এমন পরিস্থিতিতেই শীতলকুচিতে মৃত সিপিআইএম কর্মীর বাড়ি যান দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মীনাক্ষী। আর তাঁদের সঙ্গে দেখা করে ফেরার পথেই তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। ডিমের আঘাতে গাড়ির সামনের কাচ পুরো আবছা হয়ে যায়। তখনই গাড়ি দাঁড় করিয়ে দিতে বলেন মীনাক্ষী। নিজেই হামলার ভিডিও করতে শুরু করেন।
খুন হওয়া সিপিএম কর্মীর বাড়িতে যাওয়ায় পথে মীনাক্ষীর গাড়িতে ডিম ছোঁড়া হল অভিযোগ বিজেপির দিকে
7 July 2026
রাজ্যে বিরোধী নেতাদের ঘিরে ‘ডিম থেরাপি’ বিতর্কের আবহে এবার কোচবিহারের শীতলখুচিতে ডিম আক্রমণের মুখে পড়লেন সিপিআইএম নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। মঙ্গলবার সকালে শীতলখুচি থানার সামনে তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে পরপর ডিম ছোড়া হয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। হামলার পর গাড়ি থেকেই ভিডিও রেকর্ড করে পুলিশের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তোলেন মীনাক্ষী। তাঁর প্রশ্ন, রাস্তায় চলাফেরা করাও কি আর নিরাপদ নয়? অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেফতার করা হোক।
মঙ্গলবার সিপিআইএম কর্মী মন্টু মিঞার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে শীতলখুচিতে গিয়েছিলেন মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। কয়েক দিন আগে ওই এলাকায় মন্টু মিঞার দেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের দাবি, তাঁকে খুন করা হয়েছে। মৃতের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ সেরে ফেরার সময়ই হামলার অভিযোগ ওঠে। মীনাক্ষীর সঙ্গে ছিলেন সিপিআইএমের কোচবিহার জেলা সম্পাদক অনন্ত রায় এবং স্থানীয় নেতা অলোকেশ দাস।
কেন শিতলকুচিতে মীনাক্ষী?
আসলে শিতলকুচি ব্লকের সিংহমারি গ্রামের বাসিন্দা মন্টু মিঞা গত শনিবার বিকেল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। আর রবিবার উদ্ধার হয় তাঁর নিথর দেহ। তাঁর মৃতদেহ খুটামারি নদীর ধারে দেখতে পাওয়া যায়। তারপরই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, মন্ট গরু কেনাবেচা করতেন। তাই গোরক্ষক বাহিনী তাঁকে পিটিয়ে খুন করেছে। এই খবর সামনে আসার পর থেকেই সরব বঙ্গ সিপিআইএম। তারা এই হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। শুধু তাই নয়, এই হত্যার বিচারও তারা প্রশাসনের থেকে চেয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতেই শীতলকুচিতে মৃত সিপিআইএম কর্মীর বাড়ি যান দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মীনাক্ষী। আর তাঁদের সঙ্গে দেখা করে ফেরার পথেই তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। ডিমের আঘাতে গাড়ির সামনের কাচ পুরো আবছা হয়ে যায়। তখনই গাড়ি দাঁড় করিয়ে দিতে বলেন মীনাক্ষী। নিজেই হামলার ভিডিও করতে শুরু করেন।
সিপিআইএমের অভিযোগ, শীতলখুচি থানার সামনেই এই ঘটনা ঘটেছে এবং হামলার নেপথ্যে বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা রয়েছেন। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে বিজেপির তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে ডিম ছোড়ার একাধিক ঘটনা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর ডিম নিক্ষেপের ঘটনার পর বিভিন্ন জেলায় বিরোধী নেতাদের ঘিরেও একই ধরনের বিক্ষোভ ও হামলার অভিযোগ ওঠে। সেই প্রেক্ষাপটে কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়।
আইনজীবী দানিস ফারুক ওই মামলায় দাবি করেন, নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাদের উপর হামলা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক কার্যালয়ে ভাঙচুরের একাধিক ঘটনা ঘটেছে, যা গণতান্ত্রিক পরিবেশের পরিপন্থী। ডিম ছোড়ার ঘটনাগুলিও উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করা হয়।
এই ধরনের হামলা নিয়ে এর আগেও সরব হন মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ ছিল, প্রকাশ্যে ডিম ছোড়ার ঘটনা ঘটলেও পুলিশ কার্যত নীরব দর্শকের ভূমিকা নিয়েছে। অথচ রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উল্টে সিপিআইএম কর্মীদের বিরুদ্ধেই এফআইআর দায়ের হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কোন আইনে ডিম নিক্ষেপকে বৈধতা দেওয়া হয়েছে। শীতলখুচির নতুন ঘটনা সেই বিতর্ককে আরও উস্কে দিল।
We hate spam as much as you do