Tranding

03:55 AM - 21 Jun 2026

Home / Sports / বিশ্বকাপের উন্মাদনায় মেতেছে দেশ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আল খোরের আল বায়াত স্টেডিয়ামে

বিশ্বকাপের উন্মাদনায় মেতেছে দেশ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আল খোরের আল বায়াত স্টেডিয়ামে

এই মুহূর্তে দেশটির দিকে দৃষ্টি দিলেই এ প্রমাণ পাওয়া যায়। স্টেডিয়ামগুলোকে ঘিরে নির্মাণযজ্ঞ, অনুশীলন মাঠ, মেট্রো, অবকাঠামো-সবমিলিয়ে সবাইকে স্বাগত জানাতে কাতার পুরোপুরি প্রস্তুত। পুরো বিশ্ব এখন মাঠের লড়াইয়ের অপেক্ষায়। কাতার প্রস্তুত, বিশ্বকাপের মঞ্চ প্রস্তুত, ফিফাও প্রস্তুত। সবাই মিলে আমরা এখন সবাইকে সেরা বিশ্বকাপ উপহার দেয়ার দ্বারপ্রান্তে আছি।’

বিশ্বকাপের উন্মাদনায় মেতেছে দেশ।  উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আল খোরের আল বায়াত স্টেডিয়ামে

বিশ্বকাপের উন্মাদনায় মেতেছে দেশ।  উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আল খোরের আল বায়াত স্টেডিয়ামে
  

২০ নভেম্বর ২০২২


আগামীকাল পর্দা উঠছে কাতার ফুটবল বিশ্বকাপের। বিশ্বকাপ ঘিরে বিশ্বকাপ ফুটবলের আয়োজক মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতার। আরব বিশ্বের প্রথম বিশ্বকাপ রঙিন করতে দেশটি সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে উত্তরাঞ্চলীয় বন্দর নগরী আল খোরের আল বায়াত স্টেডিয়ামে। ৬০ হাজার মানুষের ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন স্টেডিয়ামে রাত ৮টায় শুরু হবে জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠান মাতাবেন বিশ্ববিখ্যাত জনপ্রিয় শিল্পী ও সংগীতজ্ঞরা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর বাংলাদেশ সময় রবিবার রাত ১০টায় বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক কাতারের মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ইকুয়েডর।
বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের সবচেয়ে বর্ণিল, আকর্ষণীয়, আকাক্সিক্ষত ও জনপ্রিয় আসর বিশ্বকাপ ফুটবল। একমাত্র এই মিলনমেলা দেশ, মহাদেশ, জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে এক কাতারে শামিল করতে সক্ষম। বিশ্বকাপ ফুটবল শুধু বিশ্ববৃহৎ ক্রীড়া উৎসবই নয়, এ হচ্ছে বিশ্বের অন্যতম সর্ববৃহৎ মিলনমেলা। বর্ণ-ধর্ম নির্বিশেষে তাবৎ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়ে থাকেন বর্ণিল এ আয়োজনে। বিচিত্র ভাষা, বিচিত্র পোশাক, আচার-আচরণ সবকিছুকে ছাপিয়ে এখানে উত্থিত হয় মিলনের সুর, ভালোবাসা, ভালোলাগার জয়গান। বিশ্ব ভ্রাতৃত্বের এই জয়গানে এবার মুখরিত হচ্ছে কাতার। এই মুহূর্তে সব পথ মিশে গেছে দেশটির রাজধানী দোহায়।
মাসব্যাপী বিশ্বকাপে সোনার ট্রফির জন্য লড়াই করবে ৩২টি দেশ। এই দেশগুলো ছয়টি অঞ্চল থেকে বাছাইপর্ব পেরিয়ে মূলমঞ্চের টিকেট কেটেছে। এবারের আসরে আটটি গ্রুপে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে ৩২টি দেশ। শুধু আয়োজক কাতার বাদে বাকি ৩১টি দেশকে বাছাইপর্বের কঠিন পথ পাড়ি দিয়ে বিশ্বকাপের টিকেট কাটতে হয়েছে। এবারের আসরে লিওনেল মেসির দেশ আর্জেন্টিনা ও নেইমারের ব্রাজিলকে হট ফেভারিট হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন বিশ্বব্যাপী ফুটবল বিশেষজ্ঞরা। সেই সঙ্গে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর পর্তুগাল, সার্জিও বসকুয়েটসের স্পেন ও করিম বেঞ্জামার ফ্রান্সকেও রাখা হচ্ছে ফেভারিটের তালিকায়। কাতারের সফল আয়োজন নিয়ে ভীষণ আশাবাদী ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। সংস্থাটির সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্টিনো বলেন, ‘আমরা সবসময় বলেছি কাতার এ যাবতকালের সেরা বিশ্বকাপ উপহার দেবে।


