আগামী 21 জুন বিশ্ব যোগ দিবস। সেদিনই বিজেপি শাসিত পশ্চিমবঙ্গে রয়েছে একগুচ্ছ কর্মসূচি। যোগ দিবস উপলক্ষ্যে রেড রোডের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সহ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। আর এই দিন রাজ্যের প্রত্যেক সরকারি কর্মচারীকে যোগ দিবসের অনুষ্ঠান বা কর্মসূচিতে বাধ্যতামূলকভাবে যোগ দিতে বলা হয়েছে। সেই মতোই জারি হয় বিজ্ঞপ্তি। পরবর্তীতে সেই বিজ্ঞপ্তিকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে পিটিশন দাখিল করে সংগ্রামী যৌথমঞ্চ।
যোগ দিবসে রাজ্য সরকারি কর্মীদের উপস্থিতি ঐচ্ছিক, কেউ বাধ্য নয়, নির্দেশ হাইকোর্টের
June 18, 2026
পশ্চিমবঙ্গে ধুমধাম করে পালিত হবে যোগ দিবস (International Day of Yoga)। আর সেই বিশেষ কর্মসূচিতে রাজ্যের সমস্ত সরকারি কর্মীর অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক বলে সম্প্রতি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল বিজেপি সরকার। পরবর্তীতে সেই বিজ্ঞপ্তিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাইকোর্টে (Calcutta High Court) দায়ের হয় মামলা। বৃহস্পতিবার সেই মামলার শুনানি চলাকালীন বিচারপতি অমৃতা সিনহা খুব পরিষ্কারভাবে জানালেন, এই ধরনের বিজ্ঞপ্তি বা নির্দেশ দেওয়ার অধিকার আদৌ সরকারের মুখ্য সচিবের আছে কিনা তা নিয়ে আগামীকাল অর্থাৎ শুক্রবার হলফনামা জমা দিতে হবে রাজ্যকে। এদিন কর্মীদের যোগ দিবসে অংশগ্রহণের বিষয়টি ঐচ্ছিক হলেও দাবি করেন বিচারপতি।
ঠিক কী জানাল কলকাতা হাইকোর্ট?
আগামী 21 জুন বিশ্ব যোগ দিবস। সেদিনই বিজেপি শাসিত পশ্চিমবঙ্গে রয়েছে একগুচ্ছ কর্মসূচি। যোগ দিবস উপলক্ষ্যে রেড রোডের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সহ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। আর এই দিন রাজ্যের প্রত্যেক সরকারি কর্মচারীকে যোগ দিবসের অনুষ্ঠান বা কর্মসূচিতে বাধ্যতামূলকভাবে যোগ দিতে বলা হয়েছে। সেই মতোই জারি হয় বিজ্ঞপ্তি। পরবর্তীতে সেই বিজ্ঞপ্তিকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে পিটিশন দাখিল করে state co-ordination committee ও সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ ।
সংগ্রামী যৌথমঞ্চ ও কো-অর্ডিনেশন কমিটি যোগদান কর্মসূচিতে সরকারি কর্মীদের অংশগ্রহণ সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক করার আবেদন জানায় কলকাতা হাইকোর্টের কাছে। একই সাথে মামলাকারীরা এও উল্লেখ করেন, এই ধরনের কর্মসূচিতে জোড়পূর্বক বা বাধ্যতামূলকভাবে সরকারি কর্মীদের অংশগ্রহণ করানো নিয়মের পরিপন্থী। এদিন সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের পক্ষের আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য আদালতের সওয়াল করতে গিয়ে বলেন, “মাতৃ দিবস, পিতৃ দিবস এমনকি বন্ধুত্ব দিবস পালন হয়। এদিকে যোগ দিবসে কর্মীদের জোর করে অংশগ্রহণ করানো হচ্ছে। এটা কেমন?”
আইনজীবী এও বললেন, যোগ দিবসের মতো কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ কর্মীদের ইচ্ছা এবং অনিচ্ছার উপর নির্ভর করে। জোর করে কর্মীদের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করানোর অধিকার সরকারের নেই। এ কথা শুনেই বিচারপতি অমৃতা সিনহা বলেন, “ভ্যালেন্টাইনস ডে বাদ দিলেন কেন?” বিচারপতির মুখ থেকে এমন কথা শুনে হেসে ওঠেন এজ্লাসের সকলেই। এরপরই বিচারপতি স্পষ্ট জানান, “যোগদিবস কর্মসূচি সত্যিই ভাল উদ্যোগ। তবে সেখানে কে অংশগ্রহণ করবেন আর কে করবেন না সেটা তাঁদের ব্যক্তিগত ইচ্ছের উপর নির্ভর করবে।”
We hate spam as much as you do