপ্রার্থী, সরকারি কর্মী, ছাত্রছাত্রী এবং সাধারণ মানুষের নজর ছিল এদিনের বাজেটের উপর।
বাজেট (West Bengal Budget 2026) । বাজেট বক্তৃতার শুরুতেই অর্থমন্ত্রী জানান, রাজ্যের রাজস্ব ঘাটতি কমে ১.০২ শতাংশ হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের উপর ৮ লক্ষ ৫৫ হাজার কোটি টাকার ঋণের বোঝা রয়েছে। দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ে তোলা এবং মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
কাঁথিতে নতুন পুলিশ জেলা এবং গোপীবল্লভপুরে নতুন মহকুমা তৈরির ঘোষণাও করা হয়েছে। রাজ্যে বর্তমানে চালু থাকা সমস্ত সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প চালু থাকবে বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তবে এই প্রকল্পগুলির সুবিধা যাতে সমাজের আর্থিকভাবে দুর্বল ও প্রান্তিক মানুষের কাছে আরও কার্যকরভাবে পৌঁছায়, সেদিকেও বিশেষ জোর দেওয়া হবে।
বাজেটে (West Bengal Budget 2026) চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বড় ঘোষণা করে অর্থমন্ত্রী জানান, রাজ্যে সরকারি বিভিন্ন দফতরে মোট ১ লক্ষ শূন্যপদে নিয়োগ করা হবে। এর মধ্যে ৩৩ শতাংশ পদ মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। ২০ হাজার পুলিশ কর্মী, ৫০ হাজার শিক্ষক-অধ্যাপক ও অশিক্ষক কর্মী, ১ হাজার ইস্টার্ন ফ্রন্টিয়ার রাইফেল কর্মী-সহ বিভিন্ন বিভাগে নিয়োগ হবে। পাশাপাশি সরকারি চাকরিতে ১০ শতাংশ পদ অগ্নিবীরদের জন্য সংরক্ষণের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।
এছাড়া বাজেটে (West Bengal Budget 2026) সরকারি কর্মীদের জন্যও এসেছে বড় সুখবর দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ১৮ শতাংশ মহার্ঘ ভাতার সঙ্গে অতিরিক্ত ২০ শতাংশ ডিএ যোগ করে মোট ডিএ ৩৮ শতাংশ করা হবে। নতুন হার আগামী ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে। পেনশনভোগীরাও এই অতিরিক্ত সুবিধা পাবেন।
যুব সমাজকে লক্ষ্য করে একাধিক প্রকল্প ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নেওয়া ছাত্রছাত্রীদের এককালীন ৩০ হাজার টাকা দেওয়া হবে। এছাড়া ‘ভরসা’ নামে নতুন প্রকল্প চালু করা হচ্ছে। গ্র্যাজুয়েট বেকাররা মাসে ৩ হাজার টাকা এবং অন্যান্য বেকার যুবক-যুবতীরা মাসে ২ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন।
শিক্ষাক্ষেত্রেও বড় পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। ঝাড়গ্রামে আদিবাসী বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হবে। উত্তরবঙ্গে একটি আইআইটি ও একটি আইআইএম স্থাপনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গে নতুন একটি মেডিক্যাল কলেজ, চারটি নতুন মেডিক্যাল কলেজ এবং একটি AIIMS ও ক্যান্সার হাসপাতাল গড়ে তোলার ঘোষণাও করা হয়েছে। আলিপুরদুয়ার, কালিম্পং, দক্ষিণ দিনাজপুর ও পশ্চিম বর্ধমান জেলায় নতুন মেডিক্যাল কলেজ তৈরি হবে।
মহিলাদের জন্যও একাধিক ঘোষণা করা হয়েছে। অবিবাহিত ছাত্রীদের এককালীন ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হবে। বয়স্ক, বিধবা এবং বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের মাসিক ভাতা ৫০০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া সিভিক ভলান্টিয়ার, গ্রিন পুলিশ ও হোমগার্ডদের মাসিক পারিশ্রমিক ২ হাজার টাকা বাড়ানো হবে। আগামী অগাস্ট মাস থেকেই এই বৃদ্ধি কার্যকর হবে। আশাকর্মীদের মাসিক সম্মানিক ৫ হাজার টাকা এবং পার্শ্বশিক্ষকদের সম্মানিকও ৫ হাজার টাকা বাড়ানোর ঘোষণা করা হয়েছে।
পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রেও একাধিক প্রকল্পের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। কল্যাণীতে দ্বিতীয় বিমানবন্দর তৈরির জন্য জমি খোঁজা হচ্ছে। পাশাপাশি পুরুলিয়া, বালুরঘাট ও মালদায় নতুন বিমানবন্দর গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। কোচবিহার বিমানবন্দরের উন্নয়নও করা হবে। পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নতির লক্ষ্যে শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি এবং আসানসোল-দুর্গাপুরে নতুন মেট্রো পরিষেবা চালুর ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রযুক্তির ক্ষেত্রে রাজ্যে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের প্রসার ঘটাতে ‘পশ্চিমবঙ্গ AI মিশন’ চালু করা হবে। পাশাপাশি রাজ্যের অধীনে নতুন আয়ুশ বিভাগ গঠনের কথাও ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী। স্থানীয় প্রশাসনিক কাঠামো আরও শক্তিশালী করতে শিবমন্দির, গাজোল, চাঁচোল, বাগনান, কোলাঘাট, কামারপুকুর, টুঙ্গিদিঘি-সহ একাধিক নতুন পুরসভা গঠন করা হবে।
এছাড়া অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য ৩৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা করা হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের জন্য মাসিক ৫ হাজার টাকা পেনশনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। যুব সমাজের জন্য একটি স্পোর্টস ইউনিভার্সিটি গড়ে তোলার প্রস্তাবও রাখা হয়েছে বাজেটে।
রাজ্যের আর্থিক চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরলেও কর্মসংস্থান, সামাজিক সুরক্ষা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং পরিকাঠামো উন্নয়নকে সামনে রেখে একাধিক প্রকল্প ও আর্থিক সুবিধার ঘোষণা করেছে সরকার।
যদিও বিরোধীদের পক্ষ থেকে সমালোচনা করে বলা হয়েছে বিজেপির প্রতিশ্রুতি মতো রাজ্যের শাসনক্ষমতায় এলেই ৪৫০ টাকায় রান্নার গ্যাস, সেস-মুক্ত পেট্রোল-ডিজেল, ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিনামূল্যে বিদ্যুৎ— এমন একের পর এক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতির অধিকাংশই আজও বাস্তবের মাটিতে নামেনি।
তার উপর থেকেই যায় আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন আছে বলে বিরোধীদের বক্তব্য। সরকারি শূন্যপদগুলি কতদিনে পূরণ হবে? তার চুড়ান্ত দিন জানানো হয়নি। স্থায়ী চাকরি হবে, নাকি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগই চলবে? বন্ধ শিল্প, বিশেষত বর্তমানে গভীর সংকটে থাকা লক্ষ লক্ষ শ্রমিকের ভবিষ্যৎ চটশিল্প ও ক্ষুদ্র-মাঝারি শিল্প পুনরুজ্জীবনের জন্য নির্দিষ্ট পরিকল্পনা কথা বাজেটে নেই
সরকারি কর্মীদের জন্য ২০% ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা হলেও, কেন্দ্রীয় হারে ডিএ এবং বকেয়া ডিএ-র প্রশ্নে নীরবতা কেন?
কলকাতার স্কুলগুলিতে মিড-ডে মিলের দায়িত্ব ISKCON-এর মতো এনজিওর হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। ধাপে ধাপে তা যদি সারা রাজ্যে ছড়ায়, তাহলে দীর্ঘদিন ধরে এই প্রকল্পে যুক্ত রান্নার কর্মী ও অন্যান্য কর্মীদের ভবিষ্যৎ কী?
We hate spam as much as you do