Tranding

12:08 AM - 16 Jun 2026

Home / Sports / ব্রাজিলের অনুপ্রেরণা এখন আর্জেন্টিনা

ব্রাজিলের অনুপ্রেরণা এখন আর্জেন্টিনা

২০১০ সালের মহারণে কার্লোস দুঙ্গা সকলকে বিস্মিত করে রোনাল্ডিনহোকে ছাড়াই দক্ষিণ আফ্রিকা পাড়ি দেন। সেবার লুইস ফ্যাবিয়ানোর দুরন্ত ফর্ম ও মূলত কাকা - রবীনহো জুটির দৌলতে শেষ চারের টিকিট জোগাড় করতে সমর্থ হন তাঁরা। স্নাইডারের জোড়া গোলে আরও একবার অশ্রুসিক্ত নয়নে সফর শেষ করেন মাইকনরা। 

ব্রাজিলের অনুপ্রেরণা এখন আর্জেন্টিনা

ব্রাজিলের অনুপ্রেরণা এখন আর্জেন্টিনা


উত্থান দাশ
১৫ জুন ২০২৬


শিরোনাম দেখে ব্রাজিল সমর্থকরা তেলে বেগুনে জ্বলে উঠতেই পারেন। কিন্তু এই ধারণা অতিশয়োক্তি নয়। অন্তত মার্কিন মুলুকে পাড়ি দেওয়া সেলেকাওদের বয়ানে তা স্পষ্ট। ‘মেসিরাও তো গত বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে মুখ থুবড়ে পড়েছিল। তাও আবার, পাতে দেওয়ার অযোগ্য সৌদি আরবের বিপক্ষে। আমরা তাও শক্তিশালী মরক্কোর বিরুদ্ধে ড্র করেছি।’ এই জাতীয় বয়ানই পেলের দেশের সিংহভাগ সমর্থক ঠোঁটস্থ করে ফেলেছেন। তাঁদের মতামত যে একেবারে ফেলে দেওয়ার মতো নয়, তা বলা বাহুল্য। বিশ্বকাপ হলো ম্যারাথন দৌড়ের মতো। ১০০ মিটার স্প্রিন্ট নয় যে কয়েক লহমায় শেষ হয়ে যাবে। মহাযুদ্ধের ঢাকে সবে কাঠি পড়েছে। তাই এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসা সমীচীন হবে না। জুলে রিমে আমলে তিন তিনবার বিশ্বসেরা হয়ে সংশ্লিষ্ট কাপ চিরকালের জন্যে নিজেদের দখলে নিয়ে নেন পেলে, গ্যারিঞ্চা, টোস্টাওরা। অতঃপর ১৯৯৪ সালে রোমারিও ম্যাজিকে আরও একবার বিশ্বসেরার শিরোপা হাসিল করে জোগো বনিতোর স্রষ্টারা। অতঃপর, নতুন শতকের একেবারে গোড়ায় রোনাল্ডো, রোনাল্ডিনহো, রিভাল্ডো, কাফুরা শেষবারের মতো দেশকে বিশ্বকাপ এনে দেন ২০০২ সালে। সেই ইস্তক আর বিশ্বকাপ ফাইনালের মুখ দেখেনি ব্রাজিল। ২০০৬ সালে, ব্রাজিলের সর্বকালের অন্যতম সেরা স্কোয়াডও ‘বৃদ্ধ’ জিদানের বুড়ো হাড়ের ভেলকিতে পাততাড়ি গুটিয়ে  ফেরার টিকিট কাটে। 


২০১০ সালের মহারণে কার্লোস দুঙ্গা সকলকে বিস্মিত করে রোনাল্ডিনহোকে ছাড়াই দক্ষিণ আফ্রিকা পাড়ি দেন। সেবার লুইস ফ্যাবিয়ানোর দুরন্ত ফর্ম ও মূলত কাকা - রবীনহো জুটির দৌলতে শেষ চারের টিকিট জোগাড় করতে সমর্থ হন তাঁরা। স্নাইডারের জোড়া গোলে আরও একবার অশ্রুসিক্ত নয়নে সফর শেষ করেন মাইকনরা। 

 

২০১৪ সালে ঘরের মাঠে সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই পথ চলা শুরু করেন লুই ফিলিপ স্কোলারি ও তাঁর ছেলেরা। সেই স্কোলারি, যিনি ২০০২ সালে বিশ্বকাপ জয়ে কোচের হটসিটে বসে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। সেই বিশ্বকাপে সাড়া জাগিয়ে শুরু করে ফের সেমি - ফাইনালে পৌঁছন তাঁরা। সেই সেমি - ফাইনাল কি কোনোদিনও ভুলতে পারবেন সেলেকাওরা। ৭-১ গোলে জার্মানির কাছে লজ্জাজনক হারের দৌলতে আজও আর্জেন্টিনার সমর্থকদের থেকে ‘সেভেন আপ’ টিটকিরি শুনতে হয়। আর ২০১৮ সালের রুশ এবং ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ নিয়ে তো যত কম বলা যায় ততো ভালো। 


ক্রাইস্ট দ্য রিদিমারের মূর্তিটিও বোধহয় ব্যগ্র হয়ে দেশের জার্সিতে একটি তারা বাড়ার অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছে। অতএব ভিনিসিয়াস জুনিয়ারদের কাছে এই বিশ্বকাপ অগ্নিপরীক্ষা। আর এই লড়াইয়ে তাঁদের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা কাতার বিশ্বকাপে সৌদির কাছে পর্যুদস্ত হওয়া আর্জেন্টিনা।

Your Opinion

We hate spam as much as you do