Tranding

03:24 AM - 23 Jul 2026

Home / National / দিল্লিতে বিক্ষোভ থেকে আটক রাহুল-প্রিয়াঙ্কা, রাতে ছাড়ল পুলিশ

দিল্লিতে বিক্ষোভ থেকে আটক রাহুল-প্রিয়াঙ্কা, রাতে ছাড়ল পুলিশ

কংগ্রেসের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবসহ কংগ্রেসের আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতাকেও মঙ্গলবার আটক করা হয়েছিল। নিট প্রশ্ন ফাঁস ও ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সমাবেশে পুলিশি হামলার প্রতিবাদে এদিন দুপুর থেকে দিল্লির কল্যান মার্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাসভবনের সামনে তার পদত্যাগের দাবিতে অবস্থান নেন রাহুল, প্রিয়াঙ্কা, অখিলেশসহ কংগ্রেস নেতাকর্মীরা।

দিল্লিতে বিক্ষোভ থেকে আটক রাহুল-প্রিয়াঙ্কা, রাতে ছাড়ল পুলিশ

দিল্লিতে বিক্ষোভ থেকে আটক রাহুল-প্রিয়াঙ্কা, রাতে ছাড়ল পুলিশ

 21 Jul 2026, 


ভারতের মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তির সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষারে (নিট) প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে যন্তর মন্তরে লাঠিচার্জের প্রতিবাদে কংগ্রেসের বিক্ষোভ ঘিরে উত্তপ্ত ভারতের রাজধানী দিল্লি।

প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে ধর্নায় বসা বিরোধী দল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে আটক করে টেনে হিঁচড়ে বাসে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ।

বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা গেছে, রাহুল গান্ধীকে প্রায় ‘চ্যাংদোলা’ করে তুলে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। তবে কোথায় তা জানত না দলের লোকজন।

তাদেরকে কয়েকঘন্টা আটকে রাখার পর রাত ৯ টার দিকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

কংগ্রেসের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবসহ কংগ্রেসের আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতাকেও মঙ্গলবার আটক করা হয়েছিল।

নিট প্রশ্ন ফাঁস ও ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সমাবেশে পুলিশি হামলার প্রতিবাদে এদিন দুপুর থেকে দিল্লির কল্যান মার্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাসভবনের সামনে তার পদত্যাগের দাবিতে অবস্থান নেন রাহুল, প্রিয়াঙ্কা, অখিলেশসহ কংগ্রেস নেতাকর্মীরা।

ছিলেন কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। পুলিশ ধর্না তুলতে এলে বাধে খণ্ডযুদ্ধ। মাটিতে শুয়ে পড়েন রাহুল গান্ধী। সেখান থেকে তাকে টেনে হিঁচড়ে পাঁজাকোলা করে তুলে নিয়ে যায় দিল্লি পুলিশ।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া চিত্রে দেখা যায়, অন্তত ১০ জন পুলিশকর্মী রাস্তায় বসে থাকা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে ঘিরে ফেলেন। সেখান থেকে সরতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে বলপ্রয়োগ করে টেনে-হিঁচড়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

এ সময় তার নাক দিয়ে রক্ত পড়তে দেখা যায়। ওই অবস্থাতেই রাস্তায় শুয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “ভারতে এখন এভাবেই গণতন্ত্র পরিচালিত হচ্ছে।” টানতে টানতে নিয়ে যাওয়া হয় প্রিয়ঙ্কা গান্ধীকেও।

ভারতের ‘দ্য হিন্দু’ এবং পশ্চিমবঙ্গের ‘ইটিভি ভারত’ নেটওয়ার্ক জানায়, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে মন্দির মার্গ থানায়, রাহুল গান্ধিকে দিল্লির মডেল টাউনে ছত্রশাল স্টেডিয়ামে এবং অন্য সাংসদদের কিংসওয়েতে নিয়ে যাওয়া হয়৷

ওদিকে, কংগ্রেস সংসদীয় দলের চেয়ারপারসন সোনিয়া গান্ধীকে মন্দির মার্গ থানায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়, যেখানে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ছিলেন।

সোনিয়া মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মার্গ থানায় পৌঁছেন। তিনি সেখানে প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে দেখাও করেন। এরপর গান্ধীদের দুইজনকেই রাত ৯ টার দিকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

দিল্লি পুলিশের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, কোনও অনভিপ্রেত ঘটনা এড়াতে এবং এলাকায় প্রশাসনিক নিরাপত্তা বজায় রাখতেই নেতাদেরকে আটক করা হয়। আইনি প্রক্রিয়া ও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরিস্থিতিসাপেক্ষে তাদের ছেড়ে দেওয়া হতে পারে বলেও তখন জানিয়েছিলেন পুলিশ কর্মকর্তারা।

পুলিশের আটকাভিযানের আগে মঙ্গলবার দুপুরে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবন থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরে ৭ লোক কল্যাণ মার্গে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন অভিমুখে পদযাত্রা শুরু করেছিলেন কংগ্রেস নেতা-কর্মীরা।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অভূতপূর্ব এক ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (পিএমও) প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং ধরনাস্থলে গিয়ে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসেন। তবে এই আলোচনা শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি।

অন্যদিকে, মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ অভিযোগ করে লেখেন, রাহুল গান্ধী প্রথমে শুধু সংসদে আলোচনার প্রতিশ্রুতিতে আন্দোলন তোলার কথা বললেও পরবর্তীতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের নতুন শর্ত জুড়ে দিয়ে নিজের অবস্থান থেকে সরে যান।

সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় রাহুল গান্ধী শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি পদক্ষেপকে ‘প্রতিটি ভারতীয় পরিবারের ওপর হামলা’ বলে আখ্যা দেন এবং দেশবাসীকে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।

অবস্থান কর্মসূচি শুরুর পরপরই তিনি শিক্ষামন্ত্রীর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগ দাবি করেন।

এই রাজনৈতিক উত্তেজনার মূল পটভূমি তৈরি হয়েছিল সোমবার ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র সংসদ ভবন অভিমুখে পরিচালিত আন্দোলনকে কেন্দ্র করে।

নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে আয়োজিত ওই কর্মসূচিতে পুলিশ ও র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ) টিয়ারগ্যাস ও লাঠিচার্জ চালায়। সিজেপির দাবি, এতে বহু শিক্ষার্থী রক্তাক্ত ও আহত হন।

তবে দিল্লি পুলিশ ওই অভিযোগ খণ্ডন করে দাবি করে, আন্দোলনকারীরা উগ্র আচরণ করে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করে এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এই সহিংসতায় জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাসহ ১১৮ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানায় তারা।

এ পরিস্থিতিতে বিজেপি কংগ্রেসের এই কর্মসূচিকে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি হিসেবে অভিহিত করলেও কংগ্রেস শুরু থেকেই দাবি করে আসছে যে তাদের আন্দোলন ছিল সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ।

Your Opinion

We hate spam as much as you do