এক ছাত্র রৌশন কুমার বলছেন," এই চারাগাছের জন্যই আমি মুম্বাইয়ে আয়কর বিভাগে চাকরি পেয়েছি, না হলে আমাকে বেঁচে থাকার জন্য বাবার মতোই রাস্তার ধারে বসে মশলাপাতি বিক্রি করতে হতো।" তীব্র আর্থিক দুরবস্থা রৌশন কুমারের জীবনের সব আশার আলো নিভিয়ে দিয়েছিল কিন্তু এই কোচিং প্রতিষ্ঠান তাকে নতুন জীবনের স্বাদ দিল।
উদ্ভাবনী পরিবেশ আন্দোলন
সৌরভ চক্রবর্তী
বিহারের এক কোচিং প্রতিষ্ঠানে গরিব ছাত্র-ছাত্রীদের ভর্তি ফি বাবদ ১৮ টি চারা গাছ নেওয়া হয়। কোচিং প্রতিষ্ঠানের মহতি এই সবুজায়ন প্রয়াসের সাথে সাথে তারা দুস্থ ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য তৈরী করে। এই অভিনব উদ্যোগে তারা শুধু গরিব পরিবারের ৫০০০ জন ছাত্রছাত্রীকে তৈরিই করেনি, অঞ্চলের সবুজের আচ্ছাদনও বাড়িয়ে তুলছে। প্রতিষ্ঠানটি ২০০৮ সালে সমস্তিপুর জেলার রোসেরা ব্লকে কাজ শুরু করেছিল। এখনও পর্যন্ত তারা এক লক্ষ দশ হাজার চারা রোপণ করতে সমর্থ হয়েছে। চারাগাছ গুলি হল মূলত ফলের চারা, এগুলি রোপণ করা হয়েছে উত্তর বিহারের সমস্তিপুর, বেগুসরাই, দ্বারভাঙ্গা এবং খাগারিয়ায়।
ভর্তি ফি বাবদ আঠারোটি ছাড়া নেওয়া হয় কেন? এই ভাবনা যার মস্তিষ্কপ্রসূত সেই পরিবেশ এবং জলবায়ু পরিবর্তন কর্মী রাজেশ কুমার সুমন বললেন, " একজন মানুষের সারা জীবনের প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সরবরাহ করে ১৮ টি গাছ, মানুষ পরিবেশ সংরক্ষণ না করলে বাঁচবে কি করে? পরিবেশ রক্ষা এবং সবুজায়ন করা আমাদের সবার যৌথ দায়িত্ব।
এক ছাত্র রৌশন কুমার বলছেন," এই চারাগাছের জন্যই আমি মুম্বাইয়ে আয়কর বিভাগে চাকরি পেয়েছি, না হলে আমাকে বেঁচে থাকার জন্য বাবার মতোই রাস্তার ধারে বসে মশলাপাতি বিক্রি করতে হতো।" তীব্র আর্থিক দুরবস্থা রৌশন কুমারের জীবনের সব আশার আলো নিভিয়ে দিয়েছিল কিন্তু এই কোচিং প্রতিষ্ঠান তাকে নতুন জীবনের স্বাদ দিল।
এমনভাবেই অমরজিৎ দাস কোচিং প্রতিষ্ঠান কাছে ঋণী। তার কথায়," আমাকে ১৮ টি চারা রোপণ করতে বলা হয়েছিল, ঠিক ১৮ টা যখন হল, আমি ভর্তি হতে পারলাম। এখন আমি রেলের গ্রুপ-ডি চাকুরে, আমার বাবা একজন দিন আনা দিন খাওয়া মজদুর।"
ছাত্র-ছাত্রীরা যেখানে খুশি চারা গাছ রোপণ করতে পারে। নিজের জমি থাকলে নিজের জমিতে না থাকলে সরকারি জমিতে। শিক্ষকেরা অন্যত্র চাকরি করে, তারা বিনা পারিশ্রমিকে ছাত্র-ছাত্রীদের পড়ায়। প্রতিদিন সকালে এবং সন্ধ্যায় দু'ঘণ্টা করে তারা পড়ায়। ছুটির দিনে সুমন রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় পরিদর্শনে যায় এবং মানুষের মধ্যে গাছ লাগানোর বিষয়ে সচেতনতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে নিরন্তর প্রচার করে।
এমন উদ্যোগের কোনও তুলনা হয়না, এমনতর উদ্ভাবনী উদ্যোগ নজিরবিহীনও বটে। পরিবেশ সংরক্ষণ, সবুজায়নে এই উদ্যোগ সারা দেশের মানুষকে অনুপ্রাণিত করবে। এমন খবরে মন ভালো হয়ে যায়।
( লেখাটি Down to Earth পত্রিকা থেকে নেওয়া )
We hate spam as much as you do