তাঁর কথায়, "চ্যালেঞ্জ নিয়ে বলছি, রেল কাগজ দেখাতে পারবে না । জমি নিয়ে কোনও সমস্যা ঘটলে আইন আদালত, পুলিশ-প্রশাসন উভয়পক্ষের কাছে কাগজ চায় । রেল কি সেই কাগজ দেখাবে? দেখাতে পারবে? পারবে না । কারণ এখন রাজ্যের সরকার এবং কেন্দ্র সরকার গরিব মানুষের পেটে লাথি মেরে বড়লোকের হাতে সমস্ত কিছু তুলে দিতে চাইছে ।"
গতকাল বৃষ্টিতেই হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদে সিপিএমের মিছিলে অসংখ্য হকাররা
July 4, 2026
পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ করা যাবে না ৷ এই দাবিকে সামনে রেখে শহরে জোড়া মিছিলের আয়োজন করল সিপিএম । সেই মিছিল থেকেই রেল তথা কেন্দ্রীয় সরকারকে করা হুঁশিয়ারি দিলেন সিপিএম কর্মী-সমর্থকরা । চ্যালেঞ্জ জানালেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমও ।
শনিবার শিয়ালদা স্টেশন এবং হাওড়া স্টেশন থেকে সিপিএমের ডাকে দু’টি মিছিল ফেয়ারলি প্লেসে মিলিত হওয়ার কথা ছিল । কিন্তু কলকাতা পুলিশ মিছিল ফেয়ারলি প্লেসে করার অনুমতি দেয়নি । মহম্মদ আলি পার্কের কাছে শিয়ালদা মিছিল আটকানো হয় । পরে হাওড়ার মিছিল সেখানে এসে সামিল হয় । পুনর্বাসন ছাড়া কোনও হকারকে উচ্ছেদ করা যাবে না বলে এদিন সেখান থেকে স্পষ্ট দাবি তুলল সিপিএম । একই সঙ্গে সিপিএম নেতাদের অভিযোগ, গরিবের পেটে লাথি মেরে, পুঁজিপতি পেট ভরাতে ডবল ইঞ্জিন সরকার রাতের অন্ধকারে বুলডোজার চালিয়ে সবকিছু গুঁড়িয়ে দিচ্ছে ।
সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, "স্বাধীন ভারতে যে জমি সরকার নিয়েছে, বন্দর নিয়েছে কিংবা ডিফেন্স নিয়েছে, রেল নিয়েছে-সেই সব জমি এখানকার জমি । এখানকার মানুষের জমি । আদানি-আম্বানির জন্য নেওয়া হয়নি । কিন্তু, সেই সব জমি আদানি-আম্বানিতে দেওয়ার জন্যই উচ্ছেদ চলছে । এটার বিরুদ্ধেই আমাদের প্রতিবাদ । রেললাইন করবে, রেল চলাচলের জন্য জমি লাগবে সরকার বলুক, পরিকল্পনা প্রকাশ করুক । আমরা জমি দিতে প্রস্তুত । তা না করে পুঁজিপতি ভুঁইফোরদের জন্য বছরের পর বছর যারা ব্যবসা করে খাচ্ছে, পেটের দায় তাদেরই রাতের অন্ধকারে বুলডোজার চালিয়ে উচ্ছেদ করে দেওয়া হচ্ছে ।"
তাঁর কথায়, "চ্যালেঞ্জ নিয়ে বলছি, রেল কাগজ দেখাতে পারবে না । জমি নিয়ে কোনও সমস্যা ঘটলে আইন আদালত, পুলিশ-প্রশাসন উভয়পক্ষের কাছে কাগজ চায় । রেল কি সেই কাগজ দেখাবে? দেখাতে পারবে? পারবে না । কারণ এখন রাজ্যের সরকার এবং কেন্দ্র সরকার গরিব মানুষের পেটে লাথি মেরে বড়লোকের হাতে সমস্ত কিছু তুলে দিতে চাইছে ।"
সাধারণ প্রান্তিক মানুষের প্রসঙ্গ টেনে মহম্মদ সেলিমের দাবি, "যারা ভোরবেলা ঘর থেকে বেরিয়ে ফল সবজি বা অন্যান্য উপকরণ নিয়ে রেল স্টেশনে এসে কিমা রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় বিক্রি করেন, ফেরার সময় স্টেশনে বা সংলগ্ন এলাকায় 20-25 টাকার খাবার খেয়ে আবার ঘরে ফেরেন । সেই সমস্ত মানুষ কি এখন 20-25 টাকায় আগামিদিনে আম্বানিদের দোকান থেকে কিছু কিনে খেতে পারবেন?"
রাজ্যে পালাবদলের আগে বঙ্গে ভোটের প্রচারে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঝালমুড়ি খেয়েছিলেন । তা নিয়ে গোটা দেশ জুড়ে আলোচনা হয়েছিল । পরবর্তীতে পালাবদলের পর রাজ্যের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দিল্লিতে ফাইভ স্টার হোটেলে ঝালমুড়ি মাখিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে খাইয়েছিলেন ।
সেই প্রসঙ্গ টেনে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকের কটাক্ষ, "কয়েকদিন আগে এক ঝালমুড়ি বিক্রেতা জীবন শেষ করতে বাধ্য হয়েছেন । আর ওদিকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী ঝালমুড়ি নিয়ে নাটক করছেন । ফাইভ স্টার হোটেলে ঝালমুড়ি মাখিয়ে দিচ্ছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী । খাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী । অথচ যারা প্রকৃত ঝালমুড়ি বিক্রেতা, তাদের পেটে লাথি মারছে এই ডাবল ইঞ্জিন সরকার ।"
মহম্মদ সেলিম বলেন, "আসলে এরা গরিবের পেটে লাথি মেরে বড়লোকের পেট ভরাতে চায় । প্রতিরোধ প্রতিবাদ আন্দোলন ছাড়া উপায় নেই । বুলডোজারের সামনে বুক চিটিয়ে দাঁড়াতে হবে । আইন ও আদালতে লড়াইয়ের জন্য শুধুমাত্র বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য নেই । তার মতো কয়েকশো বামপন্থী জেলায় জেলায় বিভিন্ন আইন ও আদালতে সাধারণ গরিব মানুষের জন্য রোজ লড়াই করে যাচ্ছে । তাই তাতে সামিল হোন । বুলডোজারের সামনে শুধুমাত্র সৃজন, সুজন, গার্গী, বিন্দা করাত রুখে দাঁড়াবেন না, হাজারো মানুষ রুখে দাঁড়াতে হবে ।"
উল্লেখ্য, এদিনের মিছিলে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী, রাজ্য সম্পাদক অনাদি সাহু, মিনাক্ষী মুখার্জী সিটু সম্পাদক জিয়ায়ুল আলম প্রমুখ।
সিপিএম কলকাতা জেলা কমিটির সম্পাদক কল্লোল মজুমদারের সভাপতিত্বে রাজ্য কমিটির সদস্য সিটু নেত্রী গার্গী চট্টোপাধ্যায়, সিটু রাজ্য কমিটি সদস্য অলকেশ দাস সহ অন্যান্য নেতৃত্ব । স্টেশনে ভেঙে দেওয়া রেল দোকানদারদের মধ্যে থেকে মহঃ সেলিম ডেকে নেন দুজন কৌশল্যা হালদার ও রেজিনা বিবি। এরা তাদের দূর্বিষহ অভিজ্ঞতার কথা বর্নণা করেন।
We hate spam as much as you do