ভারতের সর্বোচ্চ আদালতের মতো প্রতিষ্ঠানে বিচার চলাকালীন এমন দৃশ্য খুব কমই দেখা যায়। কিন্তু ১০ জুলাই ২০২৬ ঠিক তেমনই এক অভাবনীয় ঘটনার সাক্ষী থাকল সুপ্রিম কোর্ট। আদালত কক্ষের ভিতরেই এক মামলাকারী বিচারপতিদের উদ্দেশে উচ্চস্বরে কথা বলতে শুরু করেন, নিজেকে "সার্বভৌম" বলে দাবি করেন, বিচারপতিদের "জুডিশিয়াল সার্ভেন্ট" বলে সম্বোধন করেন, এমনকি মামলার নথিও ছুড়ে ফেলেন। শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের নিরাপত্তারক্ষীদের তাঁকে জোর করে আদালত কক্ষের বাইরে নিয়ে যেতে হয়।
শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে নজিরবিহীন, নথি ছুড়ে বিচারকদের "জুডিশিয়াল সার্ভেন্ট" বলে চিৎকার
12 জুলাই 2026
ভারতের সুপ্রিম কোর্টে বিচার চলাকালীন এমন ঘটনা কার্যত নজিরবিহীন। ১০ জুলাই ২০২৬, বিচারপতি কে. ভি. বিশ্বনাথন এবং অলোক আরাধে-র বেঞ্চে নিজের মামলায় নিজেই সওয়াল করতে হাজির হন প্রবল প্রতাপ। কিন্তু আইনি যুক্তি দেওয়ার বদলে তিনি বিচারপতিদের "জুডিশিয়াল সার্ভেন্ট" বলে সম্বোধন করে তাঁদের নির্দেশ দিতে শুরু করেন। নিজেকে "সার্বভৌম" বলেও দাবি করেন।
আদালত তাঁর আবেদন মেনে নিতে রাজি না হওয়ায় তিনি ১৫৫ পৃষ্ঠার মামলার নথি আদালত কক্ষেই ছুড়ে ফেলেন এবং প্রধান বিচারপতিকে লক্ষ্য করেও অশালীন মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি সামাল দিতে নিরাপত্তারক্ষীদের তাঁকে জোর করে আদালত কক্ষের বাইরে নিয়ে যেতে হয়। কিন্তু এত কিছুর পরেও সুপ্রিম কোর্ট তাঁর বিরুদ্ধে অবমাননার মামলা শুরু করেনি। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, তাঁর বর্তমান মানসিক অবস্থা বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ভারতের সর্বোচ্চ আদালতের মতো প্রতিষ্ঠানে বিচার চলাকালীন এমন দৃশ্য খুব কমই দেখা যায়। কিন্তু ১০ জুলাই ২০২৬ ঠিক তেমনই এক অভাবনীয় ঘটনার সাক্ষী থাকল সুপ্রিম কোর্ট। আদালত কক্ষের ভিতরেই এক মামলাকারী বিচারপতিদের উদ্দেশে উচ্চস্বরে কথা বলতে শুরু করেন, নিজেকে "সার্বভৌম" বলে দাবি করেন, বিচারপতিদের "জুডিশিয়াল সার্ভেন্ট" বলে সম্বোধন করেন, এমনকি মামলার নথিও ছুড়ে ফেলেন। শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের নিরাপত্তারক্ষীদের তাঁকে জোর করে আদালত কক্ষের বাইরে নিয়ে যেতে হয়। কিন্তু এই ঘটনার পরেও আদালতের সিদ্ধান্ত অনেককেই অবাক করেছে। কারণ, আদালত তাঁর বিরুদ্ধে সঙ্গে সঙ্গে কোনও অবমাননার মামলা শুরু করেনি।
ঘटनাটি ঘটে সুপ্রিম কোর্টের ১৩ নম্বর আদালত কক্ষে, বিচারপতি কে. ভি. বিশ্বনাথন এবং বিচারপতি অলোক আরাধে-র বেঞ্চে। মামলাকারী প্রবল প্রতাপ কোনও আইনজীবী ছাড়াই নিজের হয়ে নিজেই সওয়াল করতে উপস্থিত হয়েছিলেন। তিনি এলাহাবাদ হাই কোর্টের একটি নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, লখনউয়ের এসিপি বিকাশ নগর-এর বিরুদ্ধে একটি এফআইআর নথিভুক্ত করার নির্দেশ দিক সুপ্রিম কোর্ট।
