দুর্নীতির তদন্তের জন্য গঠিত SIT-র প্রাথমিক রিপোর্ট থেকে জানা যায় এই বিশাল পরিমাণ প্রণামী-র একটা বিশাল অংশের কোনো হদিশ নেই। এর পাশাপাশি দানে পাওয়া রূপোর তৈরি ভূষূণ্ডির কাক-ও মন্দিরের হেফাজত থেকে গায়েব। রামচন্দ্রের মূর্তিতে প্রাণ প্রতিষ্ঠার অনুষ্ঠানের সময় জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন ৬০ কেজি রূপোর দণ্ড প্রণামী হিসেবে দান করেছিল, সেটা খুঁজে পাওয়া তো দূর অস্ত — কোনো অফিসিয়াল রেকর্ডই নেই! ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজে বিকৃতির প্রমাণও পেয়েছে SIT। SIT রিপোর্ট আরও দাবি করেছে যে এই বিপুল পরিমাণ চুরি ট্রাস্টের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মদত ছাড়া সম্ভব নয়।
রাম মন্দিরে হাজার কোটি অনুদান দুর্নীতি সোনা, রূপো চুরি : দায় কার? আড়াল করা হচ্ছে কাদের?
চিরন্তন গাঙ্গুলী
২৮ জুন২০২৬
অযোধ্যার রাম মন্দির — স্বাধীন ভারতবর্ষের ইতিহাসে হয়তো সবথেকে বেশি চর্চিত ও বিতর্কিত বিষয়। হিন্দুত্ববাদের জিগির তুলে সাধারণ মানুষের রক্ত-ঘামে অর্জিত টাকার বিনিময়ে তৈরী এই রাম মন্দিরে সম্প্রতি ব্যাপক দুর্নীতি প্রকাশ্যে এসেছে। রাম মন্দির নির্মাণের লক্ষ্যে ২০২০ সালে তৈরি হয়েছিল ‘রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট’। ২০২০ সাল থেকে এযাবৎ রাম মন্দিরে নগদ প্রণামী জমা পড়েছে ৩৫০০ কোটি টাকারও বেশি, সাথে অগণিত সোনা-রূপোর গয়না৷
দুর্নীতির তদন্তের জন্য গঠিত SIT-র প্রাথমিক রিপোর্ট থেকে জানা যায় এই বিশাল পরিমাণ প্রণামী-র একটা বিশাল অংশের কোনো হদিশ নেই। এর পাশাপাশি দানে পাওয়া রূপোর তৈরি ভূষূণ্ডির কাক-ও মন্দিরের হেফাজত থেকে গায়েব। রামচন্দ্রের মূর্তিতে প্রাণ প্রতিষ্ঠার অনুষ্ঠানের সময় জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন ৬০ কেজি রূপোর দণ্ড প্রণামী হিসেবে দান করেছিল, সেটা খুঁজে পাওয়া তো দূর অস্ত — কোনো অফিসিয়াল রেকর্ডই নেই! ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজে বিকৃতির প্রমাণও পেয়েছে SIT। SIT রিপোর্ট আরও দাবি করেছে যে এই বিপুল পরিমাণ চুরি ট্রাস্টের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মদত ছাড়া সম্ভব নয়।
২০২১ সালের ২৫ জানুয়ারি, 'বিশ্ব সিন্ধি সেবা সঙ্গম'-এর ব্যানারে ব্যবসায়ীদের একটি বড় দল অযোধ্যায় পৌঁছয়। তারা 'শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র'-এর সাধারণ সম্পাদক তথা বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (ভিএইচপি) নেতা চম্পত রাইয়ের সঙ্গে দেখা করে মন্দির নির্মাণের জন্য বড় অঙ্কের অনুদান প্রদান করেন।
সিন্ধি সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা মন্দির নির্মাণের জন্য চম্পত রাইকে ২০০টি রুপোর ইট (প্রতিটির ওজন ১ কেজি) দান করেছিলেন ৷ এই ইটগুলিতে সম্প্রদায়ের আরাধ্য দেবতা 'ঝুলেলাল'-এর প্রতিকৃতি খোদাই করা ছিল। তবে, আজ পর্যন্ত তারা মন্দির ট্রাস্টের কাছ থেকে এই রুপোর ইটগুলোর কোনও প্রমাণপত্র বা রসিদ পাননি।
