শোনা যাচ্ছে, বালোগান লাল কার্ড দেখার পরই ট্রাম্প প্রশাসনের দুই শীর্ষ ব্যক্তি - বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লাটনিক ও হোয়াইট হাউসের এগজিকিউটিভ ডিরেক্টর অ্যান্ড্রু গিলিয়ানি মার্কিন ফুটবল সংস্থার সঙ্গে কথা বলেন এবং এই লাল কার্ড ও নির্বাসনের শাস্তির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করার উদ্যোগ শুরু করেন। যদিও এই ধরনের উদ্যোগ ফিফার নিয়ম বিরুদ্ধ।
বিশ্বকাপে ট্রাম্পের দাদাগিরি ! ফিফা কে ফোন, মার্কিন ফুটবলারের লাল কার্ড তুলে নাও
Mon, July 6,2026,
লাল কার্ড দেখিয়েছিলেন রেফারি। তা নিয়ে বিতর্কও কম হয়নি। শেষ পর্যন্ত হস্তক্ষেপ করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। আর তাতেই কি না বদলে গেল সিদ্ধান্ত।
আমেরিকার ফুটবলার ফোলারিন বালোগানকে শেষ ষোলোর ম্যাচে নামার ছাড়পত্র দিল ফিফা! ১৯৬২ সালের পর থেকে এই প্রথম কোনও ফুটবলারের নির্বাসনের শাস্তি তুলে নিল বিশ্ব ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা। যা নিয়ে বিশ্ব ফুটবলে তোলপাড় শুরু হয়েছে। তুমুল বিতর্কে পুড়ছে বিশ্ব ফুটবল।
বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিরুদ্ধে ম্যাচে বালোগানকে লাল কার্ড দেখানো হয়েছিল। বালোগানের শাস্তি তোলার জন্য ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে (Gianni Infantino) ফোন করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্বকাপে দেশের সর্বোচ্চ গোল স্কোরারের শাস্তি মকুব করার আবেদন করেছিলেন। ট্রাম্প-ইনফান্তিনো ফোনালাপ হয়েছে, তা নিশ্চিত করেছেন অন্তত চারজন ওয়াকিবহাল ব্যক্তি। যাঁরা গোটা পদ্ধতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ট্রাম্পের ফোনের পরই ডিগবাজি খায় ফিফা। তারা জানিয়ে দেয়, বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে শেষ ষোলোর ম্যাচে আমেরিকা খেলাতে পারবে বালোগানকে।
১৯৬২ সালের পর বিশ্বকাপে লাল কার্ড দেখা সত্ত্বেও এই প্রথম কোনও ফুটবলারের শাস্তি মকুব করল ফিফা। ইনফান্তিনোর সঙ্গে ট্রাম্পের সুসম্পর্ক। গতবছর ট্রাম্পকে বিশ্ব শান্তি পুরস্কার দিয়েছিল ফিফা।
শোনা যাচ্ছে, বালোগান লাল কার্ড দেখার পরই ট্রাম্প প্রশাসনের দুই শীর্ষ ব্যক্তি - বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লাটনিক ও হোয়াইট হাউসের এগজিকিউটিভ ডিরেক্টর অ্যান্ড্রু গিলিয়ানি মার্কিন ফুটবল সংস্থার সঙ্গে কথা বলেন এবং এই লাল কার্ড ও নির্বাসনের শাস্তির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করার উদ্যোগ শুরু করেন। যদিও এই ধরনের উদ্যোগ ফিফার নিয়ম বিরুদ্ধ।
মার্কিন ফুটবল সংস্থার কর্তারা যুক্তি দেন যে, বালোগানকে লাল কার্ড দেখানোটা অন্যায় ছিল। পেনাল্টি দেওয়ার জন্য স্লো মোশন রিপ্লে দেখা উচিত হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তাঁরা। যদিও ফুটবাল মাঠে ভার প্রযুক্তি এসে যাওয়ার পর এটা খুবই স্বাভাবিক ঘটনা।
এরই মাঝে আসরে নামেন মার্কিন ফুটবল সংস্থার অন্যতম পৃষ্ঠপোষক স্কট গুডউইন। তিনি ট্রাম্পকে জানান, যে রেফারি লাল কার্ড দেখিয়েছেন, সেই রাফায়েল ক্লজ় ব্রাজ়িল ফুটবলে লাল কার্ড দেখিয়ে গড়াপেটায় জড়িয়েছিলেন। ব্রাজ়িল ফুটবল সংস্থা অবশ্য তার কোনও প্রমাণ না পেলেও ইনফান্তিনোকে সেই বিতর্কের কথা ফোনে মনে করিয়ে দেন ট্রাম্প। জানানো হয় যে, রেফারি প্রথমে ফাউল না দিলেও ভেনেজুয়েলা, কলম্বিয়া ও ফ্রান্সের সহকারী রেফারিরা রিপ্লে নেওয়ার জন্য় মূল রেফারিকে বলেন। তারপরই বদলে যায় সিদ্ধান্ত।
ফিফা সিদ্ধান্ত বদল করার পরেও ইনফান্তিনোর সঙ্গে ট্রাম্পের ফোনালাপ হয়। জানা গিয়েছে, ট্রাম্প তাঁকে জানান যে, নির্বাসন তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত একেবারে সঠিক। আমেরিকা ফুটবল দলের কোচ মউরিসিও পোচেত্তিনোকে ফোন করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ট্রাম্প।
যদিও এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভে ফুঁসছে বেলজিয়াম। তারা বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, ফিফার সিদ্ধান্তে তারা হতচকিত। তারা যে সব দিক খতিয়ে দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ করবে, সেটাও জানিয়েছে বেলজিয়াম।
পরে হোয়াইট হাউস থেকেও স্বীকার করে নেওয়া হয় যে, লাল কার্ড নিয়ে ট্রাম্প ও ইনফান্তিনোর কথাবার্তা হয়েছে। পরে ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, 'সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য এবং দারুণ সুবিচার করার জন্য ফিফাকে ধন্যবাদ।'
We hate spam as much as you do