ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত একটি শুনানিতে বেকার যুবকদের "তেলাপোকা" (Cockroach) এবং "পরজীবী" বলে মন্তব্য করার পর তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়। এই মন্তব্যের প্রতিবাদে ও ক্ষোভে, আম আদমি পার্টির প্রাক্তন সোশ্যাল মিডিয়া স্ট্র্যাটেজিস্ট অভিজিৎ দিপকে ১৬ মে, ২০২৬ তারিখে এই ব্যঙ্গাত্মক প্ল্যাটফর্মটি প্রতিষ্ঠা করেন।
ককরোচ জনতা পার্টির ১কোটির বেশি ফলোয়ার্স, BJP কে ছাড়িয়ে যেতেই CJPর X একাউন্ট বন্ধ
মে ২১, ২০২৬
দেশের প্রধান বিচারপতির ‘কটাক্ষমূলক’ মন্তব্যের প্রতিবাদে আত্মপ্রকাশ করেছিল এক সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট। জন্মের মাত্র পাঁচদিনের মধ্যেই সেই অ্যাকাউন্ট ছাপিয়ে গেল দেশের শাসক দলকে! পরিসংখ্যান বলছে, ককরোচ জনতা পার্টির ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার সংখ্যা ১২ মিলিয়ন ছাড়িয়েছে। অর্থাৎ এক কোটিরও বেশি মানুষ ফলো করছেন এই অ্যাকাউন্টটিকে। বিজেপির ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার সংখ্যাকে পিছনে ফেলে দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। তারপরেই এই ‘পার্টি’র সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে খবর ছড়িয়েছে।
ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত একটি শুনানিতে বেকার যুবকদের "তেলাপোকা" (Cockroach) এবং "পরজীবী" বলে মন্তব্য করার পর তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়। এই মন্তব্যের প্রতিবাদে ও ক্ষোভে, আম আদমি পার্টির প্রাক্তন সোশ্যাল মিডিয়া স্ট্র্যাটেজিস্ট অভিজিৎ দিপকে ১৬ মে, ২০২৬ তারিখে এই ব্যঙ্গাত্মক প্ল্যাটফর্মটি প্রতিষ্ঠা করেন।
প্রত্যেক মিনিটে হুহু করে বাড়ছে ককরোচ জনতা পার্টির। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার পরিসংখ্যান বলছে, ১২.৮ মিলিয়ন ফলোয়ার রয়েছে এই সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের। আত্মপ্রকাশের মাত্র পাঁচদিনের মধ্যেই ইনস্টাগ্রামে বিজেপির ফলোয়ার সংখ্যা টপকে গিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। বর্তমানে শাসক দল বিজেপির ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার সংখ্যা ৮.৭ মিলিয়ন অর্থাৎ ৮৭ লক্ষ। সেটার চেয়ে বেশি ফলোয়ার রয়েছে ককরোচ পার্টির। আপাতত ১ কোটি ২৮ লক্ষ ফলোয়ার রয়েছে তাদের। কংগ্রের ইনস্টাগ্রামে ১৩.২ মিলিয়ন ফলোয়ার রয়েছে, অর্থাৎ ১ কোটিরও বেশি। তাকেও ছাপিয়ে যেতে পারে ককরোচ জনতা পার্টির জনপ্রিয়তা।
এহেন সাফল্যের পর ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র প্রতিষ্ঠতা অভিজিৎ দীপক। পরিসংখ্যান তুলে ধরে তাঁর কটাক্ষ, ‘বিজেপি নিজেকে বিশ্বের বৃহত্তম পার্টি হিসাবে দাবি করে। কিন্তু ওদের টপকে যেতে আমাদের মাত্র চারদিন লাগল। দেশের যুবশক্তির ক্ষমতাকে হালকাভাবে নেওয়া যাবে না।’ এই পোস্ট করার কয়েকঘণ্টার মধ্যেই দেখা যায়, এক্স থেকে উধাও হয়ে গিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টির অফিসিয়াল হ্যান্ডেল। বলা হচ্ছে, আইনি কারণে ভারতে এই অ্যাকাউন্টটি আপাতত সাসপেন্ড রাখা হয়েছে।
ADVERTISEMENT
যদিও দেশের প্রধান বিচারপতি পরবর্তীতে নিজের মন্তব্যের সপক্ষে দাবি করেছিলেন, তাঁর কথা বিকৃত করা হয়েছে। যারা ভুয়ো ডিগ্রি নিয়ে নানা পেশায় ঢুকে পড়েছে, তাদের জন্যই তিনি ওই মন্তব্য করেছিলেন।
তবে CJI-এর সাফাই মোটে যুক্তিগ্রাহ্য মনে হয়নি ককরোচ জনতা পার্টির ফলোয়ারদের। মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই এই পার্টি লক্ষ লক্ষ ফলোয়ার অর্জন করে ফেলে। এই পার্টি জয়েন করে ফেলেন আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ, সমাজকর্মী অঞ্জলি ভরদ্বাজ, তৃণমূলের দুই সাংসদ মহুয়া মৈত্র এবং কীর্তি আজাদ।
ককরোচ জনতা পার্টির আদর্শ কী?
দলের ইশতেহারও তৈরি হয়েছে। যেখানে ব্যঙ্গের সঙ্গে সঙ্গেই রাজনৈতিক দাবিদাওয়াও প্রকাশ পেয়েছে। তাদের প্রস্তাবগুলির মধ্যে রয়েছে অবসর পরবর্তী সময়ে প্রধান বিচারপতিদের জন্য রাজ্যসভার পদে নিষেধাজ্ঞা, নির্বাচন কমিশনের আরও শক্তিশালী জবাবদিহি করার ক্ষমতা, সংসদ ও মন্ত্রিসভায় মহিলাদের জন্য ৫০ শতাংশ সংরক্ষণ এবং মিডিয়ার মালিকানা ও কর্মসংস্থান অধিকারের ক্ষেত্রে সংস্কার।
CJP নিজেকে সেই সব ছাত্রছাত্রীদের কণ্ঠস্বর হিসেবেও তুলে ধরেছে, যাঁরা NEET প্রশ্নফাঁস বিতর্ক এবং বেকারত্বের মতো সমস্যায় প্রভাবিত হয়েছে।
অভিজিৎ দিপকে জোর দিয়ে বলেছেন, 'এই আন্দোলন শুধুমাত্র ক্ষণস্থায়ী কোনও মিম ট্রেন্ড নয়, বরং ভারতীয় যুবসমাজের ক্রমবর্ধমান হতাশার প্রতিফলন।'
ককরোচ জনতা পার্টি আদৌ একটি আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক সংগঠনে পরিণত হবে নাকি ইন্টারনেট নির্ভর প্রতিবাদ আন্দোলন হিসেবেই থেকে যাবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
এক্স অ্যাকাউন্ট সাসপেন্ড হওয়ার পরেই ইনস্টাগ্রামে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন অভিজিৎ। তাঁর প্রশ্ন, কেন সরিয়ে দেওয়া হল এই অ্যাকাউন্ট? এই অ্যাকাউন্ট থেকে কোনও অন্যায় মন্তব্য করা হয়নি, উসকানিমূলক পোস্টও করা হয়নি। কিছু সামাজিক ইস্যুতে পোস্ট করা হয়েছে স্রেফ। তাহলে কেন রুখে দেওয়া হচ্ছে এই অ্যাকাউন্টের কার্যাবলি? জবাব নেই কারোর কাছেই।
We hate spam as much as you do