২০২৬ বিশ্বকাপ দুটি কারণে স্মরণীয় হয়ে থাকবে আপামর কানাডাবাসীর হৃদয়ে। প্রথম কারণ, এই বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক উত্তর আমেরিকার দেশটি। দ্বিতীয় কারণটির দৌলতে ইতিহাসের পাতায় ‘দ্য রেডস’। কারণ শেষ ষোলোর টিকিট ইতিমধ্যেই জোগাড় করে ফেলেছে তারা, এই বিশ্বকাপের প্রথম দল হিসেবে। এর আগে ১৯৮৬ ও ২০২২ বিশ্বকাপের মূলপর্বে উত্তীর্ণ হয়েছিল কানাডা। কিন্তু দুটি বিশ্বকাপের একটিতেও ১ পয়েন্টও বরাতে জোটেনি। গ্ৰুপ পর্বের প্রতিটি ম্যাচে শোচনীয় হার এবং পত্রপাঠ দেশে ফেরার বিমান ধরা। এই বিশ্বকাপেও একই পরিণতির পুনরাবৃত্তি হওয়ার আশংকা কি ছিল না? কিন্তু সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে শেষ ষোলোয়, বিশ্বের বৃহত্তম মিষ্টি জলের হ্রদের অঞ্চল সম্পন্ন দেশটি।
স্টিফেনের গোলে দক্ষিণ আফ্রিকা বধ কানাডার
উত্থান দাশ
২৯ জুন ২০২৬
দ্বিতীয়ার্ধের প্রারম্ভিক পর্ব থেকেই বীর বিক্রমে প্রত্যাবর্তন করে ক্যানাডা। তাদের আক্রমণ ভাগের গভীরতা এদিন বিশেষজ্ঞ মহলের প্রশংসা আদায় করেছে। ৭৫ মিনিটে আলফোনসো ডেভিস মাঠে নামতেই গোটা গ্যালারি উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে। প্রাপ্ত সীমিত সময় সীমার মধ্যেই তাঁর গতি এবং নয়নাভিরাম ফুটবল শৈলীর সাক্ষী থাকলেন ক্যানাডার সমর্থকরা। অতিরিক্ত সময়ের দু’মিনিটে অবশেষে কাঙ্খিত গোল পান ডেভিসরা। অ্যালিস্টেয়ার জনস্টন বিপক্ষের পেনাল্টি বক্সের উদ্দেশ্যে লম্বা বল বাড়ান। সেই বল দক্ষিণ আফ্রিকান রক্ষণ ভাগে প্রতিহত হয়ে স্টিফেন ইয়াসটাকিওর দিকে চলে আসে। ফিরতি বলে দর্শনীয় ভলিতে জাল কাঁপান লস এঞ্জেলেসের মাঝমাঠের মধ্যমণি (১-০)। শেষ ষোলোয় কিন্তু নিজেদের ছাপিয়ে যেতে হবে। কারণ হাউস্টন স্টেডিয়ামে মরোক্কো - নেদারল্যান্ডস ম্যাচের জয়ীর মোকাবিলা করতে হবে তাদের। দু’দলই ধারে - ভারে লক্ষ যোজন এগিয়ে। অতএব, ইতিহাসকে আরও সমৃদ্ধ করতে চাইলে ঐতিহাসিক পারফর্মেন্স মেলে ধরতে হবে এই বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক দেশকে।
স্টিফেন ইয়াসটাকিওর শেষ মুহূর্তের গোলে এই ঐতিহাসিক জয় হাসিল করেছে কানাডা। প্রথমার্ধে কিন্তু ম্যাচের রাশ দক্ষিণ আফ্রিকার হাতে ছিল। বেশ কয়েকটি সংঘবদ্ধ আক্রমণ শানায় ‘বাফানা বাফানা’ - রা। দক্ষ ফিনিশার থাকলে ম্যাচের ফলাফল অন্যরকম হতো। দক্ষিণ আফ্রিকার যাবতীয় আক্রমণের সামনে, দলের রক্ষাকর্তা হয়ে দাঁড়ান রনওয়েন উইলিয়ামস। প্রথমার্ধের শেষ লগ্নে পরপর দু’বার দলের নিশ্চিত পতন রোধ করেন ক্যানাডিয়ান গোলরক্ষক। বুচাননকে করা দ্বিতীয় ব্লকটি তো অনবদ্য। নাহলে গোল অবধারিত ছিল।
২০২৬ বিশ্বকাপ দুটি কারণে স্মরণীয় হয়ে থাকবে আপামর কানাডাবাসীর হৃদয়ে। প্রথম কারণ, এই বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক উত্তর আমেরিকার দেশটি। দ্বিতীয় কারণটির দৌলতে ইতিহাসের পাতায় ‘দ্য রেডস’। কারণ শেষ ষোলোর টিকিট ইতিমধ্যেই জোগাড় করে ফেলেছে তারা, এই বিশ্বকাপের প্রথম দল হিসেবে। এর আগে ১৯৮৬ ও ২০২২ বিশ্বকাপের মূলপর্বে উত্তীর্ণ হয়েছিল কানাডা। কিন্তু দুটি বিশ্বকাপের একটিতেও ১ পয়েন্টও বরাতে জোটেনি। গ্ৰুপ পর্বের প্রতিটি ম্যাচে শোচনীয় হার এবং পত্রপাঠ দেশে ফেরার বিমান ধরা। এই বিশ্বকাপেও একই পরিণতির পুনরাবৃত্তি হওয়ার আশংকা কি ছিল না? কিন্তু সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে শেষ ষোলোয়, বিশ্বের বৃহত্তম মিষ্টি জলের হ্রদের অঞ্চল সম্পন্ন দেশটি।
We hate spam as much as you do