এতদিন নির্বাচনে নিরপেক্ষতা ছিল না বলে সিপিএম প্রার্থী সরাসরিই তৃণমূলের দুষ্কৃতীরাজকে দায়ী করেছেন। তাঁর কথায়, ‘‘দরিদ্র মানুষ এতদিন ভোট দিতে পারতেন না। তৃণমূলের জামানত আগেই জব্দ হতো। পুলিশ আর মস্তান বাহিনী নিয়ে এতদিন জিতেছে তৃণমূল। আজ হাওয়া হয়ে গিয়েছে।” এর আগে ২০১৬ সালে দক্ষিণ ২৪ পরগনার এই বিধানসভায় দ্বিতীয় স্থানে ছিল সিপিএম। দলের প্রার্থী বিধান পাড়ুই ৭০ হাজারের বেশি পেয়েছিলেন।
'আর জাহাঙ্গির তৈরি হবে না’, ফলতায় দ্বিতীয় হয়ে চ্যালেঞ্জ সিপিএম প্রার্থীর
মে ২৪, ২০২৬
‘হাল ফেরাও লাল ফেরাও’। একুশের বিধানসভা ভোটে এই স্লোগান তুলে রাজ্যে ফের জমি শক্ত করার চ্যালেঞ্জ নিয়েছিল সিপিএম। সেবার সিপিএম, কংগ্রেস, আইএসএফ মিলে সংযুক্ত মোর্চা লড়াই করেছিল। আইএসএফ একটিমাত্র আসন জিতলেও সিপিএমের ঝুলিতে এসেছিল শূন্যই। ছাব্বিশে অবশ্য সেই দল শূন্য থেকে এক হয়েছে। ডোমকল থেকে জিতে বিধানসভায় এসেছেন মুস্তাফিজুর রহমান রানা। আর ফলতায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে কাস্তে-হাতুড়িতে আরও শান দিলেন সিপিএম প্রার্থী শম্ভুনাথ কুর্মি। ভয়মুক্ত নির্বাচনে তিনি পেয়েছেন তাঁর ৪০,৬৪৫ ভোট। এহেন ফলাফলের পর সিপিএম প্রার্থী রীতিমতো চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলছেন, ‘‘আগামীতে আর ফলতার বুকে কোনও জাহাঙ্গির তৈরি না হয়, তার জন্য আমরা প্রস্তুত। আমরা গণ আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত।”
পুনর্নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডা পেয়েছেন ১ লক্ষ ৪৯ হাজার ৬৬৬ ভোট। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সিপিএম প্রার্থী শম্ভুনাথ কুড়মি পেয়েছেন ৪০ হাজার ৬৪৫ ভোট। তৃতীয় স্থানে রয়েছেন কংগ্রেস প্রার্থী আব্দুর রেজ্জাক মোল্লা। তিনি পেয়েছেন ১০ হাজার ৮৪টি ভোট। ভোটগ্রহণের ২ দিন আগে ভোটের ময়দান থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করেছিলেন তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান। তিনি পেয়েছেন ৭৭৮৩ ভোট।
যদিও সিপিআইএমের অভিযোগ চতুর্থ পঞ্চম রাউন্ড অব্দি সিপিএম প্রার্থীর কাছে বিজেপির মার্জিন কমে আসছিল। একটি রাউন্ডে সিপিএম প্রার্থী এমনকি জিতেও যান। এরপরই গণনা স্লো হয়ে গেলো। তার খানিক পর থেকে বিরাট বিরাট মার্জিনে বিজেপি প্রার্থী বুস্ট পেতে লাগলেন। ৮০%, ৯০% ভোট বিজেপি প্রার্থী এক এক রাউন্ডে একা পেয়েছেন। ব্যাপার খুবই অদ্ভুত। মিডিয়া এবং আইটিসেল ন্যারেটিভ সেট করে দিয়েছে " হিন্দু ভোট কনসলিডেশন ", " হিন্দু