ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাকায়ী জানান, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে এবং ১৪ দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতে একটি সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত করার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এতে যুদ্ধবিরতি, মার্কিন নৌ তৎপরতা বন্ধ এবং ইরানের অবরুদ্ধ সম্পদ মুক্ত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
যুদ্ধবিরতির পথে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র?
২৫ মে ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) চূড়ান্ত হওয়ার পথে রয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান। একই সঙ্গে আরব দেশগুলো, পাকিস্তান এবং যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ নেতৃত্বের সক্রিয় কূটনৈতিক উদ্যোগে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে সমাধানের দিকে এগোচ্ছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাকায়ী জানান, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে এবং ১৪ দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতে একটি সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত করার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এতে যুদ্ধবিরতি, মার্কিন নৌ তৎপরতা বন্ধ এবং ইরানের অবরুদ্ধ সম্পদ মুক্ত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে। পরবর্তী ৩০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা শেষে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য রয়েছে।
এদিকে, আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে আরব বিশ্বের নেতারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের প্রস্তাব গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। এক উচ্চপর্যায়ের ফোনালাপে তারা দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দেন।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ ট্রাম্পের শান্তি উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, বহুপাক্ষিক এই আলোচনা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ওই ফোনালাপে সউদী আরব, কাতার, তুরস্ক, মিসর, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জর্ডানসহ বিভিন্ন দেশের নেতারা অংশ নেন। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে সেনাপ্রধান আসিম মুনির প্রতিনিধিত্ব করেন।
পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারও এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী ও ইরানের পারমাণবিক ইস্যুকে ঘিরে চলমান সংকটের মধ্যেই এ আলোচনা নতুন আশার সঞ্চার করেছে। তবে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে এখনো কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ গতকাল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘শান্তি প্রতিষ্ঠার অসাধারণ প্রচেষ্টার’ প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রতিরক্ষা প্রধান ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরসহ একাধিক দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি ‘অত্যন্ত উপকারী ও ফলপ্রসূ আলোচনা’ করেছেন।
We hate spam as much as you do