Tranding

11:20 PM - 06 Jul 2026

Home / Other Districts / জাস্টিস ফর বারুইপর! ১২ বছরের শিশুকন‍্যা ধর্ষণ খুন, উত্তাল বাংলা, SIT গঠন

জাস্টিস ফর বারুইপর! ১২ বছরের শিশুকন‍্যা ধর্ষণ খুন, উত্তাল বাংলা, SIT গঠন

অভিযোগ শেষে অভিযুক্তদের ধরা হলেও সূর্যপুরের বিজেপি যুব নেতা শান্তনু মণ্ডল প্রভাব খাঁটিয়ে তিন অভিযুক্তকে ক্যাম্প থেকে ছাড়িয়ে পালিয়ে যেতে মদত দেন বলে অভিযোগ ক্ষুব্ধ স্থানীয়দের। সিসিটিভিতে দেখা যায়, গতকাল বিকেলে এক স্থানীয় ব্যক্তি ওই খুদেকে হাত ধরে রেললাইনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। পুলিন নামে ওই ব্যক্তিকে পাকড়াও করে কিশোরীর সন্ধান জানতে চাওয়া হলে রবিবার সকালে কিশোরীর পরিবারকে স্থানীয় এক পুকুরের কাছে নিয়ে যায়।

জাস্টিস ফর বারুইপর! ১২ বছরের শিশুকন‍্যা ধর্ষণ খুন, উত্তাল বাংলা, SIT গঠন

জাস্টিস ফর বারুইপর! ১২ বছরের শিশুকন‍্যা ধর্ষণ খুন, উত্তাল বাংলা, SIT গঠন

৬ই জুলাই ২০২৬


বাংলায় ১২ বছরের শিশুকে নৃশংস ধর্ষণ-খুন। নতুন বিজেপির শাসনে ঠুঁটো জগন্নাথ পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা। অভিযোগ স্থানীয় বিজেপি মন্ডল নেতার প্রভাবে পলাতক অভিযুক্তরা। পুকুর থেকে বস্তাবন্দি দেহ উদ্ধারের সঙ্গে সঙ্গে গণপিটুনিতে মৃত অন্যতম অভিযুক্ত। দেহ নিয়ে স্থানীয়দের রেল-পথ অবরোধ-বিক্ষোভ। জমায়েত তুলতে আসা পুলিশের উপর আছড়ে পড়ল জনরোষ। ভাঙচুর পুলিশের গাড়িতে। উত্তপ্ত জনতাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে নির্বিচারে লাঠিচার্জ পুলিশের। মানুষের বিক্ষোভের চাপে এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে শুরু পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ। সব মিলিয়ে রবিবার সকাল থেকে উত্তাল ছিল বারুইপুর।  ষষ্ঠ শ্রেণির রিমি খাতুন শিশুকন্যাকে ধর্ষণ ও খুনে অভিযুক্তদের গ্রেফতার ও উপযুক্ত শাস্তির দাবিতে অগ্নিগর্ভ বারুইপুরের সূর্যপুর হাট।


ভোটের আগে বিজেপির স্লোগান ছিল, ভয় আউট, ভরসা ইন! কিন্তু  ভরসা কি ক্রমশ ক্ষীন হচ্ছে?   রাজ্যে নতুন বিজেপির সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুর্গাপুর, দিনহাটা, বেহালায় ধর্ষণের পর এবার মাত্র ১১ বছরের সংখ্যালঘু শিশুকে অপহরণ করে ধর্ষণ ও অকথ্য অত্যাচার চালিয়ে শ্বাসরোধ করে খুনের অভিযোগ উঠল দক্ষিণ ২৪ পরগণার বারুইপুর থানার অন্তর্গত ধপধপি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের সূর্যপুর হাট এলাকায়। সূত্রের খবর, শনিবার বিকেলে বন্ধুর জন্য উপহার কিনতে বেরিয়ে আর বাড়ি ফেরেনি ওই কিশোরী। বাড়ি থেকে ৩ মিনিটের পথে আধঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও মেয়ে বাড়ি না ফেরায় পরিবার ও প্রতিবেশীরা খোঁজ শুরু করে। বারুইপুর থানায় দায়ের করা হয় নিখোঁজের ডায়েরি। কিন্তু তারপরও নিষ্ক্রিয় পুলিশের অসহযোগিতায় চূড়ান্ত ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা। তাঁরাই সারারাত ধরে এলাকার বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে। নির্যাতিতার পরিবারের অভিযোগ, এলাকারই চার যুবক ওই নাবালিকাকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু এরপরও পুলিশকে জানানো হলে প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ।

 

