Tranding

02:06 AM - 06 Jun 2026

Home / Article / এল নিনোর আশঙ্কা

এল নিনোর আশঙ্কা

কারণ পৃথিবী এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি গরম। আগে এমনিও একটি প্রাকৃতিক ঘটনা ছিল।  কিন্তু এখন সমুদ্রপৃষ্ঠে তাপ রেকর্ড উচ্চতায় গ্রিন হাউজ গ্যাস অনেক বেশি,  সমুদ্র অস্বাভাবিক গরম,  তাই বাষ্প ভবনের বায়ুমণ্ডল বেশি জলীয় বাষ্প ধরে রাখছে। ফলে ভবিষ্যতের এলনিনো আরো ভয়ংকর হতে পারে

এল নিনোর আশঙ্কা

এল নিনোর আশঙ্কা

সৌরভ চক্রবর্তী
(সাধারন সম্পাদক
পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চ)
৫ই জুন ২০২৬
 

আজ পৃথিবীতে বিশ্ব উষ্ণায়ন, এল নিনো, তাপপ্রবাহ, দুর্বল মৌসুমী বায়ু, খরা, শহুরে উষ্ণ দ্বীপ প্রভাব এবং ওয়েট বাল্ব তাপমাত্রা - সবকিছু  একে অপরের সাথে যুক্ত হয়ে ভয়াবহ জলবায়ু সংকট তৈরি করছে। ভারত ও দক্ষিণ এশিয়া এই সংকটের সবচেয়ে বিপদজনক অঞ্চল গুলির একটি হয়ে উঠছে।

এল নিনো কি?

এল নিনো হলো নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্ব অংশের সমুদ্রপৃষ্ঠ অস্বাভাবিক গরম হয়ে ওঠা। এটি ENSO বা "এল নিনো সাদার্ণ অ্যাসিলেশন" নামের একটি বৃহৎ সমুদ্র বায়ুমন্ডলীয় দোলনের অংশ। সমুদ্র গরম হলে তার ওপরের বাতাস বদলায় - বাতাস বদলালে সমুদ্রের জলও বদলায় অর্থাৎ সমুদ্র বাতাসকে প্রভাবিত করে আর বাতাস আবার সমুদ্রকে প্রভাবিত করে। এই দুইয়ের বারবার বদলানো বা পরিবর্তন হওয়াকেই বলে সমুদ্র বায়ুমন্ডলীয় দোলন।


বায়ুমন্ডলীয় দোলন কেন?

স্বাভাবিক বছরে বাতাস বাণিজ্য বায়ু গরম জলকে পশ্চিমে ঠেলে দেয় ফলে পশ্চিম মহাসাগর গরম থাকে এলনিনোর সময় বাণিজ্য বায়ু দুর্বল হয়ে যায়।

গরম জল পূর্ব দিকে ছড়িয়ে পড়ে.।  সমুদ্র গরম হলে আবার বায়ুর দিক বদলে যায়। অর্থাৎ সমুদ্রের তাপমাত্রা বদলায় বায়ু প্রবাহিত হয়।ফলে আবার সমুদ্রের তাপমাত্রা বদলায়। এই চলমান পারস্পরিক পরিবর্তনটাই দোলন

দোলন শব্দ কেন?

কারণ এটি স্থির নয় কখনো এল নিনো গরম অবস্থা আবার কখনো লা নিনো ঠান্ডা অবস্থা এর মধ্যে ওঠানামা করে। অনেকটা দোলনার মত।  একে বলা হয় oscillation  বা দোলন।

স্বাভাবিক বছরে কি হয়?

স্বাভাবিক অবস্থায় বাণিজ্য বায়ু পূর্ব থেকে পশ্চিমে বইতে থাকে। এই বাতাস সমুদ্রের গরম উপরিভাগের জলকে ইন্দোনেশিয়া অস্ট্রেলিয়ার দিকে ঠেলে দেয়।  ফলে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে বিশাল উষ্ণ জলের অঞ্চল তৈরি হয়। আর পেরু উপকূলে গভীর সমুদ্রে ঠান্ডা জল উপরে উঠে আসে। এই ঠান্ডা জল উপরে উঠতে বলে up welling

বাণিজ্য বায়ু কি?

