Tranding

04:28 AM - 02 Mar 2026

Home / Sports / যুবভারতীতে ভাঙচুর বিশৃঙ্খলা , হাজার হাজার টাকার টিকিট কেটেও মেসিকে দেখতে পেলেন না দর্শকরা

যুবভারতীতে ভাঙচুর বিশৃঙ্খলা , হাজার হাজার টাকার টিকিট কেটেও মেসিকে দেখতে পেলেন না দর্শকরা

সকাল ঠিক ১১টা ৩০ মিনিট নাগাদ যুবভারতীতে ঢোকে মেসির গাড়ি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন লুইস সুয়ারেজ় ও রদ্রিগো ডি’পল। ফুটবলপ্রেমীদের উন্মাদনা দেখে হাসিমুখেই ছিলেন মেসি। কিন্তু গাড়ি থেকে নামার পরেই পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। মন্ত্রী, কর্তা ও আমন্ত্রিতদের ভিড়ে প্রায় ঘিরে ফেলা হয় আর্জেন্টিনার তারকাকে। ছবি তোলার হুড়োহুড়িতে তাঁর হাঁটার জায়গাটুকুও প্রায় ছিল না। নিরাপত্তারক্ষীরা চারদিক থেকে ঘিরে রাখলেও গ্যালারি থেকে প্রায় ২০ মিনিট ধরে মেসিকে দেখাই যায়নি।

যুবভারতীতে ভাঙচুর বিশৃঙ্খলা , হাজার হাজার টাকার টিকিট কেটেও মেসিকে দেখতে পেলেন না দর্শকরা

যুবভারতীতে ভাঙচুর বিশৃঙ্খলা , হাজার হাজার টাকার টিকিট কেটেও মেসিকে দেখতে পেলেন না দর্শকরা 

13 December 2025 


যুবভারতীতে ভয়ংকর বিশৃঙ্খলা সাথে চরম হতাশা । হাজার হাজার টাকার টিকিট কেটেও মেসিকে  একটিবারের জন্যও দেখতে না পেয়ে বোতল ছুড়লেন দর্শকরা। 

এদিন মাত্র ২৩ মিনিট মেসি মাঠে থাকেন। তারপর সল্টলেক স্টেডিয়াম থেকে বেরিয়ে যান। যতটুকু সময় মেসি যুবভারতীতে ছিলেন, তখন তাঁকে নিরাপত্তারক্ষীরা এমন ভাবে ঘিরে রেখেছিলেন যে গ্যালারি থেকে দর্শকরা এক পলকের জন্যেও তাঁদের রাজপুত্রকে দেখার সুযোগ পাননি।

এদিকে নিরাপত্তারক্ষীদেরও মেসিকে নিয়ে সেলফি তোলার হিড়িক ছিল। এরপরই মাঠে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। গ্যালারি থেকে বোতল ছোড়া থেকে হোর্ডিং, সব ছিঁড়ে দেন মেসি ভক্তরা। মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে লক্ষ্য করেও বোতল ছোড়া হয়।

 

সকাল ঠিক ১১টা ৩০ মিনিট নাগাদ যুবভারতীতে ঢোকে মেসির গাড়ি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন লুইস সুয়ারেজ় ও রদ্রিগো ডি’পল। ফুটবলপ্রেমীদের উন্মাদনা দেখে হাসিমুখেই ছিলেন মেসি। কিন্তু গাড়ি থেকে নামার পরেই পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। মন্ত্রী, কর্তা ও আমন্ত্রিতদের ভিড়ে প্রায় ঘিরে ফেলা হয় আর্জেন্টিনার তারকাকে। ছবি তোলার হুড়োহুড়িতে তাঁর হাঁটার জায়গাটুকুও প্রায় ছিল না। নিরাপত্তারক্ষীরা চারদিক থেকে ঘিরে রাখলেও গ্যালারি থেকে প্রায় ২০ মিনিট ধরে মেসিকে দেখাই যায়নি।