অভিযোগ শেষে অভিযুক্তদের ধরা হলেও সূর্যপুরের বিজেপি যুব নেতা শান্তনু মণ্ডল প্রভাব খাঁটিয়ে তিন অভিযুক্তকে ক্যাম্প থেকে ছাড়িয়ে পালিয়ে যেতে মদত দেন বলে অভিযোগ ক্ষুব্ধ স্থানীয়দের। সিসিটিভিতে দেখা যায়, গতকাল বিকেলে এক স্থানীয় ব্যক্তি ওই খুদেকে হাত ধরে রেললাইনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। পুলিন নামে ওই ব্যক্তিকে পাকড়াও করে কিশোরীর সন্ধান জানতে চাওয়া হলে রবিবার সকালে কিশোরীর পরিবারকে স্থানীয় এক পুকুরের কাছে নিয়ে যায়। সেখানেই কচুরিপানার মধ্যে ভাসতে থাকা বস্তাবন্দি অবস্থায় কিশোরীর নিথর দেহ উদ্ধার হয়। তারপরই খেপে গিয়ে ওই ব্যক্তিকে পুকুর-ধারেই বেধড়ক মারধর শুরু করে উত্তেজিত জনতা। পুলিশ গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এদিন সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ নির্যাতিতার প্রাণহীন দেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই রণক্ষেত্রের আকার নেয় সূর্যপুর হাট এলাকা। মৃত কিশোরীর দেহ নিয়ে জয়নগর-কুলপি রোড অবরোধ করে বিক্ষুব্ধ জনতা। রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। বারুইপুর-জয়নগর রোডেও দীর্ঘক্ষণ যান চলাচল স্তব্ধ হয়ে যায়। ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বারুইপুর পুলিশ জেলার ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা। তাঁদের ঘিরেও বিক্ষোভ দেখান ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা। ছোঁড়া হয় ইট-পাথর। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নির্মমভাবে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখায় নামখানা লাইনের সূর্যপুর স্টেশনে রেলপথ অবরোধ করেন বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় মানুষ। এর জেরে নামখানা লাইনে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নাবালিকাকে ধর্ষণ করার পর তথ্যপ্রমাণ লোপাট করতে শ্বাসরোধ করে খুনের পর দেহ ফেলে দেওয়া হয় পুকুরে। একইসঙ্গে অভিযোগ, পুলিশ তদন্তে গাফিলতি করছে।
এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, প্রভাস মণ্ডল নামে এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ঘটনায় জড়িত বলে অভিযুক্ত স্বীকার করেছে, খবর পুলিশ সূত্রে। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজ চলছে। এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। নাবালিকাকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে বলে প্রাথমিক অনুমান পুলিশেরও। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে ময়নাতদন্ত ও ধর্ষণ-প্রমাণের জন্য ফরেনসিক পরীক্ষায় পাঠানো হয়েছে মৃতার দেহ। 

বারুইপুর থানার পুলিশের সঙ্গে রাতভর বিশেষ অভিযানে শামিল হন রাজ্য পুলিশের টাস্ক ফোর্সের (এসটিএফ) সদস্যরা। বিভিন্ন এলাকায় চিরুনি তল্লাশি চালিয়ে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মূল অভিযুক্তদের মধ্যে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। ঘটনায় জড়িত থাকার পাশাপাশি মূল অভিযুক্তদের আশ্রয় দেওয়ার এবং তথ্য গোপনের অভিযোগে মধ্যরাতে আরও তিনজনকে পুলিশ আটক করেছে। ঘটনার দ্রুত তদন্ত এবং প্রকৃত সত্য উদঘাটনের জন্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পিনাকী দত্তের নেতৃত্বে একটি ৬ সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করে তদন্ত শুরু হয়েছে।


পুলিশ সূত্রে খবর, রবিবার গভীর রাতে ধৃত ও আটক হওয়া ব্যক্তিদের মুখোমুখি বসিয়ে দীর্ঘক্ষণ ম্যারাথন জেরা করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের সময় এক অভিযুক্ত দাবি করে, ওই নাবালিকাকে অপহরণ করে তার পরিবারের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ মুক্তিপণ আদায়ের একটা যৌথ পরিকল্পনা ছিল তাদের। সেই লক্ষ্য পূরণ করতেই তারা নাবালিকাকে একটি নির্জন জায়গায় আটকে রেখেছিল। তবে অভিযুক্তদের এই বয়ান নিয়ে প্রথম থেকেই ঘোরতর সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বারুইপুর জেলা পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকরা।


তদন্তকারী পুলিশ অফিসাররা নাবালিকার পরিবারের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হয়েছেন যে, ঘটনার দিন বা তার পর থেকে পরিবারের কাছে কোনও ধরনের মুক্তিপণ চেয়ে ফোন বা হুমকি যায়নি। ফলে ধৃতদের এই বয়ান পুরোপুরি সাজানো এবং তদন্তকে ভুল পথে চালিত করার একটি কৌশল বলেই মনে করছে পুলিশ। ধৃতদের বয়ানে একাধিক অসঙ্গতির জেরে ঘটনার আসল উদ্দেশ্য জানতে সোমবারই তাদের বারুইপুর আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাতে চলেছে পুলিশ প্রশাসন।

Your Opinion

We hate spam as much as you do