ই-ফার্মেসি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে স্মারকলিপি পাঠিয়েছেন ওষুধ ব্যবসায়ীরা। তাঁদের অভিযোগ, ওষুধ ব্যবসার সমস্যাগুলোর সমাধানে বারবার আবেদন জানানো হলেও কোনও লাভ হয়নি। তাই ধর্মঘটের পথ বেছে নিয়েছেন তাঁরা। সংগঠনের দাবি, ই-ফার্মেসিগুলো নিয়মের ফাঁক গলে রমরমিয়ে ব্যবসা চালাচ্ছে। তার ফলে লাটে ওঠার জোগাড় হয়েছে ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের।
আজ দেশজুড়ে ৮ লক্ষ ফার্মেসি ধর্মঘট - অনলাইনের নামে চুড়ান্ত অনিয়মের প্রতিবাদে
20 May 2026
দেশজুড়ে হাজার হাজার ওষুধের দোকান এক দিনের জন্য বন্ধ (medicine shop closure) থাকায় উদ্বিগ্ন সাধারণ মানুষ। অল ইন্ডিয়া অর্গানাইজেশন অফ কেমিস্টস অ্যান্ড ড্রাগিস্টস (AIOCD) ২০ মে অর্থাৎ আজ, সারা দেশে ধর্মঘটের ঘোষণা করেছে (chemist protest)। প্রায় ১২.৪ লক্ষের বেশি কেমিস্ট, ফার্মাসিস্ট এবং ওষুধ পরিবেশকদের প্রতিনিধিত্ব করা এই সংগঠনের দাবি, ই-ফার্মেসির নিয়মকানুনের ত্রুটি দূর করতেই এই প্রতিবাদ (AIOCD nationwide strike)। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের আশ্বাস, ধর্মঘট হলেও জনসাধারণকে ওষুধের কোনও ঘাটতির মুখে পড়তে হবে না।
ই-ফার্মেসি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে স্মারকলিপি পাঠিয়েছেন ওষুধ ব্যবসায়ীরা। তাঁদের অভিযোগ, ওষুধ ব্যবসার সমস্যাগুলোর সমাধানে বারবার আবেদন জানানো হলেও কোনও লাভ হয়নি। তাই ধর্মঘটের পথ বেছে নিয়েছেন তাঁরা। সংগঠনের দাবি, ই-ফার্মেসিগুলো নিয়মের ফাঁক গলে রমরমিয়ে ব্যবসা চালাচ্ছে। তার ফলে লাটে ওঠার জোগাড় হয়েছে ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের।
অধিকাংশ অনলাইন ওষুধ বিক্রির প্ল্যাটফর্মেই পেসক্রিপশন দেখার কোনও ব্যবস্থা নেই। আবার নামী-দামি যে সব প্ল্যাটফর্মে পেসক্রিপশন না দেখালে ওষুধ বিক্রি হয় না, সেখানে ক্রেতারা AI-এর দ্বারস্থ হচ্ছেন। ফলে অবাধে অ্যান্টিবায়োটিক এবং নেশার ওষুধ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এতে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (AMR)-এর মতো বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ।
করোনা মহামারির সময় যাতে সাধারণ মানুষ সহজেই বাড়িতে বসে ওষুধ পেতে পারেন, তার জন্য ২০২০ সালের ২৬ মার্চ কিছু অস্থায়ী ছাড় এবং নিয়ম শিথিল করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। সংগঠনের দাবি, সেই সুযোগে অনলাইন ওষুধ বিক্রির প্ল্যাটফর্মগুলি অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ নিয়মকানুন না মেনেই ব্যবসা করছে। তাই করোনাকালের নিয়ম আর এখন নিয়ম চালু রাখার কোনও প্রয়োজন নেই।
ধর্মঘটের কারণ কী?
AIOCD জানিয়েছে, ই-ফার্মেসি এবং তাৎক্ষণিক ওষুধ সরবরাহকারী অ্যাপগুলির ক্ষেত্রে স্পষ্ট নিয়ম (online pharmacy issues) না থাকায় নানা অনিয়ম হচ্ছে। তাদের অভিযোগ,
প্রেসক্রিপশন যাচাইয়ের পদ্ধতি ঠিকভাবে নির্ধারিত নয়
কোন নিয়মে ওষুধ সরবরাহ হবে তা পরিষ্কার নয়
আইন লঙ্ঘন করলে জবাবদিহির কাঠামো নেই।
AIOCD-এর অভিযোগ হলো, সরকার যে দুটি নিয়ম (GSR 220(E) ও GSR 817(E)) জারি করেছে, তাতে ই-ফার্মেসিগুলো স্পষ্ট আইন ছাড়াই কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে। এই ‘আইনি ফাঁক’-এর সুযোগ নিয়ে অনলাইন ফার্মেসিগুলো তদারকি ছাড়াই চলতে পারছে। তাই এই দুই বিজ্ঞপ্তি তৎক্ষণাত তুলে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠন।
অনলাইন ফার্মেসির বিরুদ্ধে অভিযোগ
AIOCD-এর সাধারণ সম্পাদক রাজীব সিংঘল জানিয়েছেন, অনেক অনলাইন ফার্মেসি ও ইনস্ট্যান্ট ডেলিভারি প্ল্যাটফর্ম জাল বা ভুল প্রেসক্রিপশনের ভিত্তিতে ওষুধ সরবরাহ করছে। তাঁর দাবি, “অনলাইন ফার্মেসিকেও প্রচলিত দোকানের মতোই কড়া নিয়মে পরিচালনা করতে হবে।”
দেশজুড়ে কত দোকান বন্ধ থাকতে পারে?
সংগঠনের দাবি, দিল্লিতে প্রায় ১৫ হাজার এবং সারা দেশে ৭–৮ লক্ষ খুচরো ওষুধের দোকান ধর্মঘটে অংশ নিতে পারে। ফলে কিছু এলাকায় সাময়িকভাবে ওষুধ পাওয়া সমস্যায় ফেলতে পারে সাধারণ মানুষকে।
তবে কোন কোন দোকান খোলা থাকবে?
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, ধর্মঘট হলেও জরুরি ফার্মেসিগুলি চালু থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে,
সমস্ত বড় ফার্মেসি চেইন
হাসপাতালের ফার্মেসি
জন ঔষধি কেন্দ্র (PMBJP)
অমৃত ফার্মেসি
এছাড়া বেশ কয়েকটি রাজ্যের কেমিস্ট ও ড্রাগিস্ট সংগঠন নিজেদেরকে ধর্মঘট থেকে সরিয়ে নিয়েছে। তারা জানিয়েছে, জনস্বার্থে ওষুধের দোকান খোলা রাখা হবে।
২০ মে-র দেশব্যাপী ধর্মঘটকে কেন্দ্র করে আশঙ্কা তৈরি হলেও, কেন্দ্র ও বেশ কয়েকটি রাজ্য সংগঠনের আশ্বাস—ওষুধের যোগান থমকে যাবে না।
We hate spam as much as you do