২০২১ সালে অযোধ্যা সফরকারী দলের মধ্যে জুনাগড়ের এক বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কালুভাই সুখওয়ানিও ছিলেন। তিনি ইটিভি ভারত-কে বলেন, "২০২১ সালের ২৫ জানুয়ারি, আমরা চম্পত রাইয়ের সঙ্গে দেখা করি এবং তাঁকে ২০০টি রুপোর ইট হস্তান্তর করি। তিনি বলেছিলেন পর এর রসিদ পাঠাবেন। কিন্তু ২৬ জানুয়ারি, ২০২১ থেকে ২৭ জুন, ২০২৬ পর্যন্ত কোনও প্রমাণপত্র বা রসিদ দেওয়া হয়নি। বিষয়টি দাতাদের মধ্যে যথেষ্ট ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।"
৭ই জুন এই ঘটনা প্রথম প্রকাশ্যে আনেন সমাজবাদী পার্টির নেতা প্রাক্তন বিধায়ক পবন পান্ডে। তিনি অভিযোগ করেন, অনুদানের ৭ - ৭.২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে ৷ এই বিতর্কে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয় ৷ পরে এসপি প্রধান অখিলেশ যাদব বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন ৷
এরপরই ৮ই জুন উত্তরপ্রদেশের উপ-মুখ্যমন্ত্রী সম্পূর্ণ বিষয়টিকে ‘ভুয়ো খবর’ বলে উড়িয়ে দিয়ে বলেন, “যারা শ্রী রাম মন্দির নিয়ে গুজব রটানোর চেষ্টা করছে, তারা একটি মিথ্যা আখ্যান তৈরির কাজ করছে। রাজ্যের মানুষ এই ধরনের রাজনীতি বোঝেন।”এরপর ঐ একই দিনে ‘রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট’-এর সাধারণ সম্পাদক ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সহ-সভাপতি চম্পৎ রাই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টে সময়ে সময়ে অভ্যন্তরীণ অডিট করা হয়। এই কার্যক্রমে ট্রাস্ট এবং স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার প্রতিনিধিরা জড়িত থাকেন। অডিটের প্রক্রিয়াটি বেশ কয়েক দিন ধরে চলে। আজকের দিনেও একই কাজ করা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কিছু সামনে আসেনি।” এর প্রতিক্রিয়ায় বিজেপি সাংসদ দীনেশ শর্মা বলেন, “শুধু ভগবান রাম এবং তাঁর সম্পর্কিত বিষয়গুলো নিয়েই কেন ভুল ধারণা তৈরি হয়? আমি বিশ্বাস করি যে শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের ট্রাস্টি চম্পৎ রাইয়ের বিবৃতিতে বিষয়টি ইতিমধ্যেই পরিষ্কার হয়ে গেছে। তথ্য যাচাই না করে মানুষের এমন অভিযোগ করা থেকে বিরত থাকা উচিত যা একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মানহানি করতে পারে। সত্য না জেনে কোনো ধর্মস্থান নিয়ে কারও অভিযোগ করা উচিত নয়।...” অর্থাৎ, সামগ্রিকভাবে বিজেপি-আরএসএস-বিশ্ব হিন্দু পরিষদ সর্বতোভাবে চেষ্টা করে যায় এই দুর্নীতিকে ধামাচাপা দিতে। বলাই বাহুল্য, এর পূর্বেও ট্রাস্ট ও ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে চম্পৎ রাইয়ের নাম দুর্নীতিতে জড়িয়েছে। ২০২১ সালের জুন মাসে অযোধ্যায় কেনা এক খণ্ড জমি নিয়ে ট্রাস্ট প্রশ্নের মুখে পড়ে। অভিযোগ ওঠে, এক ব্যক্তি ২ কোটি টাকায় যে জমিটি কিনেছিলেন, লেনদেনের মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই ট্রাস্ট তা ১৮.৫ কোটি টাকায় কিনে নেয়। পুরো চুক্তিটি নিয়েই তখন তদন্তের দাবি ওঠে। তবে চম্পৎ রাই তখনও এবারকার মতোই পুরো অভিযোগটি খারিজ করে দেন।
