বিজেপির বর্তমান অবস্থা নজিরবিহীনভাবে বিশৃঙ্খলায় পূর্ণ । মুলত পুরোনো বিজেপি ও সদ্য তৃনমুল ছেড়ে আসা বিজেপির মধ্যে তীব্র দ্বন্দ্ব জনগণকে দল সম্পর্কে বিরুপ করে তুলছে।
বিজেপিতে নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা - প্রার্থী নিয়ে
হেস্টিংসের অফিসের সামনে শিবপ্রসাদ রায়,অর্জুন সিং , মুকুল রায়ের সামনেই ব্যাপক বিক্ষোভ হয়।
ক্যানিং পশ্চিম কেন্দ্রে প্রার্থী অর্ণব রায় নাকি তিরিশ বছর কংগ্রেস করে বছর তিনেক আগে তৃনমুলে যুক্ত হন। সম্প্রতি বিজেপিতে যুক্ত হয়েই প্রার্থী হয়েছেন । বিজেপি নেত্রী মায়া নাগ বলেছেন 'গিরগিটির মত রঙ বদলায় , সে প্রার্থী ।' এদিকে সিঙ্গুরে সদ্য তৃনমুল ছেড়ে বিজেপিতে আসা রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে বিজেপি মন্ত্রীকে কর্মীরা তালা বন্ধ করে রাখেন। পাঁচলায় প্রার্থীর বিরুদ্ধে উলুবেড়িয়ায় ব্যাপকভাবে বিজেপির পার্টি অফিস কর্মীরাই ভাঙচুর করে। এদিকে প্রার্থীপদ না পেয়ে দেবশ্রী রায় তৃনমুল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েই প্রার্থী হয়েছেন । জয়নগরে রবীন সরকারের বিরুদ্ধে রাস্তায় টায়ার জ্বালানো হয়।
এছাড়া কুলতলি , জয়নগরে প্রার্থী বাতিলের দাবীতে বিক্ষোভ সীমা ছাড়িয়েছে।
গত দুদিন ধরে প্রার্থীপদ ঘোষনার পর রাজ্যের বিভিন্ন অংশে বিজেপি দলের অন্তদ্বন্দ প্রকাশ্যে চলে এসেছে। আসলে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি বিধানসভা এলাকায় বিজেপির তেমন সংগঠন নেই। গত লোকসভা নির্বাচনে এক বড় অংশের মানুষের ভোট বিজেপির কমিটেড ভোট নয়। এ বছর বিজেপি সর্বত্র প্রার্থী দিতে হিমসিম খাচ্ছে । কারন বিজেপি দলে কার্যত বেশিরভাগই তৃনমুল দল ভেঙে আসা নেতা কর্মীর প্রাধান্য । এরা তৃনমুল দলের বিশৃঙ্খলা সঙ্গে করে নিয়ে এসেছেন বলে পুরোনো বিজেপি কর্মীদের বক্তব্য । তাদের ক্ষোভ যে বিজেপিতে আর পুরোনোরা যায়গা পাচ্ছে না। এটা ঠিক, এখনো পর্যন্ত যা প্রার্থী তালিকা তাতে দু চার মাস আগে বিজেপি হওয়া প্রাক্তন তৃনমুল নেতা অথবা টিভি সিরিয়ালের অভিনেতা ছাড়া খুব বেশি পুরোনো বিজেপির লোক নেই।
এদিকে শোভন - বৈশাখী টিকিট না পেয়ে দল ছেড়েছেন।
রায়দিঘিতে বিজেপি প্রার্থী শান্তনু বাপুলি আদৌ এখনো তৃনমুল ছেড়েছেন কিনা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন দলের একাংশ। তিনি এখনো জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ আছেন।
পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুরেও ক্ষোভ প্রকাশ্যে আসে। চুঁচুড়ায় লকেট চ্যাটার্জি প্রার্থী হতেই পুরোনো নেতা সুবীর নাগ ক্ষোভে ফেটে পড়েন। দু মাস আগে তৃনমুল থেকে বিজেপিতে যুক্ত হওয়া বাঁকুড়ার শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় টিকিট না পেয়ে বলেন " সাড়ে তিন কোটি টাকায় বিজেপির টিকিট বিক্রি হয়েছে " তিনি আবার পা'এ চোট লাগা মমতা ব্যানার্জিকে দেখতে গিয়েছিলেন। তিনি নাকি আবার তৃনমুলে ফিরতে চান।
তৃনমুলের পক্ষে থেকে বলা হয়েছে বলে খবরে প্রকাশ "আমাদের দলের 'পচা মাল' গুলো বিজেপিতে গিয়ে প্রার্থী হচ্ছে "
এদিকে তৃনমুল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ২৯১ টা প্রার্থী ঘোষনার পর চারিদিকে ক্ষোভ , দলত্যাগের খবর পাওয়া যায়। সোনালী গুহ, রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য দলত্যাগ করেন। তবে
বিজেপির বর্তমান অবস্থা নজিরবিহীনভাবে বিশৃঙ্খলায় পূর্ণ । মুলত পুরোনো বিজেপি ও সদ্য তৃনমুল ছেড়ে আসা বিজেপির মধ্যে তীব্র দ্বন্দ্ব জনগণকে দল সম্পর্কে বিরুপ করে তুলছে।
যদিও দলের নেতৃত্বের বক্তব্য এসব প্রভাব ফেলবেনা। যদিও নেতৃত্ব এই বিশৃঙ্খলায় বেশ চিন্তিত বলেই হঠাত্ করে অমিত শাকে বৈঠক ডাকতে হল।
ওয়াকিবহাল মহলের ধারনা এতে গত লোকসভা নির্বাচনের সময় প্রাপ্ত ভোট বিজেপির অনেক কমে যাবে । বামপন্থীদের শৃঙ্খলা দেখতে অভ্যস্ত ভোটার বিজেপির থেকে মুখ ঘুরিয়ে নিতে পারেন।
We hate spam as much as you do