এর মধ্যেই গ্যালারিতে শুরু হয় অসন্তোষ। ‘উই ওয়ান্ট মেসি’ স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে স্টেডিয়াম। টিকিট কেটে আসা দর্শকদের ভরসা ছিল স্টেডিয়ামের তিনটি জায়ান্ট স্ক্রিন। কিন্তু সেখানেও পরিষ্কার ভাবে মেসিকে দেখা যাচ্ছিল না। মোহনবাগান ও ডায়মন্ড হারবারের প্রাক্তন ফুটবলারদের সঙ্গে পরিচয়পর্ব চলাকালীনও তাঁকে ঘিরে ভিড় কমেনি। পরিস্থিতি সামাল দিতে ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ও প্রধান আয়োজক শতদ্রু দত্তকে মাইক্রোফোনে বারবার অনুরোধ জানাতে হয়। তাতেও কাজ হয়নি।


১১টা ৫২ মিনিট নাগাদ মেসিকে মাঠের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। তখনও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, শাহরুখ খান বা সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় স্টেডিয়ামে পৌঁছননি। মেসি বেরিয়ে যেতেই দর্শকদের ক্ষোভ চরমে পৌঁছয়। মোটা অঙ্কের টিকিট কেটে এসেও প্রিয় ফুটবলারকে দেখতে না পাওয়ায় শুরু হয় ভাঙচুর। গ্যালারির হোর্ডিং ভাঙা হয়, চেয়ার ছুড়ে মারা হয় মাঠে। সেই সময় গ্যালারিতে পুলিশের উপস্থিতি চোখে পড়েনি। মেসিকে না দেখতে পাওয়ার হতাশা ও ক্ষোভ মিলেমিশে গোটা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।

লিয়োনেল মেসিকে এক ঝলক দেখার আশায় ভরা যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন শেষ পর্যন্ত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। প্রত্যাশামতো মেসিকে স্পষ্টভাবে দেখতে না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন দর্শকেরা। গ্যালারির চেয়ার ভেঙে মাঠের দিকে ছোড়া হয়, এমনকি ফেন্সিং ভেঙে কয়েকশো মানুষ মাঠে ঢুকে পড়েন।
 
মেসি যখন মাঠে পা রাখেন সেইসময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। সঙ্গে ছিলেন উদ্যোগপতি শতদ্রু দত্ত। মেসিকে দেখার বেশকিছু 'ভিআইপি' সমর্থক মাঠের মধ্যে ঢুকে পড়েন। তাঁরা মেসিকে কার্যত ঘিরে রাখেন। সেকারণে যাঁরা গ্যালারিতে ছিলেন, তাঁরা কিছুই দেখতে পাচ্ছিলেন না। এমন সময় শতদ্রু দত্ত অনুরোধ করেন, সমর্থকরা যেন মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যান। কিন্তু, কেউই সেকথায় কর্ণপাত করেননি। এরপর পুলিশের কাছে অনুরোধ করা হয়, তাঁরা যেন গোটা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। কিন্তু, পুলিশও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। এরপর মেরেকেটে ২২ মিনিট মাঠে ছিলেন মেসি। তারপর এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি দেখে তিনিও রীতিমতো বিরক্ত হন। শেষপর্যন্ত নিজের গাড়িতে চেপে বেরিয়ে যান। 


কিছুক্ষণের মধ্যে পরিস্থিতি আরও গুরুতর হয়ে ওঠে। গ্যালারি থেকে কার্যত লাফ দিয়ে সমর্থকরা মাঠের মধ্যে নেমে আসেন। শুরু হয় ভাঙচুরের পালা। একের পর এক চেয়ার উড়ে আসতে শুরু করে। ভেঙে ফেলা হয় ক্যানোপি। মাঠের মধ্যে সমর্থকরা ঢুকে তাণ্ডবনৃত্য শুরু করেন। কেউ তোলেন সেলফি, কেউবা মাঠে শুয়ে গড়াগড়ি খান। মোটের উপর এই ঘটনা যে কলকাতা ফুটবলে এটা অবশ্যই একটি কলঙ্কিত ঘটনা হিসেবে লেখা হয়ে থাকবে

Your Opinion

We hate spam as much as you do