গত বছরের অক্টোবরের শেষে রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা করে কমিশন। তারপর গত ৪ নভেম্বর থেকে এনুমারেশন ফর্ম বিলি শুরু করেন বিএলও-রা। গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়। সেখানে ৫৮ লক্ষের বেশি নাম বাদ পড়ে। এর মধ্যে মৃত ভোটার, স্থানান্তরিত ভোটার এবং একাধিক জায়গায় নাম থাকা ভোটার ছিল। এদিন চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর দেখা গেল, আরও সাড়ে ৫ লক্ষের মতো নাম বাদ
চূড়ান্ত ভোটার তালিকা বেরল, চূড়ান্ত বাদ হল না, আপাতত বাদ গেল ৬৩ লক্ষ নাম
Feb 28, 2026
কেউ বলেছিলেন, এক কোটি। কেউ বলেছিলেন, ৮০ লক্ষের বেশি। এসআইআর-র চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় কতজনের নাম বাদ যাবে, তা নিয়ে বিজেপি নেতারা নানা মন্তব্য প্রথম থেকেই করছিলেন। শাসকদল তৃণমূল আবার অভিযোগ করে, কমিশনের অফিসে বসে জোর করে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। রাজনৈতিক এই চাপানউতোরের মধ্যেই শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বাংলায় এসআইআর-র চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। আর সেই তালিকায় দেখা গেল, ৬২ লক্ষের মতো নাম বাদ গিয়েছে। তবে এখনও ৬০ লক্ষ নাম অমীমাংসিত রয়েছে। সেখান থেকে কত নাম বাদ যেতে পারে, তা নিয়ে জল্পনা জারি রইল।
গত বছরের অক্টোবরের শেষে রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা করে কমিশন। তারপর গত ৪ নভেম্বর থেকে এনুমারেশন ফর্ম বিলি শুরু করেন বিএলও-রা। গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়। সেখানে ৫৮ লক্ষের বেশি নাম বাদ পড়ে। এর মধ্যে মৃত ভোটার, স্থানান্তরিত ভোটার এবং একাধিক জায়গায় নাম থাকা ভোটার ছিল। এদিন চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর দেখা গেল, আরও সাড়ে ৫ লক্ষের মতো নাম বাদ পড়েছে। আরও ৬০ লক্ষের নাম অমীমাংসিত অবস্থায় রয়েছে। তাঁদের নথি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সব নথি খতিয়ে দেখার পর আরও কত নাম বাদ পড়তে পারে, তা নিয়ে জল্পনা বাড়ছে। এদিকে, ৬ নম্বর ফর্মের মাধ্যমে নতুন নাম যুক্ত হয়েছে ১ লক্ষ ৮২ হাজার ৩৬ জনের। ৮ নম্বর ফর্মের মাধ্যমে নাম যুক্ত হয়েছে ৬ হাজার ৬৭১ জনের। খসড়া তালিকায় নাম ছিল ৭ কোটি ৮ লক্ষ ১৬ হাজার ৬৩০ জনের। এদিন প্রকাশিত তালিকায় রয়েছে ৭ কোটি ৪ লক্ষ ৫৯ হাজার ২৮৪ জনের নাম। এর মধ্যে ৬০ লক্ষ অমীমাংসিত।
ইআরও এবং এইআরও-দের সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট হয়নি কমিশন। অভিযোগ, কমিশনের নিযুক্ত মাইক্রো অবজ়ারভারেরা বিপরীত মত দেন। পরে সুপ্রিম কোর্ট এই ৬০ লক্ষ ভোটারের নথি নিষ্পত্তির জন্য বিচারকদের দায়িত্ব দেন। আগামী বিধানসভা ভোটের মনোনয়নের শেষ দিন পর্যন্ত ধাপে ধাপে ৬০ লক্ষের বেশি ভোটারের তালিকা প্রকাশ করা হবে। চূড়ান্ত তালিকার সঙ্গে প্রকাশিত হলেও আপাতত এটিকে বিচারাধীন হিসাবে রাখছে কমিশন। এই অবস্থায় তারা মনে করছে, বাকি ভোটারদের নিষ্পত্তি হলে, ভবিষ্যতে আরও নাম বাদ পড়বে।
শনিবারের প্রকাশিত প্রথম দফার চূড়ান্ত তালিকায় ‘ক্যাটেগরি’ আকারে ভোটারদের চিহ্নিত করেছে কমিশন। যাঁরা বাদ পড়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে ‘ডিলিটেড’ লেখা হয়েছে। নাম রয়েছে, অথচ নথি যাচাই এবং নিষ্পত্তি হয়নি, ওই ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জনের তালিকায় লেখা ‘বিচারাধীন’। এ ছাড়া, যোগ্য ভোটারদের ‘অ্যাপ্রুভড’ করা হয়েছে।
দিন তিনেক আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, প্রথমে ৫৮ লক্ষের নাম বাদ দিয়েছিল। পরে লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সির নাম লুকিয়ে লুকিয়ে নাম বাদ দিয়েছে। তবে আর ৫০ লক্ষ নাম বাদ দিতে পারবে না। কিন্তু, সবমিলিয়ে ৮০ লক্ষ হবে। এদিন চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর রাজ্য শাসকদলের বক্তব্য , “এসআইআর-র নামে হেনস্থা ও বাঙালিদের উপর বিদ্বেষ যে চরম জায়গায় পৌঁছেছে, সেটা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। আর কোনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ গেলে রাজনৈতিকভাবে, আইনগতভাবে আন্দোলন হবে। এবং বিভিন্ন জায়গায় ধরে ধরে যে নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্ত, তা বন্ধ করতে হবে। বিজেপি এভাবে নাম বাদ দিয়ে জয়ের যে স্বপ্ন দেখছে, তা সফল হবে না।”
৬৩ লক্ষের মতো নাম বাদ যাওয়ায় কোন রাজনৈতিক দল লাভবান হতে পারে, তা নিয়েও জল্পনা বাড়ছে।
We hate spam as much as you do