জাগরণ " এর। এমন নয় যে বিজেপি ফলতা হেরে যেতো। উপনির্বাচনে বাংলায় শাসক দলের পরাজয় খুবই বিরল। প্রবল সম্ভাবনা, বিজেপিই জিততো। তবে এই মার্জিনে নয়। সিপিএমও যা পেয়েছে তার চেয়ে আরও বেশী ভোট পেতো। অন্তত ৩০%+। কিন্তু সেটা হয়নি। দেড় দশকের প্রবল অত্যাচার, নিরবচ্ছিন্ন দমনপীড়ন সয়েও সিপিএম যেভাবে আজও সংগঠন ধরে রেখেছে, এখনও যে ভাবে ময়দানে আছে, তা প্রশংসনীয় বলে দাবি করা হয়। তবে অবশ্যই এই নির্বাচনে সিপিআইএম প্রার্থী আরো কিছুটা ভোট বেশি পেতে পারতেন বলেই মনে করছেন অনেকে।
এতদিন নির্বাচনে নিরপেক্ষতা ছিল না বলে সিপিএম প্রার্থী সরাসরিই তৃণমূলের দুষ্কৃতীরাজকে দায়ী করেছেন। তাঁর কথায়, ‘‘দরিদ্র মানুষ এতদিন ভোট দিতে পারতেন না। তৃণমূলের জামানত আগেই জব্দ হতো। পুলিশ আর মস্তান বাহিনী নিয়ে এতদিন জিতেছে তৃণমূল। আজ হাওয়া হয়ে গিয়েছে।”
এর আগে ২০১৬ সালে দক্ষিণ ২৪ পরগনার এই বিধানসভায় দ্বিতীয় স্থানে ছিল সিপিএম। দলের প্রার্থী বিধান পাড়ুই ৭০ হাজারের বেশি পেয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে অবশ্য সর্বস্তরে ফুটে যায় ঘাসফুল। এবার আবার ঘাসফুল উপড়ে ফলতা দখল করে নিল বিজেপি। ১ লক্ষ ৯ হাজার ২১ ভোটে জিতেছেন বিজেপির দেবাংশু পান্ডা। আর আবারও দ্বিতীয় হয়ে উঠে এসেছে সিপিএম। পরাজিত হলেও ৪০ হাজারের বেশি ভোট পেয়ে আত্মবিশ্বাসী প্রার্থী শম্ভুনাথ কুর্মি। বলছেন, ‘‘ফলতাবাসী আজ অনেক বড় দায়িত্ব দিলেন। সেই দায়িত্ব প্রার্থী হিসেবে আমি মাথা পেতে নিলাম। লাল ঝাণ্ডার পতাকার তলে প্রান্তিক মানুষের দাবিদাওয়া আদায়ে এগিয়ে যাব।”
ফলতার সিপিএম প্রার্থী শম্ভুনাথ কুর্মি
এতদিন নির্বাচনে নিরপেক্ষতা ছিল না বলে সিপিএম প্রার্থী সরাসরিই তৃণমূলের দুষ্কৃতীরাজকে দায়ী করেছেন। তাঁর কথায়, ‘‘দরিদ্র মানুষ এতদিন ভোট দিতে পারতেন না। তৃণমূলের জামানত আগেই জব্দ হতো। পুলিশ আর মস্তান বাহিনী নিয়ে এতদিন জিতেছে তৃণমূল। আজ হাওয়া হয়ে গিয়েছে।” ফলতার মাটিতে সন্ত্রাসের অবসান হবে বলেই আশা তাঁর। ফলতায় সিপিএমের দ্বিতীয় হওয়া রীতিমতো উদযাপন করছে সিপিএম। দলের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, ‘‘বিজেপি বিরোধিতায় মানুষজন যে আমাদের উপর ভরসা রাখছেন, আমাদের এত ভোট দিয়েছেন, তার জন্য তাঁদের লাল সেলাম। এই ফলাফল আরও ভালো হতে পারত যদি আমরা প্রচারের আরও সময় পেতাম। তবে এর উপর দাঁড়িয়ে আমরা, বামপন্থীরা বিকল্প রাজনীতিতে আরও এগিয়ে যাব। মানুষের আরও কাছে যাব, তাঁরাও আমাদের আশ্রয়ে আসবেন।”
We hate spam as much as you do