বাণিজ্য বায়ু( ট্রেড উইন্ড) হল উপক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়ের দিকে নিয়মিত স্থায়ীভাবে প্রবাহিত বায়ুকে বাণিজ্য বায়ু বলে।

এগুলি উত্তর গোলার্ধে  উত্তর-পূর্ব দিক থেকে দক্ষিণ গোলার্ধে দক্ষিণ পূর্ব দিক থেকে নিরক্ষীয় অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়। সহজ ভাষায় পৃথিবীর নিরক্ষীয় অঞ্চলের দিকে নিয়মিত বইতে থাকা স্থায়ী বায়ু হলো বাণিজ্য বায়ু। 

কেন বাণিজ্য বায়ু বলে??

আগেকার পালতোলা জাহাজে এই নিয়মিত বাতাস ব্যবহার করে সমুদ্রপথে ব্যবসা-বাণিজ্য করত। তাই এর নাম বাণিজ্য বায়ু। এই বাণিজ্য বায়ু প্রশান্ত মহাসাগরের গরম জলকে পশ্চিমে ইন্দোনেশিয়ার দিকে ঠেলে, এল নিনোর সময় দুর্বল হয়ে যায়। তখন ঠিক উল্টোটা হয়। গরম জল পূর্ব দিকে ছড়িয়ে পড়ে । এল নিনো তৈরি হয়।

elnino

থার্মোক্লাইন কি ?

সমুদ্রে উপরে গরম জল নিচে ঠান্ডা জল থাকে। এই দুই স্তরের সীমান্ত কে বলা হয় থার্মোক্লাইন। স্বাভাবিক অবস্থায় পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে থার্মোক্লাইন অনেক উপরে থাকে। ফলে গভীরে ঠান্ডা জল সহজে উপরে উঠতে পারে। 

এল নিনো শুরু হয় কিভাবে?

এল নিনো শুরু হওয়ার মূল কারণ বাণিজ্য বায়ু দুর্বল হয়ে যাওয়া ।  এটি হতে পারে বায়ুচাপের পরিবর্তনে বায়ুমণ্ডলীয় অস্থিরতায় অথবা আকস্মিক পশ্চিমমুখী ঝড় বাতাসের কারণে।। 

তারপর কি হয়?

১.পশ্চিমের গরম জল পূর্ব দিকে ছড়িয়ে পড়ে। যখন বাণিজ্য বায়ু দুর্বল হয়, পশ্চিমে জমে থাকা উষ্ণ জল আর আটকে থাকতে পারে না। সেটি মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের দিকে ছড়িয়ে পড়ে।

২. কেলভিন তরঙ্গ তৈরি হয়। সমুদ্রের নিচে বিশাল গরম জলের তরঙ্গ তৈরি হয়। এটিকে বলা হয় নিরক্ষীয় কেলভিন তরঙ্গ। এটি তরঙ্গ নিরক্ষরেখা বরাবর পূর্ব দিকে যায়। এবং কয়েক মাসের দক্ষিণ আমেরিকার উপকূলে পৌঁছে যায়।


৩. থার্মোক্লাইন নিচে নেমে যায়। উষ্ণ জল পূর্ব দিকে চলে আসার ফলে পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে থার্মোক্লাইন গভীর নেমে যায় ফলে গভীর সমুদ্রে ঠান্ডা জল আর সহজে উপরে উঠতে পারে না অর্থাৎ আপ্প ওয়েলিং দুর্বল হয়ে যায় ।


৪. পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগর গরম হয়ে যায়। যেহেতু ঠান্ডা জল উপরে উঠছে না উপরিভাগে উষ্ণ জল জমে থাকছে তাই মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগর অস্বাভাবিক গরম হয়ে ওঠে।  --- এটাই এল নিনোর মূল ঘটনা

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

এল নিনোতে গভীর থেকে গরম জল উপরে ওঠে না,  পশ্চিমের গরম উপরিভাগের জল পূর্ব দিকে চলে আসে গভীরের ঠান্ডা জল ওপরে ওঠা কমে যায়।

ওয়াকার বায়ুচক্র কি?

