ইরানের এই অধিকারের মধ্যে প্রধান বিষয় হলো দেশটির ওপর আরোপিত মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহার করা। বাঘাই জোর দিয়ে বলেন, ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া আমাদের ন্যায্য অধিকারের অংশ, যা নিশ্চিত করা জরুরি।
ইরান -যুক্তরাষ্ট্র গোপন বৈঠক চলছে, হরমুজ খোলা ছাড়া ট্রাম্পের "তাড়া' নেই
২০ মে ২০২৬
দীর্ঘদিনের বৈরী সম্পর্কের অবসান ঘটাতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আবারও আলোচনা শুরু করেছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে এই কূটনৈতিক সংলাপ চলমান রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
ব্রাজিলিয়ান সংবাদপত্র ‘ফোলহা দে সাও পাওলো’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এই তথ্য জানান। পরবর্তীতে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ‘ইরনা’ (IRNA) তার এই বক্তব্য প্রকাশ করে।
ইসমাইল বাঘাই বলেন, "তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে অব্যাহত রয়েছে।" তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই আলোচনায় ইরান কোনো অতিরিক্ত বা অন্যায্য দাবি করছে না। তিনি বলেন, "মূলত আমরা যা চাচ্ছি তা কোনো বাড়তি দাবি নয়, বরং আমাদের অধিকার।"
ইরানের এই অধিকারের মধ্যে প্রধান বিষয় হলো দেশটির ওপর আরোপিত মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহার করা। বাঘাই জোর দিয়ে বলেন, ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া আমাদের ন্যায্য অধিকারের অংশ, যা নিশ্চিত করা জরুরি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি চান হরমুজ প্রণালি অবিলম্বে উন্মুক্ত করা হোক এবং তার মতে "এটি এখনই খুলে দেওয়া উচিত"।
বুধবার ইরানের সঙ্গে আলোচনা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, “আমাদের হরমুজ প্রণালি খুলতে হবে এবং এটি অবিলম্বে খুলে দেওয়া উচিত”।
ইরানের সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেছেন, কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে তার "কোনো তাড়া নেই"।
“আমি শুধু দেখতে চাই তারা তাদের জনগণের জন্য সেরা কিছু চায় কি না,” বলেছেন মি. ট্রাম্প।
তিনি বলেন, “এখন ইরানে অনেক ক্ষোভ রয়েছে, কারণ মানুষ খুব খারাপ অবস্থায় জীবনযাপন করছে। সেখানে এমন অস্থিরতা চলছে যা আমরা আগে কখনও দেখিনি। দেখা যাক এরপর কী হয়।”
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং অর্থনৈতিক সংকটের মাঝে ওয়াশিংটনের সাথে তেহরানের এই প্রচ্ছন্ন সংলাপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা দক্ষিণ এশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে একটি নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। তবে এই আলোচনার মাধ্যমে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র কতটুকু ইতিবাচক সাড়া দেবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
We hate spam as much as you do