এই মুহূর্তে দেশটির দিকে দৃষ্টি দিলেই এ প্রমাণ পাওয়া যায়। স্টেডিয়ামগুলোকে ঘিরে নির্মাণযজ্ঞ, অনুশীলন মাঠ, মেট্রো, অবকাঠামো-সবমিলিয়ে সবাইকে স্বাগত জানাতে কাতার পুরোপুরি প্রস্তুত। পুরো বিশ্ব এখন মাঠের লড়াইয়ের অপেক্ষায়। কাতার প্রস্তুত, বিশ্বকাপের মঞ্চ প্রস্তুত, ফিফাও প্রস্তুত। সবাই মিলে আমরা এখন সবাইকে সেরা বিশ্বকাপ উপহার দেয়ার দ্বারপ্রান্তে আছি।’
নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবার বিশ্বকাপ আয়োজন করছে কাতার। বিশাল এই যজ্ঞ সফল করতে কয়েক বছর ধরে ব্যস্ত সময় পার করছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি। চার বছর পর পর বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় এই আসর নিয়ে সারা বিশ্ব যেমন মেতে ওঠে; তেমনি আয়োজক দেশের সামনে চ্যালেঞ্জ থাকে সবার সেরা টুর্নামেন্ট উপহার দেয়া। তেল সমৃদ্ধ বিশ্বের অন্যতম ধনী দেশটি বিশ্বকাপ আয়োজনের স্বত্ব পাওয়ার পর থেকে নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ শুরু করে দিয়েছিল। এখন অপেক্ষা সারা বিশ্বের সামনে নিজেদের পরিশ্রমকে সফল প্রমাণের।
কাতারের সামনে যেমন সফল আয়োজনের চ্যালেঞ্জ; তেমনি মাঠের লড়াইয়েও বিশ্বকে দেখিয়ে দেয়ার পালা। কেননা আয়োজক হওয়ার সুবাদেই যে তারা বিশ্বকাপের মহাযজ্ঞে খেলছে। ফুটবলের খোঁজখবর ন্যূনতম রাখেন এমন সবাই জানেন, বাছাইপর্ব পেরিয়ে বিশ্বকাপে আসা কাতারের জন্য অনেকটা অসম্ভব ছিল। স্বাগতিকের কোটায় তারা প্রথমবার খেলার সুযোগ পেয়েছে। এ কারণে আয়োজন সফল করার পাশাপাশি মাঠের লড়াইয়েও বিশ্বকে চমকে দেয়ার আশা করছে কাতারিরা। এই মিশন ‘এ’ গ্রুপে তাদের তিন প্রতিপক্ষ ইকুয়েডর, সেনেগাল ও হল্যান্ড।


ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের ৫০ নম্বরে থাকা দেশটির কোচ ফেলিক্স সানচেজ বলেন, ‘অনেকেই বলে থাকেন স্বাগতিক হওয়ার কারণে আমরা বিশ্বকাপ খেলছি। এটা শুনতে মোটেও ভালো লাগে না। এজন্য ছেলেরা মুখিয়ে আছে মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের প্রমাণ করতে। ভালো খেলেই সবাইকে দেখাতে চায় বিশ্বকাপে খেলার যোগ্য কাতার।’

Your Opinion

We hate spam as much as you do