৭ই জুন সমাজবাদী পার্টির পবন পান্ডের অভিযোগে এই দুর্নীতি প্রথম সামনে আসলেও SIT গঠন করতে সরকারের ১৩ই জুন পর্যন্ত সময় লেগে যায়। এমনকি এই ব্যাপক দুর্নীতির প্রথম FIR-ই হয় জনরোষের চাপে ২৩শে জুন SIT প্রাথমিক রিপোর্ট দেওয়ার পর এবং তার দুদিন পর ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়, যাদের মধ্যে ৬ জনই মন্দিরের কর্মচারী। SIT গঠন করতে এত সময় লাগলো কেন, এই ব্যাপক দুর্নীতির FIR করতেই বা এত দিন সময় লাগলো কেন — এই নিয়ে প্রশ্ন উঠতে বাধ্য। যারা গ্রেপ্তার হয়েছে,
অভিযুক্তরা, রামশঙ্কর যাদব ওরফে টিন্নু, অনুকল্প মিশ্র, অবিনাশ শুল্কা, করুণেশ পাণ্ডে, মনীষ যাদব, লবকুশ মিশ্র, রাম শঙ্কর মিশ্র এবং সুভাষ শ্রীবাস্তব ৷ সরকারি সূত্রে খবর, অভিযুক্তরা সবাই মন্দিরে জমা পড়া অনুদানের নগদ অর্থ গোনার কাজে যুক্ত ছিল ৷ পাশাপাশি অনুদানে দেওয়া মূল্য়বান সামগ্রীও তারা গ্রহণ করত ৷
এদের মধ্যে অন্যতম নাম রাম শঙ্কর যাদব, ওরফে টিন্নু যাদব — চম্পৎ রাইয়ের প্রাক্তন ড্রাইভার। অথচ, ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পৎ রাইকে গ্রেপ্তার করা তো দূর, তার গায়ে একটি আঁচরও পরেনি। জনরোষের চাপে ইতিমধ্যে চম্পৎ রাই
ও অছি পরিষদের সদস্য অনিল মিশ্র পদত্যাগ করেন ৷ এনিয়ে ধন্দ চলছিল ৷ শেষ পর্যন্ত ট্রাস্টের তরফে কোষাধ্যক্ষ গোবিন্দ দেব গিরি একটি বিবৃতিতে জানান, দু'টি ইস্তফাপত্র গ্রহণ করা হয়েছে ৷ এই বিষয়ে পরবর্তী বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে ৷
পদত্যাগ করতে বাধ্য হলেও SIT-র ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। চম্পৎ রাই-এর মতো রাঘব বোয়ালদের আড়াল করাই কি এই SIT-র কাজ? প্রশ্ন উঠছেই।
SIT-র নথি অনুযায়ী মন্দির চত্বর নিরাপত্তার খাতে অর্থ বরাদ্দ করা হয় দশ কোটি টাকা। তারপরও এতো সিসিটিভি, এতো নিরাপত্তার বেষ্টনীকে ভেদ করে চুরি হয়ে গেল ব্যাপক সম্পদ। এর দায় কার?
তদন্তে আরও এক বিস্ফোরক তথ্য সামনে এনেছে সিট। রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, গোটা মন্দিরের রক্ষণাবেক্ষণ ও দান সংগ্রহের সিস্টেমে যে চরম অব্যবস্থা তৈরি হয়েছিল, তার ভেতরে সরাসরি জড়িয়ে রয়েছেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (VHP)-এর একাংশ কর্মী ও নেতা। অর্থাৎ, ঘরের লোকেরাই এই দুর্নীতির পথ প্রশস্ত করেছে।
ধৃতদের বিরুদ্ধে নবগঠিত ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’ (BNS)-র ৩০৬, ৩১৬(৫), ৩১৭(৪), ৩১৭(৫), ৬১ এবং ৩(৫) ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিশ্বাসভঙ্গ, প্রতারণা এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। এই কেলেঙ্কারির আঁচ এসে পড়েছে খোদ রাম জন্মভূমি ট্রাস্টের শীর্ষ নেতৃত্বেও। ট্রাস্টের প্রধান চম্পত রাইয়ের ভূমিকাও এখন গভীর কাঠগড়ায়।
তদন্তকারীদের দাবি, টাকা গোনার সময় ইচ্ছে করে সিসিটিভি ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে যেত। সেই সুযোগে অন্য একজন নগদের বান্ডিল থেকে টাকা সরিয়ে নিজের পোশাকের ভিতরে লুকিয়ে ফেলত। তবে এটাই ছিল না একমাত্র পদ্ধতি। আরও একটি বড় কারচুপির হদিস মিলেছে। অভিযোগ, নগদের বান্ডিল তৈরির সময় ইচ্ছাকৃত ভাবে অতিরিক্ত নোট ঢুকিয়ে রাখা হত। পরে হিসেবের সময় শুধু বান্ডিলের সংখ্যা গোনা হত, প্রতিটি বান্ডিলে কত নোট রয়েছে তা খতিয়ে দেখা হত না। সেই হিসেব অনুযায়ী ভাউচার তৈরি হয়ে যেত। পরে ব্যাঙ্কে টাকা নিয়ে যাওয়ার সময় অতিরিক্ত নোটগুলি সরিয়ে ফেলা হত। ফলে কাগজে-কলমে হিসাব মিললেও আসলে টাকা উধাও হয়ে যেত।