নিরক্ষীয় অঞ্চলে পূর্ব-পশ্চিম দিকে বিশাল বায়ুচক্র কে বলা হয় । স্বাভাবিক অবস্থায় ইন্দোনেশিয়া অঞ্চলে গরম সমুদ্রের কারণে বায়ু ওপরে ওঠে। সেখানে প্রচুর মেঘ ও বৃষ্টি হয়, পরে বায়ু পূর্ব দিকে গিয়ে নিচে নামে আবার বাণিজ্য বায়ু হিসেবে পশ্চিমে ফেরে।
এল নিনো হলে ওয়াকার বায়ুচক্রের দুর্বল হয় যখন পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগর গরম হয় বৃষ্টি ও মেঘের অঞ্চল পূর্ব দিকে সরে যায়, ইন্দোনেশিয়া ও ভারত মহাসাগরে উর্ধ্বমুখী বায়ু প্রবাহ কমে যায়। ফলে ওয়াকার বায়ুচক্র দুর্বল হয়ে পড়ে।

 

মৌসুমী বায়ু সম্পর্কে ভারতের
 

দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু নির্ভর করে হল ও সমুদ্রের তাপমাত্রার পার্থক্য, ভারত মহাসাগরের উষ্ণতা, আদ্র বায়ুর পরিবহন এবং ওয়াকার বায়ুচক্রের ওপর ।
এল নিনো হলে আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগর থেকে আদ্র বায়ু আশা কমে যায়। মৌসুমী বায়ু দুর্বল হয়,  বৃষ্টির ঘাটতি ও খরা তৈরি হতে পারে।  ঐতিহাসিকভাবে ভারতের বহু বড় খরার সঙ্গে এল নিনো যুক্ত।

সুপার এল নিনো কি

যখন প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণতা অত্যন্ত বেশি বেড়ে যায় (সাধারণত স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় +২ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড বা তার বেশি ) তখন তাকে বলা হয় সুপার এল নিনো।

ঐতিহাসিক সুপার এল নিনো
1982 - 83
1997 - 98
2015 - 16

এসব বছরে বিশ্ব তাপমাত্রা রেকর্ড ভেঙেছে। ভয়াবহ খরা, দাবানল, বন্যা,  প্রবাল প্রাচীর ধ্বংস হয়েছে।

সুপার এলনিনো নিয়ে আশঙ্কা

এখন সুপার এল নিনো নিয়ে এত আলোচনা হচ্ছে কারণ বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন যে আগামী কয়েক বছরে আবার একটি শক্তিশালী এলনিনো তৈরি হতে পারে আর তার সঙ্গে বিশ্ব উষ্ণায়ন যুক্ত হয়ে পরিস্থিতিকে আরো ভয়ংকর করে তুলতে পারে।  তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আগে পরিষ্কার করা দরকার। এবার মে ২০২৬ সুপারের নিনো চলেছে ? -- না বর্তমানে প্রশান্ত মহাসাগর ENSO - neutral  বা দুর্বল পরিবর্তনশীল অবস্থায় রয়েছে। তবে world meteorological Organization, Copernicus Climate Change Service, NOAA ( National Oceanic and Atmospheric Administration  সবাই সতর্ক করছে যে ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে নতুন এল নিনো গঠনের সম্ভাবনা বাড়ছে।

poster

কেন সুপার এল নিনো -  নিয়ে এত আশঙ্কা?

