Tranding

01:22 AM - 07 Jun 2026

Home / National / শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে "ককরোচ" ভিড়ে উত্তাল যন্তর মন্তর,  বিক্ষোভে আটক ৬ ছাত্র-যুব

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে "ককরোচ" ভিড়ে উত্তাল যন্তর মন্তর,  বিক্ষোভে আটক ৬ ছাত্র-যুব

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীকে পদ ছাড়তেই হবে। দিল্লির যন্তরমন্তরে শনিবার দাঁড়িয়ে এমনই দাবি করেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। তিনি জানালেন, আরশোলারা ভয় পায় না। তারা মরেও না। তাই লড়াই চলবে। তিনি বলেন, ‘‘আমি এখানে এসেছি সেই সব ভাই-বোনদের জন্য, যারা এখনও স্কুলে পড়ে।’’

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে "ককরোচ" ভিড়ে উত্তাল যন্তর মন্তর,  বিক্ষোভে আটক ৬ ছাত্র-যুব

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে "ককরোচ" ভিড়ে উত্তাল যন্তর মন্তর,  বিক্ষোভে আটক ৬ ছাত্র-যুব

৬ জুন ২০২৬

রাজধানীর যন্তর মন্তরে শনিবার ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র ডাকা বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সকাল থেকে ভিড় জমাতে শুরু করেন পড়ুয়া থেকে শুরু অভিভাবকরা। সেই কর্মসূচীকে ঘিরে কোনওরকম অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না হয় তার জন্য আগে থেকেই মোতায়েন ছিল পুলিশ। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ৬ জন বিক্ষভকারীকে আটক করল দিল্লি পুলিশ। পুলিশের তরফে দাবি করা হয়েছে, সাম্ভব্য অশান্তির আশঙ্কায় এই প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়।


কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীকে পদ ছাড়তেই হবে। দিল্লির যন্তরমন্তরে শনিবার দাঁড়িয়ে এমনই দাবি করেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। তিনি জানালেন, আরশোলারা ভয় পায় না। তারা মরেও না। তাই লড়াই চলবে। তিনি বলেন, ‘‘আমি এখানে এসেছি সেই সব ভাই-বোনদের জন্য, যারা এখনও স্কুলে পড়ে।’’

শনিবার যন্তরমন্তরে ‘ককরোচ’ দলের কর্মসূচি করার অনুমতি দিয়েছে পুলিশ। নিট কেলেঙ্কারিতে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে সেখানে প্রতিবাদে শামিল হয়েছেন সমর্থকেরা। যদিও সিজেপি জানিয়েছিল, অনুমতি না মিললেও শান্তিপূর্ণ ভাবে জমায়েত করবেন তাঁরা। সে জন্য সমর্থকদের জাতীয় পতাকা এবং বই হাতে সেখানে পৌঁছোনোর ডাকও দেয় সংগঠন।

কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিতে শুক্রবার রাতে দিল্লি বিমানবন্দরে নেমেছেন দীপকে। সেখানেই তাঁর সঙ্গে দেখা করেন দিল্লি পুলিশের আধিকারিকেরা। তাঁকে যন্তরমন্তরে কর্মসূচি করার অনুমতি দেয় দিল্লি পুলিশ। শনিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কর্মসূচির সময় । পুলিশ সেই অনুমতি দেওয়ার পরে সমর্থকদের সরাসরি যন্তরমন্তরে হাজির হতে বলেন দীপকে। আগে যদিও অনুমতি আদায়ের জন্য সমর্থকদের পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় জড়ো হতে বলেছিলেন তিনি। বিমানবন্দর থেকে সংবিধান প্রণেতা বিআর অম্বেডকরের আত্মজীবনী হাতে বেরিয়ে আসতে দেখা যায় দীপকেকে।


পুলিশ জানিয়েছে, আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, দুই গোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনা এড়ানো এবং শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি সম্পন্ন করাই ছিল আটক করার মূল উদ্দেশ্য। যদিও পুরো বিক্ষোভের সময়কালে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর মেলেনি।

 

পরিস্থিতি সার্বিকভাবে নিয়ন্ত্রণে ছিল বলে জানায় পুলিশ।  এই বিক্ষোভে শত শত ছাত্রছাত্রী ও তরুণ পেশাজীবী অংশ নেন। তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন অভিভাবকরাও। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে তাঁরা যন্তর মন্তরে সমবেত হন। পরীক্ষা ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

 