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, চুরি করা টাকা প্রথমে মন্দির চত্বরে শৌচাগারের ভিতরে লুকিয়ে রাখা হত। পরে সুযোগ বুঝে তা বাইরে পাচার করা হত। তারপর আলাদা জায়গায় গিয়ে সেই টাকা ভাগ করে নেওয়া হত অভিযুক্তদের মধ্যে। এসআইটি সূত্রের দাবি, ২০২৪ সালে মন্দির খোলার পর থেকেই এই চক্র সক্রিয় ছিল। অন্তর্বর্তী রিপোর্টে বলা হয়েছে, এ বছরের ২৭ এপ্রিল থেকে ৫ জুনের মধ্যে অন্তত ৭০টি চুরির ঘটনা সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়েছে।
অযোধ্যায় যেই অঞ্চলে রাম মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সমীক্ষা থেকে জানা যায়, সেই এলাকা জুড়ে ২২০০ দোকান, ৮০০ বাড়ি ভেঙে এই মন্দির তৈরি করা হয়েছে। উচ্ছেদ হওয়া দোকানদার বা বাসিন্দারা কোনো রকম ক্ষতিপূরণই পাননি। হিন্দু ধর্মের মর্যাদা রক্ষা করার বক্তব্য দিয়ে, রামরাজ্য প্রতিষ্ঠা করার বাণী দিয়ে, গরিব হিন্দুদের দোকান-বাড়ির ধ্বংসস্তুপের ওপর, ভ্রাতৃঘাতী দাঙ্গায় প্রাণ হারানো হাজার হাজার দেশবাসীর শবদেহের ওপর আঠারো হাজার কোটি টাকায় রামলালা-র মন্দির প্রতিষ্ঠা করে, তার আড়ালে আজ চলছে দুর্নীতির কারবার। বিজেপি-আরএসএস-এর নেতৃত্বে এই রাম মন্দির তৈরির জন্য যে আন্দোলন দেশজুড়ে তৈরি হয়েছিলো, যার ফলে সৃষ্ট ব্যাপক সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় হাজার হাজার মানুষের মৃত্য হয়, সেই আন্দোলনের চরিত্র ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিজেপি-র সর্বভারতীয় নেত্রী তথা প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ ২০০০ সালের ১৪ই এপ্রিল বলেছিলেন, “চারিত্রিক দিক থেকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক, এর সাথে ধর্মের কোনো সম্পর্ক ছিল না”। ১৯৮৯ সালের ১১ই জুন বিজেপি-র পালমপুর সেশনে বাবরি মসজিদ সংক্রান্ত প্রস্তাব পাশ হওয়ার পরেই তৎকালীন বিজেপি-র প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী তথা পরবর্তীতে দেশের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও বিজেপি-র সর্বভারতীয় সভাপতি লাল কৃষ্ণ আদবানি বলেছিলেন, “আমি নিশ্চিত এর ফল ভোটে প্রতিফলিত হবে।” পরবর্তীতে ১৯৯১ সালের ১৮ই জুন তিনি আরও বলেছিলেন, “আমি যদি রাম ফ্যাক্টরটিকে ভাল মতো কাজে লাগাতে না পারতাম, আমি নিশ্চিতভাবেই নয়া দিল্লি নির্বাচনী কেন্দ্রে পরাজিত হতাম।” অর্থাৎ, বিজেপি-র সর্বভারতীয় নেতৃত্বের বারংবার কথিত বক্তব্যেই পরিষ্কার রাম মন্দিরকে তারা কোনো ধর্মীয় ইস্যু হিসেবে মনেই করেননি, এটা নির্বাচনে জেতার জন্য তাদের একটা রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিলো। আর বলাই বাহুল্য, ভারতবর্ষের মূল ধারার রাজনীতি ও দুর্নীতি প্রায় সমার্থক। ধর্মপ্রেমী হিন্দুদের ধর্মীয় বিশ্বাসকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে রাজনীতির মঞ্চে ধর্মকে ব্যবহার করে সম্পদের পাহাড় গড়ছেন রাজনৈতিক নেতারা। বিজেপি-র নেতৃত্বদের বক্তব্যেই পরিষ্কার, রাম মন্দির তাদের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সিঁড়ি ছাড়া অন্য কিছুই নয়।
We hate spam as much as you do