পিটিআই-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মূল্যবৃদ্ধির পর দেশের রাজধানী দিল্লিতে গৃহস্থের ১৪.২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৯১৩ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৪২ টাকায়। অন্যদিকে, কলকাতায় এই সিলিন্ডারের নতুন দাম হয়েছে ৯৬৮ টাকা। তবে ভারতের সমস্ত শহরে রান্নার গ্যাসের দাম এক হবে না, রাজ্যভেদে স্থানীয় শুল্ক বা ট্যাক্সের হার আলাদা হওয়ার কারণে বিভিন্ন শহরে সিলিন্ডারের চূড়ান্ত দামেও তারতম্য দেখা যাবে।
রান্নার গ্যাসের দাম ৩ মাসে দ্বিতীয়বার মূল্যবৃদ্ধি ! ৬০ এর পর ফের ২৯ টাকা বাড়ল
7 June 2026
ফের বড়সড় ধাক্কা খেল আমজনতার পকেট। এক ধাক্কায় বেশ খানিকটা বাড়ল গৃহস্থের ঘরে ব্যবহৃত রান্নার গ্যাসের (LPG) দাম। গত ৬ জুন মধ্যরাতের পর থেকেই কার্যকর হয়েছে এই বর্ধিত মূল্য। সংবাদসংস্থা পিটিআই (PTI) সূত্রে খবর, প্রতি ১৪.২ কেজির ডোমেস্টিক বা ঘরোয়া এলপিজি সিলিন্ডারের দাম এবার এক লাভে ২৯ টাকা বাড়ানো হয়েছে। মধ্যবিত্তের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ বাড়িয়ে গত তিন মাসের মধ্যে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার ঘরোয়া রান্নার গ্যাসের দাম বাড়ল। শুধু বড় সিলিন্ডারই নয়, সাধারণ ও নিম্নবিত্ত মানুষের ব্যবহার করা ৫ কেজির ‘ছোটু’ সিলিন্ডারের দামও এ দিন ১০.৫০ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
পিটিআই-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মূল্যবৃদ্ধির পর দেশের রাজধানী দিল্লিতে গৃহস্থের ১৪.২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৯১৩ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৪২ টাকায়। অন্যদিকে, কলকাতায় এই সিলিন্ডারের নতুন দাম হয়েছে ৯৬৮ টাকা। তবে ভারতের সমস্ত শহরে রান্নার গ্যাসের দাম এক হবে না, রাজ্যভেদে স্থানীয় শুল্ক বা ট্যাক্সের হার আলাদা হওয়ার কারণে বিভিন্ন শহরে সিলিন্ডারের চূড়ান্ত দামেও তারতম্য দেখা যাবে। এর আগে গত মার্চ মাসে সিলিন্ডার প্রতি এক ধাক্কায় ৬০ টাকা দাম বাড়ানো হয়েছিল। সেই সময় অর্থাৎ ৬ মার্চ তেল বিপণন সংস্থাগুলি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৮৭৯ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯৩৯ টাকা করেছিল।
ঘরোয়া বাজারে গ্যাসের দাম বাড়ার নেপথ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি। মূলত পশ্চিম এশিয়ার চলমান যুদ্ধের জেরে ওই অঞ্চলের একাধিক দেশে অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস উৎপাদন মারাত্মকভাবে ধাক্কা খেয়েছে। এর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল ও গ্যাস পরিবাহী ট্যাঙ্কার যাতায়াতে বড়সড় সমস্যা তৈরি হওয়ায় বিশ্বজুড়ে জোগান ব্যাহত হয়েছে। ভারত তার এলপিজি বা রান্নার গ্যাসের প্রয়োজনের জন্য সিংহভাগ ক্ষেত্রে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলির ওপর নির্ভরশীল। ফলে আন্তর্জাতিক জোগানের সেই ঘাটতির প্রভাব সরাসরি এসে পড়েছে এ দেশেও, যার জেরে ভারতে ইতিমধ্যেই এলপিজি সংকটের ছবি স্পষ্ট হতে শুরু করেছে।
উল্লেখ্য, গত ৬ মার্চের পর থেকে দেশের বাজারে বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাস এবং পেট্রল-ডিজেলের দাম কয়েক দফায় বেশ খানিকটা বাড়ানো হলেও, সাধারণ মানুষের কথা মাথায় রেখে ঘরোয়া রান্নার গ্যাসের দাম এতদিন অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল। কিন্তু বিশ্ববাজারের ক্রমাগত চাপ ও জোগানের সংকটের জেরে শেষ পর্যন্ত জুনের শুরুতেই গৃহস্থের গ্যাসের দাম বাড়াতে বাধ্য হলো তেল সংস্থাগুলি, যার জেরে মাসকাবারি খরচের হিসাব মেলাতে এখন কালঘাম ছুটবে সাধারণ মানুষের।
We hate spam as much as you do