শুনানি শুরু হতেই আইনি যুক্তি উপস্থাপন করার বদলে প্রবল প্রতাপ বিচারপতিদের উদ্দেশে বলেন, "মিস্টার জুডিশিয়াল সার্ভেন্ট, আমি আপনাকে এসিপি বিকাশ নগরের বিরুদ্ধে এফআইআর নথিভুক্ত করার নির্দেশ দিচ্ছি। কারণ আমি সার্বভৌম।" আদালত কক্ষে উপস্থিত সকলেই মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে যান। বিচারপতি কে. ভি. বিশ্বনাথন সঙ্গে সঙ্গেই জিজ্ঞেস করেন, "আপনি আমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন?" কিন্তু তাতেও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রবল প্রতাপ বারবার একই ধরনের ভাষায় বিচারপতিদের সঙ্গে কথা বলতে থাকেন এবং আদালতকে নিজের দাবি মেনে নেওয়ার নির্দেশ দিতে থাকেন। বেঞ্চ যখন বুঝিয়ে দেয় যে তারা তাঁর চাওয়া অনুযায়ী নির্দেশ দিতে আগ্রহী নয়, তখন তিনি আরও উত্তেজিত হয়ে পড়েন। নিজের সঙ্গে আনা ১৫৫ পৃষ্ঠার মামলার নথি আদালত কক্ষের মধ্যেই ছুড়ে ফেলেন। কাগজ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। সেই সময় তিনি দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত-এর বিরুদ্ধেও অশালীন মন্তব্য করেন বলে একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, সেই সময় প্রধান বিচারপতি ওই বেঞ্চে উপস্থিত ছিলেন না।
পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে থাকায় সুপ্রিম কোর্টের নিরাপত্তারক্ষীরা এগিয়ে আসেন। প্রবল প্রতাপকে আটক করে আদালত কক্ষের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি বেরিয়ে যাওয়ার সময়ও চিৎকার করে বিভিন্ন মন্তব্য করতে থাকেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় উঠে এসেছে। নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার পর আদালতের কাজ আবার স্বাভাবিকভাবে শুরু হয় এবং অন্য মামলার শুনানি চলতে থাকে।
ঘটনার পরে বেঞ্চ একটি সংক্ষিপ্ত আদেশে জানায়, শুনানি শুরু হওয়ার পর মামলাকারী নিজের মামলার বক্তব্য তুলে ধরার পরিবর্তে "অসংলগ্ন এবং সংসদীয় শালীনতার পরিপন্থী মন্তব্য" করেছেন। আদালতের নথিতেই এই পর্যবেক্ষণ লিপিবদ্ধ করা হয়। একই সঙ্গে বেঞ্চ জানায়, মামলাকারীর বর্তমান অবস্থার কথা বিবেচনা করে তাঁর বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব তারা করছে না। সাধারণভাবে আদালতের কাজ ব্যাহত করা বা বিচারপতিদের অপমান করা আদালত অবমাননার বিষয় হতে পারে। কিন্তু এই ক্ষেত্রে বিচারপতিরা ভিন্ন পথ বেছে নেন।
পরে বিচারপতি কে. ভি. বিশ্বনাথন মন্তব্য করেন, ওই ব্যক্তি অত্যন্ত মানসিক অস্থিরতার মধ্যে রয়েছেন এবং তাঁর আচরণের পিছনে গভীর হতাশা কাজ করছে বলেই মনে হয়েছে। আদালতের পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি সহানুভূতিই প্রকাশ করা হয়। তাই শাস্তিমূলক পদক্ষেপ না নিয়ে তাঁকে আদালত কক্ষ থেকে সরিয়ে দেওয়াতেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ রাখা হয়।
শৃঙ্খলা ফিরে আসার পরে বেঞ্চ মামলার নথি পরীক্ষা করে দেখে এলাহাবাদ হাই কোর্টের নির্দেশে হস্তক্ষেপ করার মতো কোনও আইনি কারণ নেই। সেই কারণেই প্রবল প্রতাপের আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়। অর্থাৎ তাঁর আচরণের জন্য নয়, মামলার আইনি ভিত্তি পর্যবেক্ষণ করেই আবেদনটি বাতিল করা হয়।
এই ঘটনার পর দেশের আইনজীবী মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট আর্গুইং কাউন্সেল অ্যাসোসিয়েশন প্রধান বিচারপতির কাছে চিঠি লিখে আদালতের মর্যাদা রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে আদালত কক্ষের দৃশ্য বেছে বেছে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেছে সংগঠনটি। তাদের মতে, এমন ঘটনা বিচারব্যবস্থা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ধারণার উপর প্রভাব ফেলতে পারে এবং আদালতের শৃঙ্খলা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
We hate spam as much as you do