নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রায় দেড় মাস আগে যন্তর মন্তরে শুরু হয়েছিল আন্দোলন। সেই প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়েছে দেশ জুড়ে। শনিবার সমাজমাধ্যমে এক পোস্ট করে তাঁর পদত্যাগের কথা জানান কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। শুক্রবারই এই দাবিতে কলকাতায় প্রতিবাদ মিছিল হয়েছে। মিছিল শেষে পুলিশের বিরুদ্ধে উঠেছে লাঠি চালানোর অভিযোগ। পাল্টা বিশৃঙ্খলা তৈরির অভিযোগ উঠেছে আন্দোলনকারীদের একাংশের বিরুদ্ধে। অভিযোগ উঠেছে সাংবাদিক নিগ্রহের। এর প্রেক্ষিতে কী ভাবছে কলকাতা?
আন্দোলনের চাপে পদত্যাগ কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর!
২৫ জুলাই ২০২৬
দেশজোড়া আন্দোলনের চাপে পদত্যাগ করলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। আর তার পরই নতুন করে উঠতে শুরু করেছে টেট প্রসঙ্গ। ২০২৫-এ সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল প্রাথমিক-উচ্চপ্রাথমিক স্তরের সব শিক্ষককে টেট উত্তীর্ণ হতেই হবে। এর ফলে প্রভাবিত হবেন গোটা দেশের প্রায় ২০ লক্ষ শিক্ষক। সম্প্রতি বিধানসভা ভোটের আগে পশ্চিমবঙ্গে এসে ধর্মেন্দ্র প্রধান এ বিষয়ে পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছিলেন বলে দাবি শিক্ষকদের একাংশের। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের আড়াই মাস পরও কেন্দ্রের তরফে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার পর সে প্রসঙ্গ তুলে আনছেন এ রাজ্যের শিক্ষকদের একাংশ। যদিও, প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের দায় নিয়ে তাঁর পদত্যাগের সিদ্ধান্তকে কুর্নিশও জানিয়েছেন বহু শিক্ষক।
এ দিকে, নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রায় দেড় মাস আগে যন্তর মন্তরে শুরু হয়েছিল আন্দোলন। সেই প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়েছে দেশ জুড়ে। শনিবার সমাজমাধ্যমে এক পোস্ট করে তাঁর পদত্যাগের কথা জানান কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। শুক্রবারই এই দাবিতে কলকাতায় প্রতিবাদ মিছিল হয়েছে। মিছিল শেষে পুলিশের বিরুদ্ধে উঠেছে লাঠি চালানোর অভিযোগ। পাল্টা বিশৃঙ্খলা তৈরির অভিযোগ উঠেছে আন্দোলনকারীদের একাংশের বিরুদ্ধে। অভিযোগ উঠেছে সাংবাদিক নিগ্রহের। এর প্রেক্ষিতে কী ভাবছে কলকাতা?
ছাত্রসংগঠন ডিএসও-র রাজ্য সম্পাদক বিশ্বজিৎ রায় বলেন, “এই জয় দেশ জুড়ে ছাত্র-যুব আন্দোলনের ঐতিহাসিক জয়। আগেই ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ করা উচিত ছিল। অবশেষে ঐতিহাসিক শক্তিশালী আন্দোলনের চাপে মাথা নত করেছে।” যদিও তাঁর দাবি, এনটিও এবং জাতীয় শিক্ষানীতি বাতিলের দাবিতে এবং দেশ জুড়ে ছাত্র আন্দোলনের উপর মিথ্যে মামলা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে। এসএফআই-এর রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে বলেন, ‘‘গোটা দেশে যখনই কোনও ঘটনায় ছাত্ররা একত্রিত হয়ে পথে নেমেছে, তখনই বিজেপি আরএসএস-এর মতো সরকারকে মাথা নিচু করতে হয়েছে।’’
মাধ্যমিক শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সম্পাদক অনিমেষ হালদার বলেন, ‘‘আবারও প্রমাণিত হল একমাত্র ঐক্যবদ্ধ ধারাবাহিক প্রতিবাদ আন্দোলনই পারে সঠিক পথ দেখাতে। দেশে দুর্নীতিমুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থার প্রবর্তন করতে ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করুক এই ছাত্র ও যুবসমাজ।’’
বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, ‘‘ব্যর্থ শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করার গোটা দেশ খুশি।” তবে স্বপনের কথায় উঠে আসে প্রাথমিক-উচ্চপ্রাথমিক শিক্ষকদের টেট প্রসঙ্গও। তিনি বলেন, “বিধানসভা ভোটের আগে শিক্ষকদের বাধ্যতামূলক টেট নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, বিষয়টি পদক্ষেপ করা হবে। কিন্তু কথার খেলাপ করলেন। ধিক্কার জানানোর ভাষা নেই। এর পর যিনি শিক্ষামন্ত্রী হবেন, আশা করি তিনি প্রাক্তনের কৃতকর্ম থেকে শিক্ষা নেবেন।”
ইস্তফা ধর্মেন্দ্র প্রধানের, ‘ককরোচ’ আন্দোলনের চাপে আর কী কী পদক্ষেপ করছে কেন্দ্র সরকার?
নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ধ্রুবশেখর মণ্ডল বলেন, ‘‘এই জয় সকলের। বাধ্যতামূলক টেট নিয়েও ধর্মেন্দ্র প্রধান নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু সেগুলি নিয়ে তিনি আর কোনও উচ্চবাচ্য করেননি। আশা করব, পরবর্তী শিক্ষামন্ত্রী দেশের লক্ষ লক্ষ শিক্ষকের ভবিষ্যৎ নিয়েও ভাববেন।’’
অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘের সম্পাদক বাপি প্রামাণিক বলেন, “ধর্মেন্দ্র প্রধান যে পদত্যাগ করেছেন এটা সম্পূর্ণ তাঁর নীতিগত এবং ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। এই বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারি না। তবে নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা যেমন অতি দুর্ভাগ্যজনক, তেমনই এ রকম একটি গুরুতর বিষয়কে সামনে রেখে ছাত্রযুবকে দেশবিরোধী স্লোগান দিতে উস্কানি দেওয়ার ঘটনাও অনভিপ্রেত।’’ তিনি জানান, কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যেই নানা ব্যবস্থা নিয়েছে। দোষীদের অবশ্যই শাস্তি প্রয়োজন।
পশ্চিমবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী সঙ্ঘের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক সুশান্ত মজুমদার বলেন, “নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে তাঁর দায়ভার না থাকলেও সরকারের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য এবং নৈতিকতার দায়ে পদত্যাগ করেছেন। এই সিদ্ধান্তকে কুর্নিশ জানাই। যদিও তাঁর মতো যোগ্য মন্ত্রীর পদত্যাগে আমরা দুঃখিত।”
We hate spam as much as you do