Tranding

01:45 AM - 21 Jun 2026

Home / Other Districts / শিক্ষকদের স্বাধীনতা হরণকারী নতুন অগণতান্ত্রিক সরকারি নির্দেশ প্রত‍্যাহারের দাবী

শিক্ষকদের স্বাধীনতা হরণকারী নতুন অগণতান্ত্রিক সরকারি নির্দেশ প্রত‍্যাহারের দাবী

রাজ্যের প্রথম সারির এক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবীণ অধ্যাপক বলেন, “পৃথিবীর নানা প্রান্তের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছি। কোথাও এই ধরনের কোনও ফতোয়া দেখিনি।” কলকাতার এক শিক্ষক অবশ্য দাবি করেছেন, তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় এসে এ ভাবেই ফতোয়া জারি করেছিল। সরকারি কলেজের এক অধ্যাপককে কারণ দর্শানোর নোটিস জারি করা হয়েছিল বলেও তাঁর দাবি। সেই নোটিসের উত্তরে ওই অধ্যাপক স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, সার্ভিস রুল-এ কোথাও মত প্রকাশের স্বাধীনতায় সরকারি হস্তক্ষেপের কথা বলা হয়নি। কারণ তা ভারতীয় সংবিধানের পরিপন্থী।

শিক্ষকদের স্বাধীনতা হরণকারী নতুন অগণতান্ত্রিক সরকারি নির্দেশ প্রত‍্যাহারের দাবী

শিক্ষকদের স্বাধীনতা হরণকারী নতুন অগণতান্ত্রিক সরকারি নির্দেশ প্রত‍্যাহারের দাবী

২১ মে ২০২৬ 

রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠন হয়েছে এখনও এক মাস হয়নি। এর মধ্যেই রাজ্য সরকার তাঁদের কণ্ঠরোধ করতে চাইছে বলে অভিযোগ তুললেন শিক্ষকদের একাংশ।


গত বুধবার প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহারেরও দাবি জানালেন তাঁরা। ওই দিন মুখ্যসচিব মনোজ অগ্রবালের জারি করা নির্দেশিকাটি রাজ্যের সমস্ত দফতর, কমিশনার, জেলা প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়েছে। আইএএস, ডবলিউবিসিএস, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ সার্ভিসের আধিকারিকদের পাশাপাশি রাজ্যের অন্যান্য সরকারি কর্মচারী, জেল কর্মী, সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বোর্ড, পুরসভা, পুর নিগম ও স্বশাসিত সংস্থার কর্মীদের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, সরকারের পূর্ব অনুমতি ছাড়া কোনও সরকারি কর্মী কোনও সংবাদমাধ্যম আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারবেন না। এ ছাড়াও সংবাদমাধ্যমের কাছে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে কোনও সরকারি তথ্য, নথি বা প্রশাসনিক কাগজপত্র তুলে দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। রেডিয়ো বা অন্য সম্প্রচার মাধ্যমেও কোনও কথা বলার ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। সরকারি কর্মীদের কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বিরূপ মন্তব্য বা সমালোচনা করা থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে।


রাজ্যের প্রথম সারির এক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবীণ অধ্যাপক বলেন, “পৃথিবীর নানা প্রান্তের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছি। কোথাও এই ধরনের কোনও ফতোয়া দেখিনি।” কলকাতার এক শিক্ষক অবশ্য দাবি করেছেন, তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় এসে এ ভাবেই ফতোয়া জারি করেছিল। সরকারি কলেজের এক অধ্যাপককে কারণ দর্শানোর নোটিস জারি করা হয়েছিল বলেও তাঁর দাবি। সেই নোটিসের উত্তরে ওই অধ্যাপক স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, সার্ভিস রুল-এ কোথাও মত প্রকাশের স্বাধীনতায় সরকারি হস্তক্ষেপের কথা বলা হয়নি। কারণ তা ভারতীয় সংবিধানের পরিপন্থী।

সার্ভিস রুল কী বলছে?