পুলিশ সূত্রে খবর, নয়াদিল্লি জেলা ও অন্যান্য স্পর্শকাতর এলাকায় এক হাজারেরও বেশি পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি, ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং দিল্লির বিভিন্ন সীমান্ত প্রবেশপথেও বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়।পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন ঊর্ধ্বতন পুলিশ আধিকারিকরাও। বিক্ষোভস্থলের চারপাশে ব্যারিকেড বসিয়ে অংশগ্রহণকারীদের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়। 

এই বিক্ষোভের অন্যতম আকর্ষণ ছিল অংশগ্রহণকারীদের অভিনব প্রতিবাদ। অনেক ছাত্রছাত্রী আরশোলার মুখোশ পরে এবং হাতে ফুল নিয়ে কর্মসূচিতে যোগ দেন।

বেশ কয়েকজন স্কুলপড়ুয়াও তাঁদের অভিভাবকদের সঙ্গে বিক্ষোভে উপস্থিত ছিল। বিক্ষোভকারীরা জানান, নিট, সিইউইটি, সিবিএসই সংযুক্ত বিভিন্ন পরীক্ষা এবং এসএসসি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে উত্তরের দাবি জানান। বিক্ষোভস্থলে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ পরীক্ষা ব্যবস্থার দাবিতে একাধিক স্লোগানও শোনা যায়।


সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত দেশের যুব সম্প্রদায়ের একাংশকে ‘আরশোলা’ এবং ‘পরজীবী’ বলে উল্লেখ করার পরে তৈরি হয়েছিল বিতর্ক। প্রধান বিচারপতির মতে, ওই তরুণ-তরুণীরা অন্য কোনও পেশায় স্থান না পেয়ে সাংবাদিক, সমাজমাধ্যম ব্যবহারকারী বা তথ্যের অধিকার কর্মী হিসাবে কাজ শুরু করেন ও সকলকে আক্রমণ করেন। প্রধান বিচারপতির ওই মন্তব্যের পর গত ১৬ মে সিজেপির পথচলা শুরু। ‘অনলাইন স্যাটায়ার মুভমেন্ট’ (ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক আন্দোলন) হিসাবে পথ চলা শুরু করার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে সমাজমাধ্যমে জনপ্রিয় হয় সিজেপি।

 

নিটের প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিবাদে শামিল হয় যুবসমাজ। সমর্থন জানান প্রযুক্তিবিদ দীপকেও। এ-ও জানান, নিট-আন্দোলনে বিক্ষোভকারীদের পাশে থাকতে দেশে ফিরবেন তিনি। শুধু তা-ই নয়, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিও জোরালো করে তোলেন। এক্স হ্যান্ডলে এক ভিডিয়োবার্তায় অভিজিৎ বলেন, ‘‘এখন সময় এসেছে আমাদের সকলকে ভারতের সংবিধানের পথ অনুসরণ করে একত্রিত হওয়ার। শান্তিপূর্ণ ভাবে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আওয়াজ তুলতে হবে।’’ তিনি নিজের গ্রেফতারির আশঙ্কাও প্রকাশ করেন। তবে এ-ও বলেন, ‘‘আমরা আর কত দিন ভয়ে থাকব? এই দেশ কোনও এক দলের নয়। দেশ আমাদের সকলের।’’


প্রতিবাদের পরেই দায়ের এফআইআর, তুঙ্গে বিতর্ক

যন্তর মন্তরের এই বিক্ষোভ বিকেল ৫টার আগেই শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়ে যায়। কিন্তু নাটকীয় মোড় ঘোরে এর ঠিক পরেই। এই বিক্ষোভের ওপর ভিত্তি করে ককরোচ জনতা পার্টির বিরুদ্ধে থানায় একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগে দাবি করা হয়েছে যে, এই সংগঠনটি নাকি ভারতের স্বার্থবিরোধী অর্থাৎ 'দেশবিরোধী' কার্যকলাপে লিপ্ত রয়েছে। এখানেই শেষ নয়, সিজেপি-র এই আন্দোলন পরিচালনার জন্য বিদেশ থেকে টাকা আসছে বা 'ফরেন ফান্ডিং' হচ্ছে বলেও গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।

নির্ধারিত সময়সীমা পার হয়ে যাওয়ায় এখন সবার নজর ককরোচ জনতা পার্টির দিকে। ব্যঙ্গাত্মক বা স্যাটায়ারধর্মী দল হিসেবে পরিচিত এই সংগঠনটি আগামী সপ্তাহে দেশজুড়ে কতটা বড় আন্দোলন গড়ে তুলতে পারে এবং তাদের বিরুদ্ধে হওয়া মামলার জল কতদূর গড়ায়, সেটাই এখন দেখার।

 

Your Opinion

We hate spam as much as you do