কারণ পৃথিবী এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি গরম। আগে এমনিও একটি প্রাকৃতিক ঘটনা ছিল।  কিন্তু এখন সমুদ্রপৃষ্ঠে তাপ রেকর্ড উচ্চতায় গ্রিন হাউজ গ্যাস অনেক বেশি,  সমুদ্র অস্বাভাবিক গরম,  তাই বাষ্প ভবনের বায়ুমণ্ডল বেশি জলীয় বাষ্প ধরে রাখছে। ফলে ভবিষ্যতের এলনিনো আরো ভয়ংকর হতে পারে

এখন বিজ্ঞানীরা কেন উদ্বিগ্ন?

কারণ কয়েকটি বড় সংকেত দেখা যাচ্ছে। ১। সমুদ্র অস্বাভাবিক গরম। Copernicus Climate Change Service, জানিয়েছে বৈশ্বিক সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা রেকর্ড উচ্চতায় রয়েছে

২। পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে প্রচুর উষ্ণ জল জমা, বিজ্ঞানীরা দেখছেন এই মহাসাগরের  উষ্ণ জল ভান্ডার শক্তিশালী।  এবার যদি বাণিজ্য বায়ু দুর্বল হয় তাহলে বিশাল উষ্ণ জলরাশি পূর্ব দিকে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

৩। কেলভিন তরঙ্গ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা -  বাণিজ্য বায়ু দুর্বল হলে সমুদ্রের নিচে গরম জলের বিশাল তরঙ্গ তৈরি হয়। যাকে কেলভিন তরঙ্গ বলে। এটি এল নিনোকে এসব দ্রুত শক্তিশালী করতে পারে, কবে সুপার এল নিনো তৈরি হতে পারে, এখনো নিশ্চিত নয়, তবে ইঙ্গিত দিচ্ছে ২০২৬ সালের শেষ ভাগ থেকে ২০২৭ সালের শক্তিশালী এল নিনো তৈরি হতে পারে। কিছু ক্লাইমেট মডেল সুপার এল নিনোর সম্ভাবনাও দেখাচ্ছে যদিও এটি এখনো নিশ্চিত পূর্বাভাস নয়।।

কি কি ক্ষতি হতে পারে?

১. ভয়াবহ তাপপ্রবাহ
ভারত পাকিস্তান দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় ৪৮ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড থেকে ৫০ ডিগ্রি সি তাপমাত্রা দীর্ঘ তাপপ্রবাহ, উষ্ণ রাত, চরম ওয়েট বাল্ব টেম্পারেচার হতে পারে


২ প্রাণঘাতী ওয়েট বাল্ব তাপমাত্রা --
উচ্চ তাপমাত্রা সাতে উচ্চ আদ্রতা মিলে ওয়েট বাল্ব তাপমাত্রা হয় বিশেষ করে কলকাতা মুম্বাই বাংলাদেশ উপকূল অত্যন্ত ঝুঁকিতে।  বিজ্ঞানীদের মতে ওয়েট বাল্ব তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড হলে সুস্থ মানুষ ও কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মৃত্যুমুখে পতিত হতে পারে। ২৮ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড থেকেই বিপদ শুরু যারা বাইরে কাজে বেরুন তাদের পক্ষে বিপদের।

৩. দুর্বল মৌসুমী বায়ু ও খরা

এল নিনো হলে ওয়ালকার সার্কুলেশন দুর্বল হয় ভারতীয় মৌসুমী বায়ু দুর্বল হতে পারে ফলে কম বৃষ্টি,  খরা, জল সংকট, ফসলের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা।


৪. কৃষি ক্ষেত্রে বিপর্যয় ধান, গম, ডাল, তৈলবিজ উৎপাদনে ক্ষতি। ফলে খাদ্যের দাম বাড়বে, খাদ্য নিরাপত্তা সংকট হতে পারে। 

৫. জল সংকট --- কম বৃষ্টির সাথে তীব্র তাপ হলে জলভাণ্ডার শুকিয়ে যাবে ভূগর্ভস্থ জলভাণ্ডার কমবে, পানীয় জলের সংকট বাড়বে। 