সার্ভিস রুল বলছে, সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক মন্তব্য বা সরকারি গোপন নথি প্রকাশ্য করলে তা অপরাধ হিসাবে গণ্য হয়। গণমাধ্যমে মতপ্রকাশ করলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে শুধুমাত্র অবগত করার কথা বলা হয়েছে।

 

সরকারি শীর্ষ আধিকারিকদের জন্য কড়া নির্দেশিকা, অনুমতি ছাড়া সংবাদমাধ্যমে মন্তব্য বা তথ্য ফাঁস নয়, নির্দেশ নবান্নের
সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক মন্তব্য বা সরকারি গোপন নথি প্রকাশ্য করলে তা অপরাধ হিসাবে গণ্য হয়। গণমাধ্যমে মতপ্রকাশ করলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে শুধুমাত্র অবগত করার কথা বলা হয়েছে। ওই অধ্যাপক তা করেছিলেন। কারণ দর্শানোর নোটিস পেয়ে উচ্চ শিক্ষা দফতরকে উত্তরও দেন তিনি। তার পর ১৫ বছর ধরে একই ভাবে গণমাধ্যমে নিজের মতপ্রকাশ করে আসছেন তিনি। সরকার তার বিরুদ্ধে আর কোনও পদক্ষেপ করেনি।

এই দৃষ্টান্ত তুলে ধরে শিক্ষকদের একাংশ মনে করিয়ে দিচ্ছেন, বিজেপি সরকার যে ভাবে সরাসরি মতপ্রকাশে হস্তক্ষেপ করতে চাইছে তা অসাংবিধানিক। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠন ওয়েবকুটা-র রাজ্য সম্পাদক নিলয়কুমার সাহা বলেন, “এক অগণতান্ত্রিক সরকারকে সরিয়ে এই সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল গণতন্ত্রের পুনরুজ্জীবন ঘটবে। কিন্তু ক্ষমতায় এসেই এ ভাবে আদেশনামা প্রকাশ করে গণতন্ত্রের কণ্ঠ রোধের চেষ্টা অভিপ্রেত নয়।” সংগঠনের পক্ষ থেকে তিনি এই সরকারি আদেশনামা প্রত্যাহারের দাবি জানান।

স্কুলের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম প্রযোজ্য। তাই স্কুলশিক্ষকদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে ক্ষোভ। এক শিক্ষক বলেন, “শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজতে চাইছে সরকার। তাতে আমরা সমর্থনও করছিলাম। কিন্তু এ ভাবে আমাদের মুখ চেপে ধরলে তো কোনও উন্নয়ন সম্ভব নয়। সরকারের কোনও পদক্ষেপ ভুল হলে সেটা বলা যাবে না? তা হলে আর গণতন্ত্র কোথায়?”

বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, “গতকাল সরকারের এই নির্দেশিকা দেখে আমরা তো হতবাক। যে সরকার গণতান্ত্রিক ভাবে, গণতন্ত্রের কথা বলে ক্ষমতায় এল, ১৫ দিন না হতেই সেই গণতন্ত্রের, বাক্‌স্বাধীনতার কণ্ঠ রোধ করার চেষ্টা শুরু করল। এটাই কি শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের অকুণ্ঠ সমর্থনের প্রতিদান!” তাঁর দাবি, রাজ্যের শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীরা মধ্যশিক্ষা পর্ষদের ২০১৮ সালের আচরণ বিধি অনুযায়ী পরিচালিত হয়ে থাকেন। তাই এই নির্দেশ মানার কোনও বাধ্যবাধকতা তাঁদের নেই।

তবে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই আইন নতুন করে জারি করছে না পশ্চিমবঙ্গ সরকার। ক্ষমতায় এসে বিজেপি সরকার পুরনো আইনই ফের একবার মনে করিয়ে দিতে চাইছে।

Your Opinion

We hate spam as much as you do