Tranding

05:54 AM - 14 Jul 2026

Home / National / তামিলনাড়ু সুপ্রিম কোর্টে গরু জবাই এর অনুমতি, থালাপতি সরকারের জয়

তামিলনাড়ু সুপ্রিম কোর্টে গরু জবাই এর অনুমতি, থালাপতি সরকারের জয়

সোমবার (১৩ জুলাই) ভারতের সুপ্রিম কোর্ট আলোচিত এ মামলার শুনানি শেষে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞার ওপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ জারি করেন। একই সঙ্গে আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, মাদ্রাজ হাইকোর্টের নির্দেশের আইনি ভিত্তি পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে।

তামিলনাড়ু সুপ্রিম কোর্টে গরু জবাই এর অনুমতি, থালাপতি সরকারের জয়

তামিলনাড়ু সুপ্রিম কোর্টে গরু জবাই এর অনুমতি, থালাপতি সরকারের জয়


১৩ জুলাই ২০২৬


তামিলনাড়ুতে গরু জবাই নিষিদ্ধ করে মাদ্রাজ হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশের ওপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। এই আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছিল থালাপতি বিজয়ের নেতৃত্বাধীন তামিলনাড়ু সরকার। সর্বোচ্চ আদালতের এই সিদ্ধান্তকে মামলার প্রাথমিক পর্যায়ে রাজ্য সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) ভারতের সুপ্রিম কোর্ট আলোচিত এ মামলার শুনানি শেষে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞার ওপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ জারি করেন। একই সঙ্গে আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, মাদ্রাজ হাইকোর্টের নির্দেশের আইনি ভিত্তি পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে।

 

সুপ্রিম কোর্টের এই আদেশকে তামিলনাড়ুর সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় স্বাধীনতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এর আগে, গত ২৭ মে মাদ্রাজ হাইকোর্টের বিচারপতি জি. আর. স্বামীনাথন ও বিচারপতি ভি. লক্ষ্মীনারায়ণের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ ১৯৭৬ সালের আগস্ট মাসে জারি হওয়া একটি সরকারি আদেশ কার্যকর করার নির্দেশ দেন।

সেই নির্দেশ অনুযায়ী, ঈদুল আজহাসহ বছরের যেকোনো সময় তামিলনাড়ুতে গরু জবাইয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা বলা হয়।

এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে তামিলনাড়ু সরকার যুক্তি দেয়, দেশের প্রচলিত আইন ও সংবিধিবদ্ধ বিধানে নির্ধারিত শর্তসাপেক্ষে নির্দিষ্ট শ্রেণির গবাদিপশু জবাইয়ের অনুমতি রয়েছে। সে ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো বিচারিক নির্দেশ টেকসই হতে পারে না।

হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়েছিল, দুগ্ধ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনীতির স্বার্থে ১৯৭৬ সালের সরকারি আদেশ বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।

বিচারপতি জি. আর. স্বামীনাথন রায়ে ভারতীয় সংবিধানের ৪৮ নম্বর অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে বলেন, রাজ্যের দায়িত্ব গরু, বাছুর এবং অন্যান্য দুগ্ধ ও মালবাহী গবাদিপশু জবাই রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া।

তিনি গণপরিষদের বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে গরুর ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বের বিষয়টিও তুলে ধরেন।

অন্যদিকে, মুসলিম সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরে ঈদুল আজহায় স্থানীয় আইন মেনে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী কোরবানি দিয়ে আসছে। একইভাবে তামিলনাড়ুর কয়েকটি হিন্দু মন্দিরেও বার্ষিক ধর্মীয় উৎসবে পশু বলিদানের প্রচলন রয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে মুসলিম ও বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নেতারা বলেন, কোরবানি বা ধর্মীয় উৎসর্গের মতো কার্যক্রমকে শুধু লাইসেন্সপ্রাপ্ত সরকারি কসাইখানার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা বাস্তবসম্মত নয়।

তাদের মতে, উৎসবের সময় বিপুল সংখ্যক পশু জবাইয়ের চাপ সামাল দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত অবকাঠামো এসব কসাইখানায় নেই।

তামিলনাড়ু সরকার আদালতে আরও জানায়, রাজ্যের পশু সংরক্ষণ আইন এবং কসাইখানা পরিচালনা-সংক্রান্ত বিদ্যমান বিধিমালায় কোথায় এবং কী শর্তে পশু জবাই করা যাবে, তা স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা আছে। তবে এসব আইনে রাজ্যজুড়ে গরু জবাইয়ের ওপর কোনো সর্বাত্মক নিষেধাজ্ঞার বিধান নেই।

Your Opinion

We hate spam as much as you do