৬. বিদ্যুৎসংকট --
গরম বাড়লে ফ্যান এসির ব্যবহার বাড়বে, বিদ্যুতের চাহিদা বাড়বে

৭. দাবানল --- উষ্ণতা বাড়লে জঙ্গলে আগুন,  জৈব বৈচিত্র্যের ক্ষয়, বাস্তুতন্ত্র ভেঙে পড়তে পারে

৮. সমুদ্র ও সামুদ্রিক ক্ষতি -- এল নিনো "আপ ওয়েলিং" কমায়,  মাছ কমে যায়, প্রবাল দ্বীপের ক্ষতি হয়।  বিশেষ করে প্রশান্ত মহাসাগরে মাছের কারবার বড় ক্ষতির মুখে পড়ে। 

৯. স্বাস্থ্য বিপর্যয় --  হিট স্ট্রোক,  কিডনি বিকল হৃদরোগ,  ডিহাইড্রেশন শ্রমিকের মৃত্যু ঘটে,


কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান

২০১৫-১৬ এর এল নিনো সময় বিশ্ব তাপমাত্রা তখনকার সর্বোচ্চ রেকর্ড ছুয়েছিল।  ভারতে মৌসুমী বৃষ্টি দীর্ঘমেয়াদি গড়ের প্রায় ৮৬% নেমে গিয়েছিল।

বিজ্ঞানীদের সবচেয়ে বড় ভয়, আগে এল নিনো ছিল প্রাকৃতিক ওঠানামা। এখন এর সাথে যুক্ত হয়েছে মনুষ্যকৃত বিশ্ব উষ্ণায়ন। অর্থাৎ প্রাকৃতিক উষ্ণতা এবং মানবপুষ্ঠ উষ্ণতা একযোগে কাজ করছে। সম্মিলিত জলবায়ু বিপর্যয় তৈরি করছে। এজন্যই সুপার এল নিনো নিয়ে এত উদ্বেগ।  এটাই বর্তমানে চ্যালেঞ্জ।

এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে গেলে বিশ্ব উষ্ণায়নের বৃদ্ধিকে রুখতে হবে। কয়লা, তেল প্রাকৃতিক গ্যাস বা জীবাশ্ম জ্বালানি বা চিরাচরিত জ্বালানির ব্যবহার থেকে সরে এসে সৌর বায়ুর ছোট জলবিদ্যুৎ বা অচিরাচরিত জ্বালানিতে যেতে হবে। জলাভূমি অরন্যের সংরক্ষণ করাতে হবে। ভূমি ব্যবহারের সতর্ক থাকতে হবে।  আগ্রাসি নগরায়নের পথ থেকে সরে প্রকৃতিবান্ধব দীর্ঘস্থায়ী উন্নয়ন কার্যকর করতে হবে। ভোগবাদ কে পরিহার করে প্রকৃতির সাথে সম্পৃক্ত জীবনশৈলী গড়ে তুলতে হবে।

সব দেশকে পরিবেশ ইকোলজি প্রশ্নে আন্তর্জাতিক চুক্তি গুলির মান্যতা দিতে হবে। দেশের পরিবেশ ইকোলজি সংক্রান্ত আইন গুলিকে, আরও শক্তিশালী করে সেগুলিকে কার্যকর করতে হবে।
এ সমস্ত কিছুকেই কথায় নয় বাস্তব ভূমিতে কার্যকর করাতে হবে, জলবায়ু পরিবর্তন জনিত ক্ষতির শিকার শ্রমিক কৃষক ক্ষেতমজুর প্রান্তিক গরিব মানুষ বস্তিবাসী মানুষ, মহিলা,শিশু, বৃদ্ধরা। মুনাফা ভিত্তিক পুঁজিবাদী উৎপাদন ব্যবস্থা বর্তমান পরিবেশ ইকোলজির সংকটের জন্য দায়ী।

সাম্য ন্যায়ের উপর দাঁড়ানো নতুন এক সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে না পারলে এই সংকট থেকে মুক্তি নেই। পৃথিবীর মনুষ্য সভ্যতারও কোন ভবিষ্যৎ নেই।।

Your Opinion

We hate spam as much as you do